৩ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭ , ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Somoyer Narayanganj
organic sweets
Laisfita

বুকের পাটা থাকলে ৪৯৪ সংগঠনের বিরুদ্ধে লেখেন : পলাশ


২৭ মার্চ ২০১৬ রবিবার, ১০:০৮  পিএম

নিউজ নারায়ণগঞ্জ


বুকের পাটা থাকলে ৪৯৪ সংগঠনের বিরুদ্ধে লেখেন : পলাশ

জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়ক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ বলেছেন, ৪৯৪ নামের একটি সংগঠন রয়েছে যা আমাদের জন্য বিষফোড়া। ওই সংগঠনটির ঢাকার বাহিরে কোন কার্যক্রমের অনুমতি নেই। এ বিষয়ে হাইকোর্টেরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশী প্রভাব তাদেরই। আমি চ্যালেঞ্জ করে ঘোষণা দিয়ে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহবান জানান। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেক বলেন হলুদ সাংবাদিক। কিন্তু আমি বলি রেড সাংবাদিক বন্ধুরা আপনারা আমাদেরকে নিয়ে লিখেন আমরা নাকি অটোরিকশায় কোটি টাকার চাঁদাবাজি করি। কিন্তু আমি বলতে চাই অটোরিকশা থেকে যারা চাঁদা তোলে তারা এমনি এমনি চাঁদা তোলে না। একটা সময় যানজটের অজুহাতে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তখন অটোরিকশা মালিক শ্রমিকরা আন্ডারটেকিং দিয়েছিল যে তাদের জন্য কোন যানজট হবেনা। যানজট নিরসনের জন্য বিভিন্ন স্থানে ভলান্টিয়ার (সেচ্ছাসেবক) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া চাঁদার টাকা থেকে গেল ২ বছরে যতোজন ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ও আহত হয়েছে তাদের পরিবারকে ৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে এ বিষয়ে ডকুমেন্টও রয়েছে। যার মধ্যে একজনের পরিবারকে এমপি শামীম ওসমান ও আরেকজনের পরিবারকে জেলা প্রশাসক অনুদানের অর্থ তুলে দিয়েছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি রেড সাংবাদিক বন্ধুদের যদি বুকের পাটা থাকে তাহলে ৪৯৪ সংগঠনের বিরুদ্ধে লিখেন। আমি জানি আপনারা লিখতে পারবেন না। অনেকেই আজকে অটোরিকশা বন্ধ করে দিতে চান। কিন্তু শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হলে আমরাও ঘরে বসে থাকবো না। দাত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। রক্ত দিয়ে হলেও নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকরা লড়াই করতে করতে অধিকার আদায় করতে জানে।
 
রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শ্রমিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য এসকল কথা বলেন কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোটের (৭৪ সংগঠন) উদ্যোগে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যজোটের সমন্বয়ক আবুল খায়ের খাজা, গোলাম কাদির, ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ন কবির, জাহাঙ্গীর আলম, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স জেলা কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন রাজু, ফতুল্লা আঞ্চলিক ট্রাক চালক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।

সমাবেশে কাউসার আহাম্মেদ পলাশ আরো জানান, আজকে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের শ্রমিকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন জুলুম চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের মালিক বানালেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিলটি দখল করে নেয়ার চক্রান্ত করছে। তারা শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ছাড়াও তাদের বসতবাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ অবৈধভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে।

পলাশ আরো বলেন, একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেও তখন দেশের পুঁজিপতি শিল্পপতিরা যুদ্ধে যোগ দেয়নি। সেদিন কৃষক শ্রমিকরা জীবন দিয়েছিল বলেই আজকে বাংলার ছেলো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সচিব বিচারপতিসহ দেশ চালাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু বিদেশেও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন। যেকারণে তার বিরুদ্ধে বিদেশীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তাদের সে ষড়যন্ত্র সফল হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু নিহতের পর শ্রমিকরা দীর্ঘদিন তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেননি। তাদেরকে নির্যাতন গুলি বোমার আঘাতের শিকার হতে হয়েছিল। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ছিলনা বলে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বিসিক শিল্পনগরীতে শ্রমিকদের উপর গুলি করা হয়েছিল। বর্তমানে গার্মেন্ট মালিকরা বড় বড় বুলি ছাড়ে তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম গার্মেন্ট সেক্টরে শ্রমিকদের মজুরী ছাড়া বাকি সব টাকা বিদেশে চলে যায়। কারণ তুলা, সুতা, নিডেলসহ সব সামগ্রীই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। শ্রমিকদের মজুরী দুই দফা বৃদ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিকেএমইএ’র সভাপতি এমপি সেলিম ওসমানকে সাধুবাদ জানান কাউসার আহাম্মেদ পলাশ।

তিনি র‌্যাডিকেল মালিকপক্ষকে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, র‌্যাডিকেলের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার না দিলে নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবেন না। আপনাদের বাড়ির ইট খুলে আনা হবে। তিনি বিকেএমইএকে বিভিন্ন গার্মেন্টের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি শ্রমিকদের ভাঙচুর নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের আহবান জানান।

ট্রাক মালিক ও চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন, হাইওয়েতে জরিমানার নামে জুলুম বন্ধ করতে হবে। ট্রাক টার্মিনাল না করে রাস্তা থেকে চালকদের উচ্ছেদ করা চলবে না। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এর মধ্যে ট্রাক চালকদের কোন ধরনের হয়রানি করা হলে আমাদের জানাবেন।


নিউজ নারায়াণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

Shirt Piece
অর্থনীতি -এর সর্বশেষ