৩ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭ , ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Somoyer Narayanganj
organic sweets
Laisfita

সাখাওয়াতকে খোকন সাহার হত্যার হুমকি প্রমাণিত হয়নি


২৮ মার্চ ২০১৬ সোমবার, ০৯:৪৫  পিএম

নিউজ নারায়ণগঞ্জ


সাখাওয়াতকে খোকন সাহার হত্যার হুমকি প্রমাণিত হয়নি

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার একটি মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আসামী নূর হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে আইনজীবী সমিতিতে যে অভিযোগ দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আইনজীবী সমিতি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে কোথাও গুলি করে হত্যার হুমকি বা সাত খুন মামলা থেকে সরিয়ে দেয়া কিংবা নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবে না এমন অভিযোগের কোন প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। সোমবার এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয় গত ২৩ মার্চ আইনজীবী সমিতি কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠনের পর ২৪ মার্চ বাদী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও বিবাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহার শুনানীর দিন ধার্য করা হয়। ২৩ মার্চ দুজনের জন্য নোটিশ তৈরি করে বাদীকে খোঁজাখুজি করে না পেলে মোবাইলে নোটিশ গ্রহণের কথা জানানো হয়। বিবাদীর নোটিশ প্রদান করা হয়। পরের দিন ২৪ মার্চ বাদী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নোটিশ গ্রহনের জন্য অনুরোধ করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রাজিয়া আমিন কানচি ওইদিন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট হেলাল, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব শাহিনের সামনেই নোটিশ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি গ্রহন করেননি।

পরে ২৪ মার্চ দুপুরে নোটিশে উল্লেখিত স্থানে বিবাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহার জবানবন্দি গ্রহন করেন। তবে বাদী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান উপস্থিত হননি। ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অ্যাডভোকেট মাহামুদা মালা, অ্যাডভোকেট হান্নান আহম্মেদ দুলাল, অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া, অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিম উপস্থিত হন। তবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া ও অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিম ছাড়া বাকীরা অ্যাডভোকেট খোকন সাহার জুনিয়র হওয়ার কারণে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।
                              
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ্য করা হয়, কমিটিতে সাক্ষ্য প্রদান করেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। সাক্ষ্য ও জেরায় তিনি জানান, ওই দিন সকাল সোয়া ১০টায় সোনারগাঁও ঘ অঞ্চল আদালতে গেলে খোকন সাহা, মাহামুদা মালা, হান্নান আহম্মেদ দুলাল, মোস্তফা করিম ও মহসিন মিয়াকে দেখি। তখন সাখাওয়াত হোসেন খান এজলাসে প্রবেশ করে আমার ডান পাশের টেবিলে বসেন। এরপর সাখাওয়াত হোসেন খোকন সাহাকে ডেকে তার পাশে বসতে বললে খোকন সাহা বলেন যে, ভাই আপনার পাশে বসলে বিপদ, সাখাওয়াত বলেন কিসের বিপদ? উত্তরে খোকন সাহা বলেন, আপনি প্রথম আলো পত্রিকায় ভুল বিবৃতি দিয়েছেন এ ধরনের কোন কাজ কি আমি করেছিলাম? উত্তরে সাখাওয়াত বলেন আপনারা তো সবই পারেন। আমাকে মেরে ফেলেন অথবা লোক দিয়ে খুন করে ফালান। খোকন সাহা বলেন, আমি কি খুনি নাকি আপনাকে মারব? বাজে কথা কেন বলেন? তখন হান্নান আহম্মেদ দুলাল, আমি ও অন্যান্য আইনজীবীরা তাদেরকে শান্ত করি। খোকন সাহা, সাখাওয়াত হোসেন খানকে গুলি করে মেরে ফেলবো কিংবা লোক দিয়ে খুন করার বা ৭ খুনের মামলায় থাকতে পারবি না ইত্যাদি ধরনের কোন কথা বলেন নাই।

এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অ্যাডভোকেট মোস্তফা করিম তদন্ত কমিটিতে জানান, ঘটনার দিন ও সময়ে সাখাওয়াত হোসেন খান ও খোকন সাহার সাথে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিযে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাখাওযাত হোসেন খোকন সাহাকে বলেন, আপনারা তো সবই পারেন, আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে মেরে ফেলতে পারেন অথবা লোক দিয়ে খুন করাতে পারেন। তখন খোকন সাহা বলেন, আমি কি খুনি যে আপনাকে মারব? এর পর আমি সহ অন্যান্যরা দুজনকে শান্ত করি। খোকন সাহা সাখাওয়াত হোসেন খানকে হত্যার হুমকি বা ৭ খুন মামলায় থাকতে পারবি না অথবা তোর মত লোককে মেরে ফেললে আমার কিছুই হবে না এই ধরনের কোন কথাই বলেন নাই।

এছাড়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটি পেশকার ও পিয়নদের কাছ থেকে জানতে  পেরেছে যে, খোকন সাহা সাখাওয়াত হোসেন খানকে হত্যার হুমকি বা ৭ খুন মামলায় থাকতে পারবি না অথবা তোর মত লোককে মেরে ফেললে আমার কিছুই হবে না এই ধরনের কোন কথাই  খোকন সাহা বলেন নাই।

অন্যদিকে সাক্ষ্য প্রদান ও জেরায় অ্যাডভোকেট খোকন সাহা তদন্ত কমিটিকে জানান, গত ২১ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১০৩/১৬ এবং ১৭৪৮/১৫ নং মামলায় সাক্ষী চলছিল। তখন বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সাক্ষীদেরকে নিজে ও তার জুনিয়র সহ অন্যারা ঘেরাও করে দাড়িয়ে ছিলেন। ফলে অ্যাডভোকেট খোকন সাহার আসামীগণ সাক্ষীদের কথা শুনতে পারছিল না। উক্ত বিষয়টি খোকন সাহা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষন করলে আদালত সাক্ষীদের কথা আসামীদের শুনতে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান উক্ত বিষয়টি না মানলে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের সাথে তার তর্কাতর্কি হয়। কিন্তু বিষয়টি সাখাওয়াত হোসেন খান বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে। বিষয়টি পরের দিন ২২ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো সহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ২২ মার্চ সকাল সোয়া ১০টায় খোকন সাহা তার পেশাগত  কাজে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঘ অঞ্চল আদালতে যাওওয়ার পর মামলার নথি দেখছিলেন তখন সাখাওয়াত হোসেন খান খোকন সাহাকে তার পাশে বসতে বলেণ। উত্তরে খোকন সাহা বলেন আপনার পাশে বসা বিপদজনক। সাখাওয়াত জানতে চান কিসের বিপদ, প্রতিউত্তরে খোকন সাহা বলেন, প্রথম আলোতে আপনি যে বিপদজনক বক্তব্য দিয়েছেন যা আইনজীবী ও আদালতের জন্য বিপদজনক হয়তো একটু পরেই আপনি বলবেন আমি আপনাকে হুমকি দিয়েছি। তখন সাখাওয়াত হোসেন বলেন আপনি আমাকে লোক দিয়ে মেরে ফেলতে পারেন, প্রতিউত্তরে খোকন সাহা বলেছেন, ভাই আমি তো খুনি না। এর পরে উপস্থিত সাক্ষীগণ সহ অন্যান্য আইনজীবীগণ সাখাওয়াত ও খোকনকে শান্ত করেন। খোকন সাহা তার জবানবন্ধি ও জেরাতে আরও বলেন যে, তিনি সাখাওয়াত খানকে কোন প্রকার হত্যার হুমকি প্রদান করেননি।

তবে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেছেন, শুনানীতে বাদী সাখাওয়াত হোসেন খান অংশগ্রহন করেনি। তবে নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে সুমন মিয়া ও মোস্তফা করিমের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পেশকার ও পিয়নদের সাথেও কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয় প্রথম আলো পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন নিয়ে খোকন সাহা ও সাখাওয়াত হোসেন খানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় তর্কাতর্কি হয়। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ, খোকন সাহা তাকে দেখে ভিষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বলে বেশি বেড়ে গেছো গুলি করে তোকে  হত্যা করব। তুই নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবি না। তোর মত লোক মেরে ফেললে আমার কিছুই হবে না-এই মর্মে বক্তব্য প্রদান করেছেন এই ধরনের কথাবার্তা ও হুমকি খোকন সাহা দিয়েছেন মর্মে কোন বিষয় প্রতিয়মান হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সাখাওয়াত হোসেন খানকে মোবাইলে ফোন করে সাক্ষী দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি এবং সমনও পাঠিয়েছি। তিনি সমন গ্রহন করেননি। পরে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহন করেছি। পরে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আমি তদন্ত করে সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ প্রমান পায়নি।
           
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বার কাউন্সিলে প্রেরন করা হবে। বার কাউন্সিল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

তবে অভিযোগকারী আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তদন্ত কমিটি আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি। আর প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।


নিউজ নারায়াণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

Shirt Piece
রাজনীতি -এর সর্বশেষ