৩ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭ , ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Somoyer Narayanganj
organic sweets
Laisfita

লাঙ্গলবন্দে স্নাননোৎসবে পদদলিতে পূণ্যার্থীর মৃত্যুর এক বছর : আতংক


২৭ মার্চ ২০১৬ রবিবার, ১০:০২  পিএম

নিউজ নারায়ণগঞ্জ


লাঙ্গলবন্দে স্নাননোৎসবে পদদলিতে পূণ্যার্থীর মৃত্যুর এক বছর : আতংক

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানোৎসবে পদদলিত হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় এক বছর পূর্তি ছিল ২৭ মার্চ রোববার। গত বছরে এই দিনে বেইলী সেতু ভেঙ্গে পড়ার গুজব ছড়ালে লাঙ্গলবন্দে পূণ্যার্থীদের ভীড়ে চাপে ওই ১০ পূণ্যার্থীর মৃত্যু হয়। আগামী ১৪ এপ্রিল মহাতীর্থ স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দে নানা চলছে আয়োজনের প্রস্তুতি। তবে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া, ব্রহ্মপুত্র নদের কচুরীপানাও এখনো পরিস্কার করা হয়নি। গত বছরের আতঙ্কের কারণে এবার পুণ্যার্থীর আগমন কম হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। পূণ্যার্থীদের ভীড় হবে এই বিষয়টি সামনে রেখেই সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রতি বছর পাপ মোচনের বাসনায় স্নান করতে দেশ-বিদেশের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী লাখ লাখ পুণ্যার্থী নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভীড় জমান। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে লাঙ্গলবন্দ। গত ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সকালে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে মহাঅস্টমী পুর্ণ্য স্নাননোৎসবে বেইলী সেতু ভেঙ্গে পড়ার গুজুব ছড়ালে ভীড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ৭ নারীসহ ১০ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরো ২০ পুণ্যার্থী। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি লাঙ্গলবন্দের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ করে। সেই অনুযায়ী লাঙ্গলবন্দের সড়ক প্রশস্ত করণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দুটি বেইলী সেতু অপসারণ করে সেখানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে যে বেইলী সেতু ভেঙ্গে পড়ার গুজবে হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর মুত্যু হয়েছে সেই সেতুটি অপসারণ করে নতুন করে আরসিসি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে সেটি গার্ডার লাগানো হয়েছে। তবে ছাদ ঢালাই বাকী হয়েছে। অন্য সেতুটির পাইলিং কাজ এখনও শুরু হয়নি।  এদিকে আগামী ১৪ এপ্রিল মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্বানোৎসব উপলক্ষ্যে এর আয়োজন চলছে। নদ থেকে ভেকুর সাহায্যে মাটি কেটে তীরে রাখা হচ্ছে। ঘাটগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। তবে নদের কচুরীপানা এখনো পরিস্কার হয়নি। এখনও অনেক কাজ হয়নি। বিশেষ করে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হলে ভীড়ের চাপে আবারো দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরের দুর্ঘটনার কারণে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক থাকবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ওষুধ ব্যবসায়ী আকাশ জানান, স্নান উৎসবকে সামনে রেখে সড়কের দু’পাশে দোকানপাট বসতে দেয়া যাবে না। ফুটপাতে ফকির বসে হাটাচলার রাস্তা দখল করে রাখায় পথ সংকীর্ণ হয়ে ভীড় সৃষ্টি হয়। একদিক থেকে পুণ্যার্থীরা আসবে ও অন্যদিকে দিক দিয়ে পুণ্যার্থী যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

লাঙ্গলবন্দ বাজারের পান ব্যবসায়ী সুজিত চন্দ্র দাস জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ স্নান করে বাড়ি ফিরতে পারে সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  করে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। বেইলী সেতু ভেঙ্গে সেখানে আরসিসি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। তাই স্নাননের আগেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের কচুরীপানা পরিস্কার করতে হবে। যাতে পুণ্যার্থীরা সবগুলো ঘাটে স্নান করতে পারেন। পুণ্যার্থীদের চলাচলের পথের প্রশস্থতা আরো বাড়াতে হবে।

সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সবজী বিচি বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন জানান, ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার গুজব ছড়ানোর পর পরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে প্রশাসনের একটি জীপ পুণ্যার্থীদের চলাচলের রাস্তায় চলতে থাকায়ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত। পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে বেশী ভীড় হয় রাজঘাটে। সেখানে নিরাপত্তার জন্য আসা-যাওয়ার আলাদা পথ করা উচিত।

বাবুল মিয়া জানান, গত বছরের দুর্ঘটনার পর রাস্তাঘাট প্রশস্থ করা হয়েছে। ড্রেজিং করে নদের গভীরতা বেশী করা হয়েছে। ঘাটগুলোতে বালুর বস্তা ফেলে নদের গভীরতা কমানো প্রয়োজন। এছাড়া ঘাটগুলোকে সংস্কার করতে হবে। না হলে পুণ্যার্থীদের ভোগান্তি হবে।

সেতু নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাসুদ কন্সট্রাকশনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন জানান, ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বর্তমানে একটি সেতুর গার্ডার লাগানো হয়েছে। উপরের ছাদ বাকী রয়েছে। আমরা আশা করছি, স্বানের আগে ১০ এপ্রিলের মধ্যে ছাদের কাজ শেষ করা হবে

লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন কমিটি ও বাংলাদেশ লবন মিল মালিক সমিতির সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা জানান, এবারের আয়োজনের প্রস্তুতি ভালো। গতবারের অনাকাঙ্খিত ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে  জন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্থ করা হয়েছে। ¯œানের তিথি রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে আমরা সন্তুুষ্ট এবং পুণ্যার্থীদের ভয়ভীতির কোন কারণ নেই বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো: আনিছুর রহমান মিঞা জানান, এবছর পহেলা বৈশাখে নারায়ণগঞ্জে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। একটি বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। আর দুটি হচ্ছে লাঙ্গলবন্দে হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টমী ¯œান ও সোনারগাঁওয়ের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমের ধর্মীয় উৎসব। অষ্টমী ¯œান উপলক্ষ্যে প্রশাসনের প্রস্তুতি দুই ধরণের। একটি আগামী ¯œান উৎসবকে কেন্দ্র করে এবং অপরটি দীর্ঘ মেয়াদী। গত বছরের দু:খজনক ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৫টি বৈধ স্থাপনা সরকারী খাস জমিতে পুর্নবাসনের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে নদের ঘাটমুখী অবৈধ স্থাপনাগুলো ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ৪টি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে লাঙ্গলবন্দকে ঘিরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বয় করছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ সেতুর পুর্ব দিক থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নদের দুই পাড়ে যাতে পুণ্যার্থীরা ¯œান করতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুই পাড়ে ¯œান করতে পারলে ভীড় অনেকটা কমবে। নির্মাণাধীন দুটি সেতুর মধ্যে একটি সেতুর ছাদ ঢালাই না হলেও বেইলী সেতুর স্লিপার দিয়ে পুণ্যার্থীদের পায়ে হাটার ব্যবস্থা করা হবে। অপর সেতুটির পাইলিংয়ের কাজ চলছে। সেটিও পাইলিংয়ের কাজ শেষ করে হাটা চলার ব্যবস্থা করা হবে। ¯œান শুরুর ৪/৫ দিন আগেই কচুরীপানা শতভাগ পরিস্কার করা হবে। স্œানের মুল এলাকায় দুই কিলোমিটার নদ ড্রেজিং করে খনন করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের হাটা চলার রাস্তার পাশে কোন অবৈধ দোকানপাট বসতে দেয়া হবে না। এ বছর নির্বিঘেœ ¯œান উৎসব সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন।


নিউজ নারায়াণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

Shirt Piece
শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ