করোনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে : আর কবে সচেতন হবো আমরা ?

মিজানুর রহমান মামুন || সাংবাদিক ও লেখক ০৫:০৬ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

করোনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে : আর কবে সচেতন হবো আমরা ?

এক এক করে মানুষকে মৃত্যুর মিছিলে যোগ করছে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস। পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক, মৃত্যুর ভয়। উন্নত দেশগুলোতে মানুষজন স্বেচ্ছায় ঘর বন্দী। স্রষ্টার কাছে নতুন করে বাঁচার মিনতি করছে। সরকার বহির্বিশ্বের ন্যায় এ ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু আমরা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উৎসব আমেজে ঘোরাফেরা করে চলছি। আমাদের হুশ হবে কবে ?

পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের চিকিৎসক ডা. উসামা রিয়াজ তার মৃত্যুর ঠিক ৩০ মিনিট আগে হাসপাতালের বেডে শুয়ে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন ‘এই ভাইরাস নিয়ে একেবারেই রসিকতা নয়। এ ভাইরাস ভয়ংকর। সাবধানে থাকুন। সচেতন থাকুন।’

অন্যদিকে ইতালিতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেক চিকিৎসক ও নার্সদের। এটি শুধু ইতালির নয় বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের চিত্র। সম্প্রতি ইতালির লোম্বার্দির একটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত  হয় ডেনিয়েলা ট্রেজি (৩৪) নামের এক নার্স । তিনি তার শরীর থেকে যেন এ ভাইরাস অন্যদের মাঝে না ছড়ায় সে জন্য আত্মহত্যা করেন।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কেউ এগিয়ে না আসায় নিহতের চার মেয়েই বাবার লাশ কাঁধে তুলে নিয়ে গেছেন শ্মশানে।

শুধু তা-ই নয়, করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যু হলে স্বজনরাও আজ হয়ে যাচ্ছেন পর। বাবার লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে সন্তান পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। পথে-ঘাটে মৃতের লাশ পড়ে থাকে। করোনা আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসছে না।

এদিকে মৃত্যু ঝুঁকি জেনে অসুস্থ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আধুনিকতার যুগে সবই আমাদের জানা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিবিসির বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রজেকশনে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে ২০ লাখ লোক মারা যাবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এটিকে গুজব ও অতিরঞ্জিত বলে দাবী করেছেন। এতসব কিছুর পরও আমাদের হুঁশ হবে না!

এ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে সরকার কলকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। ঘরবন্দী মানুষের জন্য ব্যবস্থা করেছেন ত্রান সরবরাহের। সরকার, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেয়া এ ত্রান সামগ্রী সংগ্রহে চলে উৎসবের আমেজ। ঘটে বড় ধরনের জনসমাগম।

অথচ দেশে প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যুর মিছিলে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে কেউ না কেউ। আক্রান্ত হচ্ছে দেশের নতুন নতুন অঞ্চল। তারপরও ফেসবুক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিয়ে নানা রসিকতা করতে দেখা যায়।

হাট-বাজার, মাঠে ঘাটে এখনো বসে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের আড্ডা। অথচ সেই আড্ডায় আলোচনার বিষয়বস্তু মরণঘাতী এ করোনাভাইরাস। এ যেন এক ছেলেখেলা।

এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হয়েছে। তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পারলে মনে হয় অনেক কিছু জয় করে ফেলেছি। কিন্তু মরণঘাতী করোনা ভাইরাসকে কি জয় করতে পেরেছি। নাকি ভয়ঙ্কর বিপদকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও