নারায়ণগঞ্জের দুই পুলিশের করোনা থেকে মুক্তির গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩২ পিএম, ৭ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জের দুই পুলিশের করোনা থেকে মুক্তির গল্প

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম তাঁর ফেসবুকে করোনা থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মুক্তি পাওয়া নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, আমাদের দেশেও করোনা আঘাত হানে। এই আঘাত মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ পুলিশ শুরু থেকেই মাঠে কাজ করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় করোনা ভাইরাসের জন্য। ১০ হাজারের অধিক করোনায় আক্রান্ত সমগ্র দেশে। আমার দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, দায়িত্ব পালন করতে দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আশার কথা হচ্ছে তারা দুইজনেই পুরোপুরি সুস্থ এখন। করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করে এখন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব পালন করা এএসআই আমিনুল ইসলাম গত মাসে করোনা উপসর্গের মধ্য করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করে থাকে এপ্রিলের ১৫ তারিখ। করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে এপ্রিলের ১৯ তারিখ। তারপর বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় সে ২১ এপ্রিল।

একটু সুস্থ হওয়ার পথে সে আগাতে থাকে সব নিয়মমানুন মেনে। তারপর ২৮ এপ্রিল আবার টেস্ট করালে করোনা নেগেটিভ আসে। আবারো মে মাসের ১ তারিখ টেস্ট করা হয় নিশ্চিত করণের জন্য। আবারো নেগেটিভ টেস্ট আসে এবং সে নিজ বাসায় সুস্থভাবে অবস্থান করছে।

সোনারগাঁও থানার কনস্টেবল পিয়াংকা সাহা। করোনা উপসর্গের মধ্য নমুনা প্রদান করে তারো পজেটিভ রিপোর্ট আসে। রাজারবাগ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ট্রিটমেন্ট হয় তার। তারপর দফায় দফায় ২ বার আবার ১৪ দিন পর টেস্ট করলে নেগেটিভ আসে তার এবং গত মে মাসের ৪ তারিখ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পায়।

তাদের ভাষ্যমতে, গরম পানির ভাপ নিয়েছে। গারগল করেছে, লেবুর শরবত পান করেছে, ফল খেয়েছে এবং ব্যায়াম করেছে। নিয়ম-কানুন মেনে চলে বলেদ্রুত করোনামুক্ত হয়েছি আমরা।

আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, নিশ্চিত মৃত্যু ব্যাপারটা এমন না। আমাদের কমুউনিটিকে শক্তিশালী করতে হবে। দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই করোনাকে জয় করতে হবে।

হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনাভাইরাস অন্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত হলে নিজেরে আলাদাভাবে রাখতে হবে বিচ্ছিন্ন করে।

ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিং ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রচুর। রসুন, আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ ইত্যাদি মশলার চা, গরম পানি করোনাভাইরাসের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ভূমিকা পালন করে। আক্রান্ত দুইজন সুস্থ হবার আগ নাগাদ নিয়মিত রুটিন মাফিক মেডিসিন, ডাক্তারের পরামর্শ এবং খাবারের দিকে সচেতন রেখে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের কিংবদন্তী, একজন সুপার হিরো ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বিপিএম(বার), পিপিএম (বার) মহোদয় বারবার বিশেষ ভাবে খেয়েল রেখেছেন তাদের। আমারে সার্বক্ষণিক ভাবে বলেছেন নজরদারি রাখতে তাদের চিকিৎসা সেবা, তাদের ফ্যামিলির যেন কোন প্রকার দুর্ভোগ না পোহাতে হয়। বাসার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে শুরু করে বাচ্চাদের দুধ পর্যন্ত স্যারের খেয়াল ছিল।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম (বার) মহোদয় ও মনিটরিং করেছেন, সার্বিক খোঁজ খবর রেখেছেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম,পিপিএম(বার) মহোদয়ের তাঁর দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকার করোনা আক্রান্ত ২ সদস্য এর জন্য সর্বোচ্চ ভাবে পাশে ছিলেন।

পরিশেষে করোনা মানেই মৃত্যু ব্যাপারটা এমন না। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে অনেকেই ফিরে আসছে। তারপরও আপনারা সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন। আর যদি আপনার আশেপাশে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় তাকে মানসিক সাপোর্ট দিবেন দূর থেকে। আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের প্রতি বাজে আচরণ করবেন না। মানবিকতাই বড় প্রতিষেধক মনে রাখতে হবে আমাদের সবার।

অন্যান্য পুলিশ সদস্য যারা আক্রান্ত তারা ভয় পাবেন না। আমিনুল এবং প্রিয়াংকাকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা, যুদ্ধ জয়ের গল্প শুনে সাহস নিয়ে ফিরে আসুন। আপনাদের এখনো অনেক দায়িত্ব বাকী। এই দেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনাদের বিকল্প নাই। আহত যোদ্ধা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়। যারা আক্রান্ত হয়ে মন খারাপ করে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছেন তাদের ফিরে আসতে হবে দ্রুত। তাদের জন্য শুভকামনা।


বিভাগ : আইন আদালত


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও