ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভীড়, মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৭ পিএম, ১২ মে ২০২০ মঙ্গলবার

ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভীড়, মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখায় মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্ব। লকডাউন শিথিল হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব ও সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করানো হলেও লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। মঙ্গলবার সকালে ব্যাংকটিতে দেখা গেছে লোকে লোকারণ্য। সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই। বরং গাদাগাদি করে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ব্যাংকটির একটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে ব্যাংকটি এক সপ্তাহ বন্ধ ছিল।

উল্লেখ্য প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপের ফলে গত ৭ এপ্রিল পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন করা হয়। ওই দিন রাতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে সকল প্রকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরও চার দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়ানো হয়েছে। জরুরি সেবা দেওয়াসহ দফতরগুলোকে আওতার বাইরে রেখে বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে আগামী ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

লকডাউনের কারণে নারায়ণগঞ্জের বেশীরভাগ ব্যাংকগুলো বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে সীমিত আকারে বেশ কিছু ব্যাংকের কার্যক্রম চালু হয়। যার মধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংকেও সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয়েছিল। তবে লকডাউনের পর ব্যাংক খোলার সময় থেকে সীমিত পরিসরে চালু ছিল চাষাঢ়াস্থ সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার কার্যক্রম। বিশেষ করে প্রবেশের সময়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে ও লম্বা লাইনে দাড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে ব্যাংকে প্রবেশ করতে হতো। ব্যাংকের ভেতরে ভীড় কমলে তারপর বাহিরে দাড়ানো ব্যক্তিদের প্রবেশ করানো হতো।

এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখার একজন এজিএম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে গত ৩ মে থেকে এক সপ্তাহ শাখাটি লকডাউন করা হয়। অর্থাৎ এক সপ্তাহ শাখাটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

এদিকে গত ১০ মে থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে হটস্পট খ্যাত নারায়ণগঞ্জে সকল দোকান ও শপিংমল চালু করা হয়। যে কারণে নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে লকডাউন আছে শুধু কাগজে কলমে। লকডাউনের শিথিলতার কারনে চাষাঢ়াস্থ সোনালী ব্যাংকেও এখন মানা হচ্ছেনা কোন ধরনের সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। মঙ্গলবার ১২ মে সকালে চাষাঢ়াস্থ সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে লোকে লোকারন্য। ব্যাপক জনসমাগমে ঠাসাঠাসিতে গ্রাহকদের ত্রাহিদশা। লকডাউন শিথিল হওয়ার আগে ব্যাংকটিতে প্রবেশ করতে হতো লাইনে দাড়িয়ে কিন্তু বর্তমানে সেটা ছিলনা। যে কারণে কে কার আগে প্রবেশ করবে সেই চেষ্টায় গেটের সামনেই ছিল অসংখ্য মানুষের ভীড়। একই অবস্থা ছিল ভেতরেও।

উল্লেখ্য ১২ মে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৫ জন। যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬০ জন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও