লোকসান ঠেকাতে দিগু বাবুর বাজারে ফিরছে ব্যবসায়ীরা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৬ পিএম, ২২ মে ২০২০ শুক্রবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শহরের অন্যতম দিগু বাবুর বাজারের একটি অংশ নিতাইগঞ্জের আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে বেচা-বিক্রি কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ফের দিগু বাবুর বাজারে ফিলে এসেছে। আর লকডাউনে শিথিলতার ফলে বাজারে ক্রমশ বাড়তে শুরু করে জনসমাগম। সামাজিক দূরত্ব মানার কোন বালাই বাজারে দেখা যাচ্ছেনা। এতে করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচা বাজার অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হলেও অনেকে স্টেডিয়াম মাঠে যাচ্ছেনা। আর ক্রেতারা দিগু বাবুর বাজারে কাঁচা বাজার পেয়ে অন্যত্র যাচ্ছেনা। এতে করে স্টেডিয়াম মাঠে যেসব ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেছে তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। একারণে সবাই দিগু বাবুর বাজারে ফিরে আসছে। এতে করে ফের বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বাজারে কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দিগুবাবু বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ওইসব দোকানে ভীড় করছেন ক্রেতারা। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও বাজারে নেই কোন মনিটরিং কিংবা অভিযানও।

ব্যবসায়ী ছবির মিয়া বলছেন, বাজার স্থানান্তর করায় দুটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। একদিকে ক্রেতারা সেখানে যাচ্ছেনা। অন্যদিকে পাইকারী ব্যবসায়ীরাও সেখানে যাচ্ছেনা। মালামালের সকল গাড়ি দিগু বাবুর বাজারে রাখা হয়। এতে করে বাড়তি খরচ কেউ পুষিয়ে নিতে পারছেনা। সব মিলিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দিগুবাবু বাজারের একটি অংশ নিতাইগঞ্জের আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়ামে স্থানান্তর করা হয়। যেখানে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য দ্রব্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া মুদি সদাই গুলো দিগুবাবু বাজার থেকেই কেনার সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রেক্ষিতে অনেক কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি বিক্রেতা স্টেডিয়ামে দোকান বসিয়ে বিক্রিও শুরু করেন।

এদিকে কাঁচা সবজির বাজার ফের দিগু বাবুর বাজারে ফিরে আসতে শুরু করায় ফের জটলা দেখা যাচ্ছে। ক্রমশ এই জটলার পরিমাণ বাড়ছে। কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছেনা। উল্টো বাজারে প্রবেশ করতেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন ঠেলে সামনের দিকে এগোতে হচ্ছে। গায়ের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে সবাই চলাচল করছে। আবার অনেকে ধাক্কাধাক্কি করেও কেনাকাটা করছে। কারো মধ্যে সচেতনতার বালাই লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও গুটি কয়েকজন লোক দূরত্ব মানার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তা মেনে চলা সম্ভব হয়নি।

ক্রেতারা বলছেন, এতো দূরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া এখানে সব পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন অন্যত্র যাবো। তবে এখানে জনসমাগম খুব বেশি। অনেক চেষ্টা করেও ভীড় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারিনি। কেনাকাটা করতে দিয়ে ভীড়ের ভেতরে যেতে হয়েছে। এতে করে ভাইরাসে আক্রান্তের শঙ্কা থাকলেও কিছু করার নেই। তাছাড়া আমার একার সচেতনতায় কিছু হবেনা। সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও