গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে শামীম ওসমান আতংকিত

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১২ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে শামীম ওসমান আতংকিত

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আমি মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। ২০০১ সালের ১৬ জুন আমার উপর বোম ব্লাস্ট হয়েছিল। আমার সাথে ২০ জন মানুষ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তখন মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেছি। তখন ভয় লাগেনি। কিন্তু এখন আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে অসহায়ত্ব বোধ করছি। নিজের কাছে কষ্ট লাগছে। আমরা একটু স্বার্থপর হয়ে গেলাম নাকি।

চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর সাথে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি কোনটা সঠিক বেঠিক সেই আলোচনা পরে। আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে আমরা স্বার্থপর হয়েই গেছি। আমরা সবাই মিলে এক হতে পারছি না। আমরা সবাই মিলে মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তুলতে পারছি না। আমরা সবাই মিলে সবার উপরে মনুষ্যত্ব তাহার উপর কেউ নেই এই কথার উপর বিশ^াস করতে পারছি না। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার যে প্রয়াস আমরা সবাই মিলে সে সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছি না।

শামীম ওসমান বলেন, আমি দেখছি আমার এলাকাতে যারা মারা গেছে তাদের অধিকাংশের লাশ সন্তানরা ধরে নাই। মা মারা গিয়েছে তার সন্তানরা অন্য জায়গায় গিয়ে বন্দী হয়ে রয়েছে। আমাদের লোকজন গিয়ে লাশ দাফন করছে। যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তারা দাফন করছেন। আমরা কোথায় যাচ্ছি। আমরা নিষ্টুর হয়ে গেলাম কেন। আমার কাছে এই জিনিসটা বোধগম্য না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ওয়ান অব দ্যা মোস্ট ইফেক্টটেড জোন। আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম টেষ্ট বাড়ানোর জন্য। খাবার দিতে পারবো, নিজের বাড়ী ঘর বেঁচেও খাবার দিতে পারবো। সরকার থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তারপরেও দেখছি টেষ্ট হচ্ছে না। আমি কারও বিরুদ্ধে বলছি না, সিটি কর্পোরেশন বললো আমি টেষ্ট করতে পারবো না। উনারা দিবেন না। এর মধ্যেও ভাল মানুষ আছে। সিভিল সার্জন ফোন করে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলো আমি টেষ্ট করবো কিভাবে। সিটি কর্পোরেশন তো দিচ্ছে না। আমি বললাম আপনাদের কি লাগবে সেটা বলেন। তারপরও বড় বড় হাসপাতালগুলোর সহযোগিতায় স্যাম্পল সংগ্রহ করা শুরু করলাম। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছি। সরকার প্রশাসন সাংবাদিক সবাই বলছে ঘরে থাকেন নিরাপদ দূরত্বে থাকেন। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। মানুষ বলে খাবার নেই। আমি অবাক হয়ে দেখছি, যখন মার্কেট খুলে দেয়া হলো তখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়লো।

গার্মেন্টস সেক্টর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমি খুব আতঙ্কিত এই সেক্টর নিয়ে। আমার হিসেবে ১ কোটি লোক গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করে। ২৬ মার্চের পরে বলা হলো লকডাউন এবং ছুটি। আমার এইখানে কুইসেন্স মার্ক আছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ৪০ লাখ লোক কাজ করে। আমি বিজনেসম্যান না। গার্মেন্টস মালিকরা টাকা কামিয়েছেন। সেহেতু তারা ১ মাসের বেতন দিতে পারতেন। বাকী ঈদ পর্যন্ত সরকার দিতে পারতেন। গার্মেন্টস মালিকরা সে টাকাটা পরবর্তীতে ক্রমে ক্রমে পরিশোধ করতে পারতেন।

তিনি বলেন, কিন্তু আমি এখন জানি না কি হচ্ছে। আমি খুব অবাক হয়েছি, নারায়ণগঞ্জে এমন গার্মেন্ট আছে বিদেশীরা দেখে অবাক হয়েছিলেন। জীবনে কোনোদিন সে সকল গার্মেন্টসে ফুলের ঠুকা লাগেনি। আমি দেখলাম গত পরশুদিন কিছু শ্রমিক নেতা আছেন যারা পাজারো গাড়িতে গাড়ি চালান, বারিধারায় বাড়ি আছে তারা শ্রমিক নেতা। ওই গার্মেন্টস ভাংচুর করা হয়েছে। বলা হয়েছে বোনাস সহ বেতন দিবে কিন্তু তারপরেও ভাংচুর করা হয়েছে। আমি অনেক গার্মেন্টস মালিকদের জিজ্ঞাসা করেছি তারা সুবিধাভোগী না। সুবিধাভোগী অন্য কেউ সেটা পরে জানা যাবে। এটা রাজনীতির সময় না। এটা বাচাঁ মরার সময়। এই দেশে একজন আছে যিনি অন্তর দিয়ে দেশকে ভালবাসেন। উনি কাজ করে যাচ্ছেন। যেভাবে মানুষ চলছে আমি ভীতু।

সবশেষ তিনি কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, আমার কাছে ভীষণ খারাপ লাগছে। রাজনীতি মূলতন্ত্রই তো মানুষকে ভালোবাসা। আমরা এখনও দেখছি আওয়ামী লীগ বিএনপি এটা বলছে। বয়স হয়েছে মরে তো যাবেই। কিন্তু এখন এই সময় মরতে ইচ্ছে করছে না। মরতে চাই না এজন্য যে এটা কেমন মৃত্যু কাম্য না যেখানে আমার সন্তানরা আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, সবার কাছে হাতজোড় করে মিনতি করছি, অনেক রাজনীতি খেলা হয়েছে। রাজনৈতিক দল কখনও দেশ ধ্বংস করে দিবে না। দেশ ধ্বংস করার জন্য একটি টিম থাকে তারা বিদেশীদের কথায় চলে। তারা বিভিন্ন জায়গা মিটিং শুরু করে দিয়েছে। এরা আদৌ মানুষ কিনা আমি জানি না। এক কোটি লোকের সুযোগ আছে মানুষকে সহযোগিতা করার। এক কোটি লোক ৫ টি পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে ৫ কোটি পরিবার ভাল থাকবে দুই মাস। আমাদের ক্ষমা চাওয়ার সময় এসেছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও