ভালো নেই প্রাণের নারায়ণগঞ্জ!

মাহফুজুর রহমান পারভেজ || নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর কম ০৭:১৪ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২০ শনিবার

ছবিটি তন্ময় দাসের সৌজন্যে
ছবিটি তন্ময় দাসের সৌজন্যে

সারাবিশ্বেই চলছে করোনা মহামারী। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো এ ভাইরাসের ভয়াল থাবাকে সামাল দিতে নাকাল অবস্থায় পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশেও চলছে এই মহামারী, যার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। কেমন আছে প্রাণের এই শহর? এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই এই প্রতিবেদক ঘুরেছিলেন শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ জন ও মারা গেছেন ৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় মোট আক্রান্ত ১৬ জন ও ২ জন মারা গেছেন। গণনায় প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে এ জেলায় করোনায় সংক্রামণের হার। হিসাব অনুযায়ী আক্রান্ত প্রতি ৮ জনের একজন মারা যাচ্ছেন।

প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত ব্যবসায়িক অঞ্চল ভালো থাকলে ও এ অঞ্চলের ব্যবসায়ের চাকা সচল থাকলে জেলায় বিভিন্নস্থানে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিকেরা ভালো থাকে, ভালো থাকে তাদের পরিবার। আর এ অঞ্চল খারাপ থাকলে ভালো থাকেনা এখানকার ব্যবসায়ীরা, চাকুরীজীবীরা ও শ্রমিকরা।

এমন অবস্থায় কেমন আছে নারায়ণগঞ্জ সেটি জানতে জেলার বিভিন্ন এলাকার দৃশ্য জানতে গেলে দেখা যায়, শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় বাঁশ দিয়ে প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো একেবারেই ফাঁকা। শহরের দিগুবাবুর বাজার, স্বপ্ন সুপার শপ ও বিভিন্ন স্থানে ওষুধের দোকানগুলো খোলা রয়েছে।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে তেমন মানুষের জটলা দেখা যায়না। শহরের আটা, ময়দা, গম, লবনের পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জ, শিল্প এলাকা ফতুল্লার বিসিক, শিবু মার্কেট, আদমজী ইপিজেড, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে নেই ব্যবসায়িক আনাগোনা ও ব্যস্ততা। সদা প্রাণচঞ্চল এ নারায়ণগঞ্জ যেন করোনার ভয়াল থাবায় একেবারেই থমকে গেছে।

এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় জেলা প্রশাসক, মেয়র, সকল সংসদ সদস্য, সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তিদের এক হয়ে এখন কাজ করতে হবে। ক্রমবর্ধমান আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার কমাতে এখনি দৃঢ়টার সাথে শক্তভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানকার স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসা সেবাদানকারীদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের এই যুদ্ধে সম্মুখে থেকে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। তাদের পাশে থেকে সকল প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমর্থন দিতে হবে একেবারেই নিঃস্বার্থভাবে। লক্ষ্য একটাই প্রাণের এই শহরকে আবারো আগের রুপে ফিরিয়ে আনা।

নারায়ণগঞ্জ আবারো সেই কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে প্রত্যাশা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যিনি করোনা ভাইরাসের শুরু থেকেই মানুষকে ঘরে থাকতে আহবান করে যাচ্ছেন এবং মানুষের পাশে থেকে নানাভাবে তাদেরকে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন সেই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, আমরা তো প্রথম থেকেই অনেকভাবে বলেও কিছু মানুষকে ঘরে রাখতে পারিনি এখন মানুষ কিছুটা সচেতন হয়েছে। কি হয়েছে না হয়ে সেই তর্কে না গিয়ে আমাদের সকলের উচিত একসাথে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করা। আমি সবার সাথেই কাজ করতে রাজী শুধু চাই ভালো থাকুক প্রাণের নারায়ণগঞ্জ। এখন প্রয়োজন এখানে দ্রুত শনাক্ত করা ও চিকিৎসা সেবা দেয়া।

তিনি বলেন, আমি এতটুকু প্রত্যাশা করি চীনের উহানের মত যেমন আমরা প্রথমে আক্রান্ত হয়েছি আমরাই দ্রুত সেরে উঠে পুরো নারায়ণগঞ্জকে বাংলাদেশের সবার প্রথম করোনামুক্ত জেলা ঘোষণা করবো। এজন্য আমাদের সকলকে ঘরে থেকে সহযোগিতা ও আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। এখানে হাসপাতাল ও ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হলে আমরা এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো একধাপ এগিয়ে যাবো বলে বিশ্বাস করি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও