মানবিক সংকট চরমে, সৎকারে মুখাগ্নিও করতে হচ্ছে খোরশেদকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২০ রবিবার

মানবিক সংকট চরমে, সৎকারে মুখাগ্নিও করতে হচ্ছে খোরশেদকে

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি মানব সভ্যতাকে চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে অনেক কিছুই দেখিয়ে দিচ্ছে। অনেক কিছুই নতুন করে শিখিয়ে দিয়ে যাচ্ছে মানব সভ্যতাকে। চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে মানবিক সংকট। বিশেষ করে অন্তিমকালে কে কতটুকু আপন হয়ে থাকে সেটা বেশ ভালভাবেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে এই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে। তবে এ অবস্থায় অনেক জনপ্রতিনিধিই নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই মানবিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের জীবনের ঝূঁকি নিয়ে মানবসেবায় ব্রত রয়েছেন।

আর তাদেরই মধ্যে অন্যতম একজন হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি সারাদেশের মধ্যেই আলোচিত একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হয়েছেন। মানবসেবার মধ্য দিয়ে সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের পথিকৃৎ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তাকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। কেউ বলছেন, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ কেউ বলছেন ‘হিরো অব করোনা’। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্যই একজন নিবেদিত মানুষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মুসলিম ব্যক্তির লাশ কাফন দাফনের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মালম্বীদেরও মৃতদেহ সৎকার করে যাচ্ছেন খোরশেদ। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক মৃতদেহ সৎকার করেই চলছেন এই করোনা যোদ্ধা খ্যাত মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। যেখানে ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন সহ এমনকি পরিবারের লোকজনও এগিয়ে আসেন না সেখানে খোরশেদ নিজ দায়িত্ব নিয়ে এসকল কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি হিন্দু ধর্মালম্বীদের সৎকারের মুখাগ্নির কাজটিও করতে হচ্ছে খোরশেদকে।

হিন্দু ধর্মমতে, শবদেহ চিতা স্থাপন করার পর ৩ বার প্রদক্ষিণ করে পুত্র বা কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মৃতের মুখে অগ্নি স্পর্শ করে মন্ত্র পাঠ করাকে মুখাগ্নি বলা হয়ে থাকে। এই মুখাগ্নির কারণ সন্তান পিতৃ ও মাতৃ ঋণে ঋণী, এই কারণে সবার প্রথমে সন্তানের কর্তব্য মুখাগ্নি করার। সন্তানের অভাবে মৃতের অভিভাবক, কনিষ্ঠ বা জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, ভাইপো, বোনপো, জামাতা, সখা অথবা সন্তানতুল্য অথবা সামসাময়িক আত্মীয়ের মধ্যে যে কেউ একজন এসে মৃতের মুখাগ্নি করতে পারে।

কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মৃতদেহ সৎকারের সময় মুখাগ্নি করার জন্যও কোনো ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন এগিয়ে আসছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে মৃতদেহ সৎকারের পাশাপাশি ধর্মের উর্ধ্বে থেকে মুখাগ্নিরও কাজটিও করতে হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯ এপ্রিল রোববার নারায়ণগঞ্জের ইউনানি চিকিৎসার পথিকৃৎ ডা. কৈলাশ বনিক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

তিনি ১০ দিন যাবৎ জ্বর, সর্দি, কাশি ও গত তিন দিন ধরে স্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। তার কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। এমতাবস্থায় কোনো আত্মীয় স্বজনও এগিয়ে আসেননি মৃতদেহ সৎকারে। ফলে কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এগিয়ে আসেন মৃতদেহ সৎকারের জন্য। এটা তাদের ১৪ তম সৎকার।

যার ধারাবাহিকতায় এদিন সকল কাজ ভালভাবে সম্পœ হলেও শেষ পর্যায়ে মুখাগ্নি করার জন্য কোনো আত্মীয় স্বজন ছিল না। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ডা. কৈলাশ বনিকের মেয়েকে নিয়েই মুখাগ্নির কাজটি সম্পœ করেছেন। যদিও হিন্দু ধর্মানুযায়ী মৃতের সন্তান এই কাজটি করে থাকেন। সন্তানের অভাবে মৃতের অভিভাবক, কনিষ্ঠ বা জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, ভাইপো, বোনপো, জামাতা, সখা অথবা সন্তানতুল্য অথবা সামসাময়িক আত্মীয়ের মধ্যে যে কেউ একজন এসে মৃতের মুখাগ্নি করে থাকেন। কিন্তু এখানে কেউই ছিলেন না।

এভাবেই দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করেও ক্লান্তি নেই তার। রাতে ওয়ার্ডবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘিয়ে ত্রাণ নিয়ে হাজির হচ্ছেন।

মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলছেন, ‘তিনি কাউকে খুশী করার জন্য না বরং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশাতেই তিনি করছেন। যে যাই বলুক, যে যাই করুক তিনি তার কাজে অবিচল আছেন।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও