সংকটে রিকশা চালকেরা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১০ পিএম, ৫ মে ২০২০ মঙ্গলবার

সংকটে রিকশা চালকেরা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন করে দেয়া হয়। সকল যান চলাচল বন্ধ হলেও রিকশা সহ জরুরী কাজে ব্যবহৃত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এরুপ পরিস্থিতিতে জনগণ গৃহবন্দি থাকায় যাত্রী সংকটে পড়েছে রিকশা চালকরা। আর তাতে করে একদিকে যাত্রীদের যেমন কদর বেড়েছে; অন্যদিকে রিকশা ভাড়াও কমেছে।

সম্প্রতি শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানের রিকশা চালকদের সাথে কথা বলে ও রিকশায় চড়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।

জানাগেছে, লকডাউন ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে জনগণ এখন গৃহবন্দি প্রায়। তাই জরুরী কাজ ব্যতিত তেমন কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। আর যারা ঘর থেকে বের হচ্ছে দূরে কোথাও গমন করছেনা। এতে করে রিকশা চালকরা যাত্রী সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে সব ধরণের কর্মক্ষেত্রও বন্ধ প্রায়; যেকারণে রিকশা চালকরা বিকল্প কোন পেশায় যেতে পারছেনা। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে এই পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছে। এদিকে যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় রিকশা চলাকরা ভাড়া দিয়ে দরদাম করছেনা। আগের তুলনায় কম ভাড়াতে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এরুপ নানা তথ্যের ভিত্তিতে নিউজ নারায়ণগঞ্জের প্রতিবেদক রিকশা যোগে যাত্রা শুরু করে। ঘড়ির কাঁটায় রাত প্রায় ৯ টা বাঁজে তখনই চাষাঢ়া থেকে রিকশা যোগে সেন্ট্রাল খেয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশা ভাড়া জিজ্ঞাসা করতেই এক রিকশা চালক ২৫-৩০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা ভাড়া হাকায়। পরে ১৫ টাকা ভাড়াতে যেতে রাজি হয়। নদী পারাপার হয়ে ১ নং খেয়া ঘাট থেকে ছালেহনগর পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ১৫ টাকা হাকায়। পরে মাত্র ১০ টাকা ভাড়া গুণে গন্তব্যে পেছতে সক্ষম হয়।

রিকশা চালকরা বলছেন, লকডাউন ও করোনা ভাইরাসের কারণে যাত্রী নেই। যাত্রী সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। কিন্তু পেট তো তা মানেনা। সংসার চালাতে হলে উপার্জন করতে হবে। তাই এরুপ পরিস্থিতিতে নেহাত বাধ্য হয়ে যাত্রীরা যে যত ভাড়া বলছে তাতে সম্মতি জানাচ্ছি। তাছাড়া যাত্রীর তুলনায় রিকশা চালক বেশি। তাই কম ভাড়ার কারণে যাত্রী হাতছাড়া করলে অন্য রিকশা চালকরা তা লুফে নিবে। এর ফলে কম ভাড়াতেই সবাই যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

তবে রোগী সহ জরুরী কোন কাজে বের হওয়া যাত্রীদের পকেট কাটতে একটুও দেরি করেনা সুযোগ সন্ধানী রিকশা চালকরা।

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপের ফলে গত ৭ এপ্রিল পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন করা হয়। ওই দিন রাতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে জরুরী পরিসেবা যেমন চিকি’সা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি এর আওতাবহিভর্’ত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। শুধু মাত্র জরুরী কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন। তবে এসব নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও