করোনার অ্যান্টিডোজের জন্য রক্ত দিলেন নারায়ণগঞ্জের রাজীব (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৩ পিএম, ১৪ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

করোনার অ্যান্টিডোজের জন্য রক্ত দিলেন নারায়ণগঞ্জের রাজীব (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত বাবা ও ছেলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় সুস্থ্য জীবন যাপন করছেন। এখন তাদের থেকে রক্তের নমুনা নিয়ে অন্য আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের গভেষক টিম কাজ করছেন।

সুস্থরা হলেন উকিলপাড়া ডিএন রোডের বাসিন্দা রাজীব সরকার ও তার বাবা হারাধন সরকার। তাদের এ সুস্থ্যতার জন্য ডাক্তার, নার্স ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে করোনা যুদ্ধে বাবা ছেলের জয়ী হওয়া ও পরবর্তীতে আক্রান্ত মানুষকে সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া সম্পর্কে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজীব সরকার বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়েছি কিন্তু মনের দিক থেকে সব সময় সাহস রেখেছি। তাই ঈশ্বরের কৃপায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছি। এখন ভালো লাগছে যে ঢাকা মেডিকেলের একটি টিম আমাদের নমুনা নিয়েছে। তারা বলেছেন আমাদের রক্ত পরীক্ষা করবেন এবং আক্রান্ত অন্য ব্যক্তিদের জন্য অ্যান্টিডোজ তৈরি করার চেষ্টা করবেন। যদি সফল হয় সেক্ষেত্রে আমার কাছ থেকে আবারও রক্ত নিয়ে অ্যান্টিডোজ তৈরি করবেন। এ অ্যান্টিডোজ শুধু আমার রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করছে এমন না অনেকের কাছ থেকেই নিয়েছে। তবে আমি যতটুকু জানি নারায়ণগঞ্জে হয়তো আমিই প্রথম কেউ অ্যান্টডোজের জন্য রক্ত দিয়েছি। এখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে মানুষের উপকারে আসতে পারি।’

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষ অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সকালে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন রাজীব সরকার।

তিনি বলেন, আমার বাবার গত মার্চ মাসের ২৬ তারিখ হঠাৎ জ্বর আসে। এর ২ থেকে ৩ দিন পর চলে যায়। পরে ১ এপ্রিল আমরা পপুলারে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে ডাক্তার পাই না। পরে ৩ এপ্রিল ডাক্তার অমিত সাহা আমাদের কয়েকটি পরীক্ষা করানোর জন্য বলে। পরে তিনি বলেন করোনার উপসর্গ আছে। ৪ এপ্রিল তিনি নিজেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেদিন বিকেলে বাবার নমুনা সংগ্রহ করে। পরে ৫ এপ্রিল বিকেলে আইইডিসিআর থেকে পাঠানো রিপোর্টে বাবার কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। পরে সেখান থেকে আমাদের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গেলে রাতে থেকে বাবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। জরুরী ভাবে রাত ১২টায় বাবাকে আইসিউতে নিয়ে রাখা হয়। এরপর আমিও কিছুটা অসুস্থ বোধ করি। তবে কোন উপসর্গ ছিল না। যেহেতু আমি বাবার সংস্পর্শে ছিলাম তাই নমুনা পরীক্ষা করাই। ৭ এপ্রিল আমার রিপোর্ট কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়। তখন ডাক্তার আমাকেও ওষুধ দেয়। সেই ভাবেই চলতে ছিল। পরে ১১ এপ্রিল থেকে বাবা সুস্থ হতে শুরু করে। ১২ এপ্রিল থেকে আমি ও বাবা দুইজন আইসোলেশনে ছিলাম। তারপর ১৮ ও ২০ এপ্রিল দুইবার নমুনা নেওয়া হয়। পরপর দুই বার নমুনা নেওয়ার রিপোর্ট নেগেভিট শনাক্ত হওয়ায় ২২ এপ্রিল আমাদের সেখান থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় চলে আসি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজীব সরকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই তিনি রোগীদের জন্য ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছেন। আমরা তিন বেলা উন্নত মানের খাবার পেয়েছি। ডাক্তার ও নার্সরা সর্বক্ষনিক সেবা দিয়েছেন। বিশেষ করে অমিত সাহা ও ডা.আসাদুজ্জামান দুইজনেই আমাদের সর্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিয়েছেন। চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। ঈশ্বর দুইজনকে সুস্থ ও মঙ্গলময় রাখুক।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের নাপা ট্যাবেলট দেওয়া হতো। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত ভাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জিমেক্স ৫০০ গ্রাম ট্যালেট খেয়েছি ১২ ঘন্টার পর পর। এর বাইরে প্রতিদিন আদা দিয়ে চা, লেবু ও আদা দিয়ে গরম পানি ও ভিটামিন সি জাতীয় ফল খেয়েছি। এসময় ভাত, মাছ, ডিম এসব খেতে পারতাম না। তাই নাক চেপে ধরে জোর করে খেয়েছি। কারণ ডাক্তারের নির্দেশ প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি।’

ডাক্তারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ রোগী প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের শরীরের রোগী প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি কার্যকর। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

তিনি বলেন, করোনা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আসলে মানুষের মনের ভয় সব থেকে বড় ভয়। এ ভয়ই মানুষকে দুর্বল করে ফেলে। তাই ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চললে সবাই ভালো থাকবো।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও