কেউ মেহেদীতে তাঁদের হাত রাঙাতে আসেনি, নতুন জামাও জুটেনি (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৫ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

কেউ মেহেদীতে তাঁদের হাত রাঙাতে আসেনি, নতুন জামাও জুটেনি (ভিডিও)

প্রতিবছরই ঈদের আগে নানা সংগঠন চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ঘুড়ে বেড়ানো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাঁদের মাঝে নতুন জামা বিতরণ করতো। ঈদকে আরো রঙিন করতে অনেক সংগঠন সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের হাত মেহেদীর রঙে রঙিয়ে দিতো। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে শহীদ মিনারে ঘুরে বেড়ানো এসব পথশিশুদের ঈদ এবার রংহীন। কারণ কেউ মেহেদী দিয়ে তাঁতের হাত রাঙাতে আসেনি। তাঁদের কপালে এবার জুটেনি নতুন জামাও।

২৩ মে শনিবার দুপুরে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘড়ে বেরানো এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে লিলি (১০), লিমন (৯), সূর্য (৬০), জুবায়ের (৭) এর সাথে। প্রতিবেদককে তাঁরা জানায় এবার তাঁদের হাতে মেহেদী দিতে কেউ আসেনি। এবার ঈদে কেউ তাঁদের নতুন জামাও কিনে দেয়নি। হাতে মেহেদী দেওয়া তো দূরের কথা এবার কারো কাছে আবদার করলে উল্টো কথা শুনতে হয়েছে তাঁদের। অনেকেই করোনার বালাই দিয়ে দূর দূর করে তাঁড়িয়ে দিয়েছে।

লিমন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলে, ‘এইবার কেউ মেন্দি (মেহেদী) দিতে আসে নাই। নতুন জামা নিয়াও কেউ আসে নাই। চাইলে আরো কয় যে আমরাই পাই না তগোরে কি দিমু।’

লিলির ভাষ্য, ‘মেন্দি দেওনের কথা কইতে গেলে কয় যে এইবার দিবো না। আগে সবাই আদর করতো। হপাই (এখন) কেউ আদর করে না। সবাই দুরে সরায়া দেয়। কেউ পাত্তা দেয় না। কিছু চাইলে কয় দুরে যা দুরে যা।’

লিলি আরো জানায়, ‘হপাই (কেউ) খাবার কি পানিও দেয় না। কয় যে ভারাসের লাইগা আমরাই তো খাইতে পারি না। তগো দিমু কেমনে? আবার কতগুলা মানুষ আছে তাঁরা আমাগো এখনো আদর করে। মুন্না স্যার (কোনো এক সংগঠনের সদস্য) আজকে আইসা ২০০ ট্যাকা দিয়া গেছে খাওনের লাইগা।’

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাঁরা হয়তো শহীদ মিনারে ঘড়ে বেড়ানো পথশিশুদের সাথে পরিচিত। কিছু সংগঠন নিজেদের প্রচেষ্টায় প্রতিবছরই এসব শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতো। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাসে সেসব সংগঠনের অবস্থাও এখন নাজুক। সংগঠনের সদস্য সহ যে সামান্ন ডোনেশন তাঁরা পেতো সেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন পরিবারের মাঝে বিলিয়ে দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে কারণে এসব পথশিশুদের দিকে অনেক সংগঠন একবারও তাকায়নি।

সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আর্থিক সংকটের কারণে এসব পথশিশুদের পশে দাঁড়াতে না পারলেও আর্থিক সক্ষমতা থাকার পরেও এখনো এগিয়ে আসেনি কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছে অসহায় হতদরিদ্রদের জন্য নিয়মিত লাখ টাকা সহায়তা আসলেও এসব সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের দিকে তাঁরাও সাহায্যের হাত বাড়ায়নি।

এ প্রসঙ্গে একাধিক সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তাঁরা জানান, ‘বিষয়টি আমাদেরকেউ খুব পীড়া দেয়। চাষাঢ়ায় গেলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ছুটে আসে। মেহেদী কবে দিবো, নতুন জামা কবে দিবো জানতে চায়। যে কারণে চাষাঢ়া যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’

‘নারায়ণগঞ্জে যত সেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে সেগুলোর অধিকাংশই শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এসব সংগঠন চলে সদস্যদের দেওয়া মাসিক চাঁদার মাধ্যমে। যে চাঁদা শিক্ষার্থীরা নিজেদের টিউশন ফি কিংবা ফ্যামিলি থেকে পাওয়া পকেট মানি থেকে বাঁচিয়ে ফান্ডে জমা দেয়। এছাড়া কিছু কিছু সংগঠনে মাসিক ডোনেশন আসতো। কিন্তু এবার টিউশন বন্ধ আবার পরিবারগুলোর অবস্থাও ভালো না। ডোনেশনে যে টাকা এসেছিলো সেগুলো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার শুরু থেকেই অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কারণে শেষ হয়ে গেছে। এখন সংগঠনগুলোর আর্থিক কোনো সাপোর্ট পাচ্ছে না। ফলে এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও আমরা করতে পারছি না।’

তাঁরা আরো বলেন, ‘সরকারি ভাবে অনেক সহায়তা আসছে। কিন্তু অজানা কারণে এসব সুবিধাবঞ্চিতরা কিছুই পাচ্ছে না। এ বছর যদি সরকারি ভাবে কিছু দেয় তাহলে খুব ভালো হয়। সে ক্ষেত্রে পথশিশুদের লিস্ট যদি প্রয়োজন হয় আমরা করে দিতে পরাবো। আমাদের কাছে তাঁদের লিস্ট আছে।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও