ডাক্তার শূন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৬ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার

ডাক্তার শূন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মরণ কামড় বসিয়েছে। অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে এই রোগের কারণে চিকিৎসরাও ভীত হয়ে পড়েছেন। যেকারণে নারায়ণগঞ্জের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো প্রায় চিকিৎসক শূন্য হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার চিকিৎসক নেই, শুধুমাত্র টেস্ট করার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো খোলা রাখা হয়েছে। এতে করে রোগিরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

২৮ মার্চ শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে নানা তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জ্বর, সর্দি ও কাশির জন্য রিসিপশনে চিকিৎসক খোঁজা হলে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা সরাসরি জানিয়ে দেন কোন চিকিৎসক নেই। শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করানো হচ্ছে। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই অবস্থা দেখা যায়।

তবে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২-৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। করোনা আতঙ্কের ফলে কেউ এখন চিকিৎসা সেবা দিতে রাজি হচ্ছেনা। এর মধ্যে যদি জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগি হয় তাহলে তো কথাই নেই। যে কোন চিকিৎসক এক বাক্যে ট্রিটমেন্ট দিতে নিষেধ করে দিবে। রোগির অনেক ভীড় রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সালমা বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমার মায়ের আগে থেকেই শ্বাস কষ্টের রোগ ছিল। যেকারণে পপুলারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জাফরের কাছে চিকিৎসা সেবা নিয়েছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ফলে তিনি চেম্বারে বসছেননা। তাই বাধ্য হয়ে মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসেছি। কিন্তু এখানে কোন চিকিৎসক নেই। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’

জামান মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বুকে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। বিকেল থেকে পপুলার ও মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছি। কিন্তু সেখানে কোন চিকিৎসক নেই। তাই চিন্তা করছি কি করবো। তাছাড়া হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই কি করবো বুঝতে পারছিনা।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্র বলছে, চিকিৎসকরা করোনা আতঙ্কে সেবা অনিচ্ছা প্রকাশ করছে। এই অবস্থায় কর্র্তৃপক্ষ তাদের কোনভাবেই জোর করতে পারেনা। তবে অনেকে চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছে সেবা দিতে। কিন্তু করোনার মত অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে রোগের অজুহাত দেখিয়ে সবাই পিছু হাঁটছে। যেকারণে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো দিনে দিনে চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ছে।

মেডিনোভা ম্যাডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হেমায়েত হোসেন হিমেল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, মেডিনোভাতে ২-৩ জন চিকিৎসক রয়েছে। করোনা আতঙ্কে চিকিৎসক কমেছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া সব ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চালু রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই ভাইরাসটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে যা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেনা। তাছাড়া এর কোন ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। সুরক্ষার তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে করে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসকরা যদি এই ভাইরাসে আতান্ত হয় তবে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে আকার ধারণ করবে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও