সেই অস্ত্রভাণ্ডারের খবর জানালেন শামীম ওসমান

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৬ পিএম, ২ মার্চ ২০২০ সোমবার

সেই অস্ত্রভাণ্ডারের খবর জানালেন শামীম ওসমান

‘নিজের কাছে এক সময়ে পুলিশ ফোর্সের চেয়ে বেশী অস্ত্র ছিল’ বক্তব্য দিয়ে যখন আলোচনা সমালোচনা তখন এর পুরো ব্যাখা দিয়েছেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর কাছে অস্ত্র ছিল এটা সঠিক। সেই সব অস্ত্র তিনি জমাও দিয়েছেন। 

শামীম ওসমানের দাবী, ‘তিনি ২০০১ সাল উল্লেখ করলেও মূলত বক্তব্যে সেই সালটি ভুল ছিল। প্রকৃতপক্ষে সালটি হবে ১৯৯১ সাল। ওই বছরেই নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশী অস্ত্র জমা পড়ে।’

২ মার্চ সোমবার বিকেলে নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে শামীম ওসমান এর আগেরদিনের সেই বক্তব্যের ব্যাখা দেন।

রোববার নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২০’ আলোচনা সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই ইদানিং ওয়াজে যাই অনেকে টিটকারী করে। ২ বেলা কোরআন শরীফ পড়ি। ২২ বছর ধরে তাহাজ্জুদ ছাড়ি নাই। ২০০১ এর আগের শামীম অন্যরকম ছিল। আপনার (পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে) টোটাল ফোর্সের কাছ যা অস্ত্র ছিল তার চেয়ে বেশী আমার কাছে অস্ত্র ছিল। কিন্তু আজকে আমার গাড়িতেও অস্ত্র ছিল কি না জানি না। ২০০১ সালের আগের আমার রাজনৈতিক দর্শন আগে ছিল একরকম। জিন্দাবাদ শুনতে ভালো লাগতো। তখন আমার কাছে যে অস্ত্র ছিল আপনার ফোর্সের কাছেও ২০০১ সালের পরে আমার এই চিন্তা পরিবর্তন হয়েছে।’

এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সোমবার নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে শামীম ওসমান ওই বক্তব্যের ব্যাখা প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে শামীম ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘১৯৭৫ এর পরে যখন আমরা রাজনীতি করতে এসেছিলাম তখন দেশে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, স্বাধীনতা বিরোধীকারী চক্রের লোকজন ওপেন ছিল। বঙ্গন্ধুকে মেরে ফেলার পর আমরা মনে করেছিলাম প্রতিশোধটা আমরা হত্যার মাধ্যমে নেবো। নারায়ণগঞ্জে ইসমত হাশেম ও বজলুল হুদারা তখন ওপেন রাজনীতি করতো। সঙ্গে তাল মিলাতো বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধীরা। তাদের হামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকতে বাঁচার জন্যই অস্ত্র রাখতে হয়েছিল। তবে এসব অস্ত্রের কোন অবৈধ ব্যবহার আমরা করি নাই। তখন আমাদের হাতে কেউ মারা যায়নি। বরং আমরাই মারা গেছি তাদের হামলাতে। আমরা কাউকে আঘাত করি নাই।

নির্যাতনের পরিসংখ্যান জানাতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘১৯৭৯ হতে ২০০১ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত আমাদের ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রতিপক্ষের হামলায় নির্যাতনে। একজনের লাশ দাফন করার জানাযাতে গিয়ে শুনি আরেকজনের নিহতের খবর। তাদের সকলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনবারের এমপি শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘রক্তের বদলে রক্ত, হত্যার বদলে হত্যার রাজনীতি আমরা করি নাই। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এ শিক্ষা দেয়নি। বরং বিরোধীরা বার বার আমাদের উপর আক্রমন করেছে। আমাদের তাজা প্রাণগুলো কেড়ে নিয়েছে। আমাদের নেত্রী আমাদের বলেছেন হত্যার বদলে হত্যা না বরং আইনের মাধ্যমেই বিচার হবে। আমরা তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি নাই। বরং এখন উপলব্দি করছি নেত্রী সঠিক ছিলেন।’

শামীম ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘১৯৯১ সালে নারায়ণগঞ্জের এসপি ছিলেন মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী সাহেব। এরশাদ সরকারের পতনের সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী অস্ত্র জমা পড়েছিল নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই। তখন দেশে গণতন্ত্র ফেরত ও কায়েমের পরেই নির্দেশনা ছিল অস্ত্রগুলো জমা দেওয়ার। যেহেতু তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্স করতাম সেহেতু অস্ত্র ছিল নিজেদের রক্ষার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য। এগুলো আমরা কখনই অন্যায় অবৈধ কাজে ব্যবহার করি নাই। শুধুমাত্র নিজেদের হেফাজতের জন্য ছিল।’

‘১৯৯১ সালে আমাদের নেতাদের নির্দেশেই অস্ত্রগুলো জমা দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসার পর তার আর অস্ত্রের প্রয়োজন হয়নি। তখন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মমিনউল্লাহ পাটোয়ারীর কাছেই আমরা সর্বোচ্চ অস্ত্রগুলো জমা দিয়েছিলাম। আনঅফিসিয়াল সবগুলো অস্ত্র আমরা জমা দেই’ বক্তব্যে যোগ করেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘১৯৯৬ হতে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। তখন তো আমাদের অস্ত্রের প্রয়োজন হয়নি।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতি করি নাই। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে আমার বড় ভাই সেলিম ওসমানের কারখানাতে বিএনপির লোকজন ঢুকে গুলি করতে করতে রাজহাসের গলা কেটে, গরুর বান কেটে দিয়েছিল। আরো অনেক অত্যাচার হয়েছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে কাউকে ফুলের টোকা পর্যন্ত দেই নাই। কারণ আমাদের নেত্রীর কাছ থেকে এসব শিক্ষা পাইনি না। নেত্রী আমাদের ধৈর্য সহনশীল রাজনীতির শিক্ষা দীক্ষা দিয়েছেন।’

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা বিস্ফোরণে আহত হন শামীম ওসমান। তিনি সে রাতে নেতাকর্মী ও লোকজনদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সময়ে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে যেখানে শক্তিশালী আরডিক্স ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে ২০ জন নিহতের সঙ্গে অর্ধশত আহত হয়। স্লিন্টারে বিদ্ধ হন শামীম ওসমান। ওই সময়ে তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়েও বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচান।’ মূলত এর পরেই একুশে আগস্টেও শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘‘‘নারায়ণগঞ্জে এখন আর কোনো অস্ত্রের রাজনীতি নাই। এখন সবচেয়ে বেশি শান্তি বিরাজ করছে।’’


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর