লকডাউন কাজ না দিলে নারায়ণগঞ্জে কারফিউ লাগবেই : আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৩ পিএম, ৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার

লকডাউন কাজ না দিলে নারায়ণগঞ্জে কারফিউ লাগবেই : আইভী

নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঘরে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, ‘এ সময়ে নারায়ণগঞ্জে লকডাউন চলছে। আমাদের নিজের স্বার্থে, জীবনের প্রয়োজনে এ করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে ঘরে থাকা ছাড়া বিকল্প নাই।’

৮ এপ্রিল বুধবার মেয়র আইভী নিউজ নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমে এ আহবান জানান।

এর আগে ৫ এপ্রিল রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরী সভায় ৬ এপ্রিল থেকে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর থেকে কঠোর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে জরুরী পরিসেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি এর আওতাবহির্ভূত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশন্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।’

বুধবার মেয়র আইভী বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব ও পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, টহল ও কাজ করলেও অনেক এলাকাতে লোকজন এখনো নানা অজুহাতে বাসা থেকে বের হচ্ছে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক খবর। আমাদের সকলকেই এখন সরকারী নির্দেশনা মেনে চলা অতিব জরুরী। কারণ এ করোনা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো ঘরে থাকা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা।’

আইভী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৩১টি পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো মেনে চলতে হবে। বাড়িতে থাকা লোকজনদেরও সচেতন থাকতে হবে।’

‘তাই আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে বলবো দয়া করে আপনারা ঘর থেকে বের হবেন না। ঘরে থেকেই এ করোনা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। ঘরে থেকে সকলকে সচেতন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চললেই আমরা করোনা থেকে পরিত্রাণ পাবো।’

প্রসঙ্গত এরই মধ্যে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, আক্রান্তদের মধ্যে যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসার তথ্য আমরা তেমন একটা পাইনি। এখন এটি লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এখন আর এ রোগ বিস্তারের জন্য প্রবাসীদের প্রয়োজন হচ্ছেনা। তাই সকলকে এখনি সচেতন হতে হবে, ঘরে অবস্থান করতে হবে। কোনভাবেই বাইরে বের হওয়া যাবেনা।

মরণঘাতী ভয়াবহ করোনা ভাইরাসে ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। ঢাকার পরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা। এজন্য নারায়ণগঞ্জকে করোনার ক্লাস্টার বলছে আইইডিসিআর। পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার ব্রিফিংয়ে বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেখানে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ওখান থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।”

ক্লাস্টার এলাকার বিষয়ে ফ্লোরা বলেন, “যদি কোথাও একই জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে একাধিক রোগী থাকে তখনই আমরা সেটাকে ক্লাস্টার হিসেবে আইডেন্টিফাই করে ইনভেস্টিগেশন করে থাকি।”

উল্লেখ্য সিটি এলাকায় ইপিজেড, গার্মেন্টস, হোসিয়ারীসহ ভারী শিল্প কল কারখানার পাশাপাশি চাল, ডাল, আটা, ময়দা, লবণসহ নিত্য পণ্যের পাইকারী বাজার রয়েছে বিধায় এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি অত্যাধিক।

এদিকে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইভী বলেন, লকডাউন হয়েছে। কিন্তু পাড়ায় মহল্লায় মানুষ এখনো হাঁটাহাঁটি করে। সচেতনতার অভাব আছে। নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রতিটি মহল্লায় প্রচুর মানুষ। তারা যদি না শোনে, তাহলে তো সর্বত্রগামী হয়ে তাদের পক্ষে ভূমিকা রাখা কঠিন হবে।

প্রথম আলোর একটি প্রশ্ন ছিল - লকডাউন নয়, মানুষ ভালো বোঝে কারফিউ বা ১৪৪ ধারা। এমন কিছু করলে তা আরও কার্যকর হতো?

জবাবে মেয়র বলেন, আমি আগেই বলেছি, নারায়ণগঞ্জ অতি ঘনবসতিপূর্ণ। তাই কারফিউ জারি করাটাই হয়তো সমীচীন হতো। আমি কিন্তু আমার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লকডাউন বা কারফিউ দুটোই বলেছি। এখন এটা অনুধাবন করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এখন যদি এখানে প্রতিদিনই পজিটিভ বাড়তে থাকে এবং লকডাউনেও অসচেতনতা থাকে, তখন হয়তো কারফিউ অবশ্যই দরকার হবে। এটি বাণিজ্যিক নগরী, নিতাইগঞ্জ থেকে সারা দেশে চাল-ডালের মতো প্রচুর কাঁচামাল যাচ্ছে, তাই এসবের সরবরাহ খোলা রেখেই যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমার যে কিছুটা শঙ্কা ছিল সেটা হলো, যেহেতু রোগটি দ্রুত ছড়ায়, আমরা ঘনবসতিপূর্ণ, আর এখানকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ইতালি, চীন ও জাপানে থাকেন, আর ইপিজেড ও বিসিককে ঘিরেও বিপুলসংখ্যক বিদেশি ঘোরাঘুরি করেন, তাই সংশয় একটা ছিলই। আমরা তো বলতে পারি না, কে কোথা থেকে ছড়াবে। মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ খুব লাগোয়া থাকাটাও একটা ভয়ের কারণ। ইতালি বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে অনেকেই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অবাধে ঘুরেছেন, বুঝতে পারেননি।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর