লকডাউনের চেয়ে কারফিউ ১৪৪ ধারা সবাই ঠিকমত বুঝে : আইভী

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৩ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২০ রবিবার

লকডাউনের চেয়ে কারফিউ ১৪৪ ধারা সবাই ঠিকমত বুঝে : আইভী

‘‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ লকডাউনের চেয়ে কারফিউ কিংবা ১৪৪ ধারা ঠিকমত বুঝে ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে’’ মন্তব্য করে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেছেন, ‘আগে যা ভুল হওয়ার হয়েছে, যা হওয়ার হয়েছে এখন সেগুলো নিয়ে আলোচনা কিংবা ভাববার সময় নাই। এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কঠোর হতে হবে।’

বেসরকারী টিভি চ্যানেল যমুনা ও চ্যানেল আইয়ের পৃথক দুটি টক শোতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে আইভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি শ্রমিক অধুষ্যিত এলাকা। এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন বসবাস করে। প্রচুর শিল্প কারখানায় লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করে। ফলে এ জনপদটি অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। হঠাৎ করে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার খোলা হয়েছিল। এ কারণে শ্রমিক যাতায়াত করেছিল। এটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু এখন আসলে এসব নিয়ে কথা বলার সময় নাই। এখন আমাদের এ অবস্থার উত্তরোণ ঘটাতে হবে।

আইভী বলেন, মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। এটাকে থামানো যাচ্ছে না। তাই প্রশাসনকে আরো হার্ডলাইনে যেতে হবে কড়াকড়ি হতে হবে। আমাদের নারায়ণগঞ্জের কিংবা অন্যরাও লকডাউন শব্দের সঙ্গে পরিচিত না। হয়তো সে কারণেই লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে। এখানকার মানুষ কারফিউ কিংবা ১৪৪ ধারাকে বেশী বুঝে।
তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমার সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ৩৬ জন কাউন্সিলর, সুইপার থেকে শুরু করে আমার পরের সিও পর্যন্ত দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমাদের মেডিক্যাল টিমগুলো দিনরাত কাজ করছে। শুরুতে সকলের মধ্যে কিছুটা ঢিলেঢালাভাব থাকলেও এখন সেটা নাই। অনেক এলাকাতে লোকজন মারা গেলেও এখন সিটি করপোরেশনের দাফন দাহ করতে হচ্ছে। কাউন্সিলররা সিটি করপোরেশনের টিম এসব নিয়ে কাজ করছে। একদিকে যেমন করোনা নিয়ে সতর্কতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে অন্যদিক বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ পৌছানো হচ্ছে।

এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঘরে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, ‘এ সময়ে নারায়ণগঞ্জে লকডাউন চলছে। আমাদের নিজের স্বার্থে, জীবনের প্রয়োজনে এ করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে ঘরে থাকা ছাড়া বিকল্প নাই।’

এর আগে ৫ এপ্রিল রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরী সভায় ৬ এপ্রিল থেকে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর থেকে কঠোর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল জানানো হয়, সারা দেশে সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে বের হওয়া যাবে না। বের হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে অনুরোধ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত থাকবে। আর বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

কিন্তু তার পরেও নানা অজুহাতে শহরে লোকজনকে দেখা যায়। বিশেষ করে পাড়া মহল্লাতে লোকজনদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশী।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর