করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে চিকিৎসায় সুস্থ নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন

বাংলানিউজ হতে নেওয়া || ১১:৫৮ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে চিকিৎসায় সুস্থ নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে ৭ দিন চিকিৎসা সেবা নিয়ে এখন সুস্থ আছেন। ইতোমধ্যেই দুইবার পরীক্ষা করে তিনি করোনামুক্ত হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঠিক কিভাবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি নিজে নিজে সুস্থ হয়ে উঠেছেন সে ব্যাপারে জানতে চাইলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজের চিকিৎসার বিস্তারিত তুলে ধরে নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এখন তিনি বিশ্রামে রয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে আবারো তিনি নিজের দায়িত্বে কাজ শুরু করবেন। তবে তিনি এখনো মুঠোফোনে তার দাপ্তরিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডা. ইমতিয়াজ জানান, আমি শুরু থেকেই সুস্থতা অনুভব করছিলাম। আমার জ্বর ঠান্ডা কাশি কিংবা অন্য কোন উপসর্গ ছিলনা। আমার জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যিনি করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধি তিনি আক্রান্ত হবার পর তাদের সংস্পর্শে থাকায় আমার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে আমার শরীরে। তখনি আমি নিজে বাড়িতে আইসোলেশনে চলে আসি। তারপর ৭ দিনের চিকিৎসা সেবা নিজেই নেই।

তিনি জানান, ৯ এপ্রিল আমার নমুনা সংগ্রহের ফলাফল আসে পজিটিভ। সেদিন থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিন আমি নিজেই বাড়িতে চিকিৎসা সেবা নেই। পরে ১৬ এপ্রিল আবারো প্রথম টেস্ট ও ১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় টেস্ট করানো হলে সেখানে পরপর দুবার আমার করোনা ফলাফল নেগেটিভ আসে। এতে করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে আমি নিশ্চিত হই আমি করোনা মুক্ত।

সিভিল সার্জন জানান, আমি প্রতিদিন নিয়মিত ৪ থেকে ৫ বার গরম পানিতে গারগিল করতাম। আমি পানিতে ভিনেগার ও লবন ব্যবহার করেছি। নিয়ম করে প্রতিদিন একাধিকবার গরম পানির ভাব নিয়েছি। প্রতিদিন গোসল করেছি এবং আমার জামাকাপড় আমি ধৌত করেছি। আমার বিছানার চাঁদর এবং বাথরুম আমি প্রতিদিন কিংবা কখনো একদিন পরেই পরিষ্কার করেছি। আমি নিজে একাকি আইসোলেট থেকেছি একেবারেই সবার থেকে আলাদা। প্রতিদিন আমার টেবিলে খাবার রেখে চলে গেলে আমি খেয়ে সেটি পরিষ্কার করেছি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে আল্লাহকে স্মরণ করেছি তবে তেমন কোন ওষুধই আমি সেবন করিনি। কারণ এ রোগের কোন ওষুধ নির্দিষ্ট নেই।

তিনি জানান, সকালে একবার এক গ্লাস গরম পানির সাথে আধা চা চামচ ভিনেগার মিশিয়ে গারগিল করেছি। বিকেলে আরেকবার করেছি। একইভাবে সকালে একবার এক গ্লাস গরম পানির সাথে এক চিমটি লবন মিশিয়ে গারগিল করেছি, রাতেও করেছি। দিনে রাতে একাধিকবার গরম পানির ভাব নিয়েছি। ভিনেগার একটি এ্যাসিড, এতে জীবাণুর মৃত্যু ঘটে। একইভাবে গরম পানিতে লবনও কার্যকরী। এভাবেই আমি সুস্থ হয়েছি, এর বাইরে আমি আর কিছুই করিনি।

ডা. ইমতিয়াজ আরো জানান, তিনি এ সময়টাতে প্রচুর ভিটামিন `সি` জাতীয় খাবার ও ফল খেয়েছেন। শাকসবজিও প্রচুর পরিমাণে খেয়েছেন। নিয়মিত খেয়েছেন লেবু, মালটা, আপেল, কমলা।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর