হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকেরা অবহেলিত

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:১৬ পিএম, ১১ মে ২০২০ সোমবার

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকেরা অবহেলিত

মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলে ও তাদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে স্বীকার করলেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ দিলীপ কুমার রায়।

তিনি বলেন, এলোপ্যাথিক চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য কর্মীদেরকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জন প্রশাসন সহ এমপিরা দেখভাল দেখছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের জন্য একশত কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন। আমরা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড ৫১ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক মেডিকেল টিম এবং ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় পযায় চিকিৎসাসেবা টিম গঠন করেছি।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করার নির্দেশ দিয়েছি। সারা বাংলাদেশে যতগুলো হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রয়েছে সেখানে বহিবিভাগে প্রতিনিয়ত করোনা উপসর্গ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

আমরা সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসকদের জীবনের নিরাপওা হিসেবে পিপিই সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেয়েছি। তবে প্রণোদনা বিষয়ে স্থাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে লিখিত প্রস্তাব রেখেছি এখনো সাড়া দেননি।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিষ্টার ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রণোদনা দেন বা নাইবা দেন তা দেখা দরকার নাই আমরা আল্লাহর সন্তুুষ্টির লাভের জন্য মানব সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

চিকিৎসেবাকালীন অবস্থায় কোন চিকিৎসক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কোন সহায়তা করবেন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাহায্যে সহযোগীতা করার মত আমাদের কোন সুযোগ নাই।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসকদেরকে যোদ্ধা হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে অথচ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের কে এ ব্যাপারে অনেকটা খাটো করে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন, আমাদের মূল্যায়ন করার বিষয়ে ইতোপূর্বে স্থাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ ডিজি মহোদয়ের কাছে লিখিতভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে পৃথক ২টি কমিটিতে ২ জন চিকিৎসককে রাখা হয়েছে বলে ডাঃ দিলীপ কুমার রায় স্বীকার করেন।

তারা হলো নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি মাত্র হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ কামারুজ্জামান ভূইয়া ও একই কলেজের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আশরাফুর রহমান।

ডাঃ কামারুজ্জামান ভূইয়াকে হাসপাতালের বহিবিভাগে নিয়মিত চিকিৎসার কাযক্রম অব্যাহত রাখা সহ জেলা পযায়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করার নিদেশ দেন ডাঃ দিলীপ কুমার রায়।

এ ব্যাপারে ডাঃ কামারুজ্জামান ভূইয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি সহ সহকারী অধ্যক্ষ ডাঃ শারমীন আক্তার এবং সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সাঈদ হাসান খান নিয়মিত হাসপাতালের বহিবিভাগে করোনার উপসগ সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানব সেবায় প্রতিনিয়ত সময় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা হিসেবে মাত্র ২ দফায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোড থেকে ১২ টি পিপিই পেয়েছি যা সীমিত।

এ ব্যাপারে ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন, উনি আমার কাছে পিপিই চাইলে আরো নিতে পারতেন। আমি তাকে বলছি তোমার হাসপাতাল পরিচালনা সহ নারায়ণগঞ্জ জেলায় যে সকল সংগঠন রয়েছে তাদেরকে পিপিই দেয়ার জন্য বলছি। এই বিষয়ে তার গাফলতি রয়েছে। এছাড়া তাকে জেলা মেডিকেল টিম গঠন করার জন্য বলা হয়েছে সে ব্যাপারে ও তার চরম ব্যর্থতা রয়েছে বলে স্বীকার করেন ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

এ ব্যাপারে ডাঃ কামারুজ্জামান ভূইয়া বলেন, অচিরে জেলা মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।

তবে ডাঃ দিলীপ কুমার রায় ও ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম যে সকল চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে চিকিৎসা প্রদান করছেন তাদের দেখভাল সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অপরদিকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ঐক্য ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ এর সভাপতি ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ হারুন-অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলোপ্যাথিক চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের জয়গান।

এমনকি তাদের ব্যক্তিগত চেম্বার গুটিয়ে পালিয়ে থাকলে ও তাদের কদর বেশী। ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একশত কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া জনপ্রশাসন সহ এমপিমহোদয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সর্বোপরি সহযোগীতা পাচ্ছেন।

অথচ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, ইউনানী ও আয়ুবেদিক চিকিৎসকদের কোন খবর রাখেননি কেউ। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বার সহ মাঠ পযায়ে করোনা ভাইরাস উপসর্গ রোগীকে চিকিৎসা না দিতো তাহলে নারায়ণগঞ্জের অবস্থা আরো মহামারী আকার ধারণ করতো।

প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসের লক্ষণভিওিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীদেরকে। এতে আরোগ্য লাভ করছে শতভাগ। বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত গুজরাটে ৭৬ লাখ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন।

ঢাকা স্বামীবাগে ইসকন আশ্রমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পজেটিভ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ বিপুল সরকারের চিকিৎসা নিয়ে আরোগ্য লাভ করেছেন এবং রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তেমনিভাবে নারায়ণগঞ্জে ও বহু রোগী হেমিওপ্যাথিকি চিকিৎসা নিয়ে করোনার ভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভ করছেন।

তাই বলতে চাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদেরকে খাটো করে না দেখে প্রধান মন্ত্রী থেকে শুরু করে, হোমিওপ্যাথিক বোর্ড, স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক সহ জনপ্রতিনিধিদেরকে দেশব্যাপি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের প্রতি সু-দৃষ্টি রাখার দাবী জানান।


বিভাগ : সাক্ষাৎকার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর