করোনা কালীন মানসিক স্বাস্থ্যে ক্ষতিকারক প্রভাব


প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ১৫ মে ২০২০, শুক্রবার
করোনা কালীন মানসিক স্বাস্থ্যে ক্ষতিকারক প্রভাব

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীটি দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান হারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটি সাধারণ জনগণ তথা প্রাপ্তবয়স্ক, পেশাদার ও সম্মুখে সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ এবং দেশে বিদ্যমান অন্যান্য রোগাক্রান্ত মানুষের মাঝে এক ধরনের আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান দুটির এবারের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিলো করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিভিন্ন স্তর অনুসন্ধান করা। আমরা সকলেই অবগত আছি যে ক্রমবর্ধমান লকডাউন এর ফলে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যার মধ্যে অনিদ্রা, মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়া ইত্যাদি বিষয় উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এই সকল বিষয়ে আমাদের কাছে স্পষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। উক্ত বিষয় সমূহকে সংখ্যাতাত্ত্বিক উপস্থাপন ও নিদৃষ্টকরন এই গবেষণায় আলোকপাত করা হয়েছে।

এ গবেষণাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি ক্রস সেকশনাল সমীক্ষা পরিচালনা করে যা ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং স্কুল অব সায়েন্স এন্ড হেলথ, ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লক-ডাউন চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সং-মিশ্রিত এবং স্বপ্রণোদিত অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয় যেখানে ১০,৯০০ (দশ হাজার নয় শত) জন উত্তরদাতাদের মধ্যে ১০,৬৬০ (দশ হাজার ছয় শত ষাট) জন উত্তরদাতা প্রশ্নপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করে।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, ১০,৬৬০ (দশ হাজার ছয় শত ষাট) জন উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষ (৪. ৯১%), মহিলা (৫০.৪%) এবং অন্যান্য (০.৫%)। ৬১.৬% অংশগ্রহণকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছর এবং ৫৬.৪% উত্তরদাতা পূর্ণকালীন বা খ- কালীন কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। বেশিরভাগ উত্তরদাতা (৩৩.৯%) ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৮০.২% পরিবারের সাথে থাকছেন এবং তাদের মতে সংকটকালে পরিবারের সাথে বসবাস করার কারণে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে, ১,১৮৫ (এক হাজার এক শত পঁচাশি) জন উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা ইতোমধ্যে (কোভিড ১৯) পরীক্ষা করাতে সক্ষম হয়েছেন এবং এর মধ্যে ২৯.২০% এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

এ গবেষণায় দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৯১.৪% এ মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে ৭২.৮% উত্তরদাতা অনিদ্রায় ভুগছেন, ৭১.৬% উত্তরদাতা এ মহামারী পরিস্থিতিতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, এবং ৬৩.৫% উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। ৬৮.২% উত্তরদাতাদের মতে এ মহামারী পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে তারা আতঙ্কিত এবং বেশিরভাগ (৫৯.৪%) উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে অনিদ্রা, বিরক্তি, বিমলতা, উদ্বিগ্ন অবস্থা, নেতিবাচক চিন্তা, আতঙ্ক এবং উত্তরদাতাদের হতাশা থেকে সহজেই দাবি করা যায় যে করোনা ভাইরাস (কোভিড ১৯) মহামারীটি বাংলাদেশের মানুষের মানসিক অবস্থার উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।

এ গবেষণাটির চিফ ইনভেস্টিগেটর ছিলেন বেরোবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও এবং সহযোগী ইনভেস্টিগেটর ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আবির ও ড. কিংসলে এগো, সিনিয়র লেকচারার, স্কুল অব সায়েন্স এন্ড হেলথ, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া। সহকারী গবেষক হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে দেওয়ান মুহাম্মদ নূর-এ ইয়াজদানি, সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি ও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর প্রভাষক ত্বহা হুসাইন এবং মোঃ হাবিবুর রহমান, এম ফিল রিসার্চ ফেলো, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর সহ অন্যান্যরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
শিক্ষাঙ্গন এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর