একই পরিবারের ৭ জনের করোনা জয়


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৮ মে ২০২০, শুক্রবার
একই পরিবারের ৭ জনের করোনা জয়

নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তেমনি আবার বাড়িতে থেকেও চিকিৎসা গ্রহণ করে এ রোগ থেকে পরিত্রাণও পাচ্ছেন অনেকে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন, সদর উপজেলার কর্মকর্তা, শীতলক্ষা সম্পাদক আরিফ আলম দিপু সহ অনেকেই বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তারা শুরুতে করোনা পজেটিভ থাকলেও পরে নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে।

এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী ও তার পরিবার। এ পরিবারের সাত জন করোনা ভাইরাস জয় করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শিবনাথ সপরিবারে শহরের নতুন পালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

শুক্রবার ৮ মে এ বিষয়ে শিবনাথ চক্রবর্তীর ছেলে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিশির চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের পরিবারে ৮জন সদস্য, তার মধ্যে সাতজনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হই। ১৩ এপ্রিল ঢাকায় আসগর আলী হাসপাতালে করেনা পরীক্ষা করাই। ১৫ এপ্রিল আমার জেঠুর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরপর কী করবো কোথায় নেবো চিন্তায় পরে যাই। এর মধ্যে আমার বাবা অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। হাসপাতালের নেওয়ার কথা শুনে জেঠু মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েন।’

‘এরপর আমি বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমকে ফোন করে জানতে চাই ঢাকায় কোন হাসপাতালে ভর্তি করবো। মাসুম আমাকে বলে হাসপাতালের অবস্থা ভালো না, রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। বাড়িতেই চিকিৎসা করাতে হবে। তারপর আমি ফোন করি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ সাহাকে। তিনি সব শুনে আমাদের আশ্বস্ত করলেন বাসায় চিকিৎসা সম্ভব। যদি দরকার হয় তাহলে তিনি খানপুর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।’

‘জেঠুকে বাসাতেই আইসোলেশানে রেখে চিকিৎসা শুরু করলাম। গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. ফারুক আহমেদ, ডা. এস চক্রবর্তী, ডা. ফজলুর রহমান, ডা. সালাউদ্দিনসহ সবার চিকিৎসা পরামর্শে খুব দ্রুত জেঠু সুস্থ হতে থাকেন। এর মধ্যে আমি সিটি করপোরেশনের হটলাইনে ফোন করে করোনা পরীক্ষার জন্য পরিবারের সবার নাম জমা দেই। ১৭ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর থেকে লোক আসে, সবার নমুনা নিয়ে যায়। ১৯ এপ্রিল জেঠু ও কাকলী (গৃহ পরিচারিকা) ছাড়া আমাদের ছয়জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ততদিনে বাসার অন্যদের জ্বর কমতে শুরু করলেও আমার ও মায়ের জ্বর কমছিল না। আমার জ্বর ১০৩ ডিগ্রি, সঙ্গে বমি এবং খাওয়া প্রায় বন্ধ। নাপা খেলেও জ্বর কমছে না, পাশাপাশি একটু পরপর বমি। এক দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে সময় কাটিয়েছি। রাতে ঘুম নেই। মনে হয় এই বুঝি আমার সব শেষ। আমার স্ত্রী মনিকা ও বাবা করোনা পজিটিভ নিয়েও আমার সুস্থতার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। শুধু আমার না, পরিবারের সবার জন্যই এখনো দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। ২০ এপ্রিল থেকে আমার শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করলো। আমার আবার রক্ত পরীক্ষা করা হলো। পুরানো লিভারের সমস্যা দেখা দিলো। ডাক্তারের পরামর্শে স্যালাইন ও বমির ইনজেকশন দেওয়া হলো। তাও ঠিক হলো না। আমাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর ঢাকা আইইডিসিআর থেকে টেলিমেডিসিনের ডাক্তার মেহেদী হাসান ফোন করে সবার খোঁজ খবর নিলেন। সঙ্গে কে কী ঔষধ খাবো তা বলে দিলেন। আমার শরীরের অবস্থা শুনে আইইডিসিআরের ডা. মেহেদী ও ডা. ফজলু ভাই দিনে ৩/৪ বার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘২৫ এপ্রিল থেকে আমি একটু একটু করে সুস্থ হতে থাকলাম। পরে গত ২ মে আইইডিসিআর থেকে পাওয়া রিপোর্টে সবার (৭ জনের) কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। পরবর্তীতে ৪ মে আবারও পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া হয়। এ রিপোর্ট আগামী সোমবার পাবো আশা করছি তাতেও নেগেটিভ আসবে। এখন আমাদের পরিবারের সব সদস্য সুস্থ আছেন। করো কোন সমস্যা নেই। পরবর্তী রিপোর্টের জন্য এখনও আমরা আইসোলেশনে আছি। সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি।

শিশির চক্রবর্তী বলেন, ‘এটি কোনো ভয়ের রোগ না, কঠিন কোনো রোগও না। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া খুব বেশি সমস্যা না হলে আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাহসের সঙ্গে এ রোগ মোকাবিলা করতে হবে। গরম পানি পান এবং গরম পানি দিয়ে কয়েকবার কুলকুচি করতে হবে। পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হবে। অবশ্যই ডাক্তারের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর