প্রভাবশালী সচেতনরাও অমানবিক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ২৩ মে ২০২০, শনিবার
প্রভাবশালী সচেতনরাও অমানবিক

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ধারাবাহিক ভয়াল আক্রমণে বিপন্ন করে দিয়ে যাচ্ছে মানব জীবন। দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে মানুষের মানবিকতা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জনজীবন। কেউ কারও সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে না। যাদের জন্য জীবনের সমস্ত খাটুনি দিয়ে গড়েছেন সম্পদ সন্তানদের করে শিক্ষিত সেই পরিবারের সদস্যদেরও অন্তিম মুহূর্তে কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন দেশের প্রভাবশালী মহলেরও কেউ কেউ। যাদেরকে সাধারণ মানুষজন আইকন কিংবা সচেতন নাগরিক হিসেবেই জেনে থাকে। কিন্তু এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালিন সময়ে এসে তারাও অসচেতনতা ও অমানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মৃত্যু হয় গত ২৯ মার্চ। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সেই সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। প্রায় প্রতিদিনই তিন থেকে চারজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। আর এই মৃত্যুর অন্যতম ভয়াবহ দিক হচ্ছে কেউ কাছে ঘেঁসতে চান না। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন মৃত ব্যক্তির সাথে ভাইরাস থাকা কিংবা সংক্রমনের কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো রকমের ঝুঁকি ছাড়াই কাফন দাফন কিংবা সৎকার করতে পারেন।

সেই সাথে গত ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে বিশেষ ওএমএস এর কার্য ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে দাফন ও সৎকার প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়ায় না। আমরা যেন সৎকার দাহ দাফন করি। এতে ভয় পাওয়ার কিছু না। করোনাকে ভয় না বরং জয় করতে হবে। ভালো থাকুন নারায়ণগঞ্জবাসী। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই। আপনারা সহযোগিতা করলে অবশ্যই আমরা জয়ী হবো।

তারপরেও সংক্রমনের শঙ্কায় কেউ মৃত ব্যক্তির ধারে কাছে কেউ ঘেঁষছেন না। সহপাঠি কিংবা আত্মীয় স্বজন তো দূরের কথা এমনকি পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত কাছে ঘেঁষছেন না। লাশ দাফন কাফন ও সৎকারে কেউ অংশগ্রহণ করছেন না। নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রতিনিয়তই ঘটে যাচ্ছে এসকল ঘটনা। দূর থেকেই স্বেচ্ছাসেবীদেরকে বলা হচ্ছে লাশ নিয়ে কাফন দাফন কিংবা সংকার করে ফেলার জন্য। এই চরম অমানবিকতার সরিয়ে এসে যোগ দিচ্ছেন দেশের প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ। যাদেরকে সাধারণত সচেতন নাগরিক হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেছে লাশ দাফন ও সৎকারের সংখ্যায়। তিনি গত কয়েকদিনে এমন কয়েকজনের লাশ দাফন ও কাফন করেছেন যাদের মধ্যে দেশের প্রভাবশালী মহলের আত্মীয় স্বজন রয়ে গেছে। একই সাথে সংসদ সদস্যেরও আত্মীয় রয়েছে। যাদেরকে মানুষ সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবেই চিনে থাকে। কিন্তু তারাই এই করোনাকালিন সময়ে তাদের আত্মীয় স্বজনদের লাশ কাফন দাফনে এগিয়ে আসছেন না। এমনকি শেষবারের মতো একবার দেখেও যাননি তারা। তাদের আত্মীয় স্বজনরা একা একাই অুসস্থ অবস্থায় কাতরাতে কাঁতরাতে মারা গেছেন। আর মারা যাওয়ার পর দূর থেকেই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে অনুরোধ করেছেন লাশ কাফন দাফনের জন্য। দেশের প্রভাবশালী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিতদের দ্বারাই এমন অমানবিক আচরণ ফুটে উঠেছে।

এর আগে গত ১৯ মে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে (৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফতুল্লা এলাকার এক নারীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ নিতে আসেননি তার পরিবারের কেউ। পরে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তার তার লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়।

ঠিক একইভাবে গত ১০ মে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় করোনা আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর সময় ওই নারীর আত্মীয় স্বজন কেউ ছিল না। এমনকি মৃত্যুর পর যেন পরিবারের সদস্যদের কোনো খোঁজ না পায় সেজন্য রেজিস্টার খাতায় ভুল ঠিকানা দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেছিলেন, ‘বিকেলে আমি মৃত্যুর খবর পায়। মৃত্যুর পরে স্বামী ও পরিবারের লোকজন মৃতদেহ ফেলেই চলে যান। পরে আমরা পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু রেজিস্টার খাতায় ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় অসম্পূর্ণ ভুল ঠিকানা লেখা হয়েছে। সে মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়েছে সেটাও ভুল নাম্বার দেয়া হয়ে। যা খুবই অমানবিক বিষয়। পরে আমি স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেব হাসপাতাল হতে লাশ গ্রহণ করে দাফনের জন্য হস্তান্তর করেছি।’

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনে ১০ নং ওয়ার্ডের এক বৃদ্ধা করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। কিন্তু তার মৃত্যু খবর শুনে এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পরিবারের লোকজনও সংক্রমনের ভয়ে কাছে আসছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন নিজে ছুটে যান সেই বাড়িতে। লাশ দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেন তিনি। কিন্তু লাশ দাফনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ভ্যান ঠিক করা হলে সেই ভ্যান চালক করোনার কথা শুনে পালিয়ে যান। ফলে কাউন্সিলর নিজেই ভ্যান চালিয়ে লাশ নিয়ে দাফন করেন।

ঠিক এমনই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল ২৬ এপ্রিল রোববার। এদিন দুপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাসার সিড়িতেই মারা যান খোকন সাহা। খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় একটি বাড়ির চতুর্থ তালায় বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। বেশ কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন। এর মধ্যেই অবস্থা গুরুতর হয় তাঁর। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফোন করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকেন স্ত্রী তৃশা সাহা। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। বাধ্য হয়ে শ্বাশুরির সহযোগীতা নিয়ে নিজেই হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সিড়িতে করে নামতে থাকেন। কিন্তু অসুস্থ শরীর সিড়ি বেয়ে নামার ধকল নিতে পারেনি। তিন তালাতে নামার পরেই শরীর ছেড়ে দেয়।

খোকন সাহার স্ত্রী তৃশা সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় আছিল। আমরা নিচে নামানোর চেষ্টা করতাছিলাম। অ্যাম্বুলেন্স দিয়া আমরা ঢাকা নিয়া যাইতাম। সবাইরে ডাকছি একটা লোকও আসে নাই। কেউ নাকি ধরবে না। আমি আমার শ্বাশুরি আর আমার মেয়ে ধইরা নামানোর চেষ্টা করি। তিন তালার ভাড়াটিয়ার কাছে আমার মেয়ে পানি চাইছিল। ধমক দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিছে।’

সিঁড়িতে যখন খোকন সাহা ছটফট করছিলেন তখন সন্তানের এমন অবস্থা দেখে বৃদ্ধা মা দৌড়ে চার তালায় গিয়ে পানি নিয়ে আসেন ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য। মুখে সামান্য পানি দেওয়া মাত্র সেখানেই প্রাণ যায় খোকন সাহার। এরপর প্রায় তিন ঘন্টা সেখানেই পড়ে ছিলেন। আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশি কেউ এগিয়ে আসেনি।

এদিকে করোনার ভয়ে কেউ এগিয়ে না এসে তাঁদের আত্মীয়রা ফোন করে খবর দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। কাউন্সিলর খোরশেদকে যখন ফোন করা হয় তখন তিনি মাসদাইর কবরস্থানে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত এক ব্যক্তির লাশ দাফনে ব্যস্ত ছিলেন। সেই আত্মীয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাঁরা ব্যবস্থা করে। কিন্তু তাঁর অনুরোধেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

কয়েক ঘণ্টা পর আবারো ফোন করা হলে কাউন্সিলর খোরশেদ তাঁর স্বেচ্চাসেবী টিম নিয়ে ছুটে যান মৃতের সৎকারে। স্বেচ্ছাসেবী দলের সাহায্যে সিঁড়িতে পড়ে থাকা লাশ নামিয়ে নিয়ে আসেন। নিজেদের গাড়ি দিয়ে শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে আসেন লাশ। আত্বীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ এগিয়ে না আসেননি। যে কারণে মুখে আগুন (মুখাগ্নি) দেওয়ার দায়িত্বও পড়ে কাউন্সিলর খোরশেদের কাঁধে। কাউন্সিলর খোরশেদও সেই দায়িত্ব সাদরে গ্রহণ করেন। লাশ নিয়ে চলে আসার সময় নিহতের স্ত্রীকে কথা দিয়ে আসেন যে যথাযথ সম্মানের সাথেই তাঁর সৎকার করবেন তিনি।

এদিকে গত ১৯ এপ্রিল রোববার নারায়ণগঞ্জের ইউনানি চিকিৎসার পথিকৃৎ ডা. কৈলাশ বনিক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তিনি ১০ দিন যাবৎ জ্বর, সর্দি, কাশি ও গত তিন দিন ধরে স্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। তার কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। এমতাবস্থায় কোনো আত্মীয় স্বজনও এগিয়ে আসেননি মৃতদেহ সৎকারে। ফলে কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এগিয়ে আসেন মৃতদেহ সৎকারের জন্য। এটা তাদের ১৪ তম সৎকার ছিল।

যার ধারাবাহিকতায় এদিন সকল কাজ ভালভাবে সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যায়ে মুখাগ্নি করার জন্য কোনো আত্মীয় স্বজন ছিল না। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ডা. কৈলাশ বনিকের মেয়েকে নিয়েই মুখাগ্নির কাজটি সম্পœ করেছেন। যদিও হিন্দু ধর্মানুযায়ী মৃতের সন্তান এই কাজটি করে থাকেন। সন্তানের অভাবে মৃতের অভিভাবক, কনিষ্ঠ বা জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, ভাইপো, বোনপো, জামাতা, সখা অথবা সন্তানতুল্য অথবা সমসাময়িক আত্মীয়ের মধ্যে যে কেউ একজন এসে মৃতের মুখাগ্নি করে থাকেন। কিন্তু এখানে কেউই ছিলেন না।

একই দিনে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিপিবি’র নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি বিকাশ সাহা।

বিকাশ সাহার ছেলে অনির্বাণ সাহা বলেন, ‘বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন শুনে আত্মীয় স্বজন কেউ আসেনি। আমার একার পক্ষে বাবার মরদেহ দাহ করা সম্ভব ছিল না। কারণ দাহ করতে অনেক নিয়ম-কানুন আছে। এতো কিছু আমি একা কীভাবে করবো। আর কেউ এগিয়েও আসছিল না। তাই খোরশেদ কাকাকে খবর দিই, তিনি এসে সহযোগিতা করেন।’

এর আগে গত ১০ এপ্রিল নন্দীপাড়া ডিএন রোড এলাকার করোনা হিন্দু সম্প্রদায়ের এক লোক মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু এখানেও সংক্রমনের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেন নি। তার আত্মীয় স্বজনদেনও মধ্যেও কেই এগিয়ে আসেন নি। সংশ্লিষ্ট ১৪ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সফিউদ্দিন প্রধান ডাকাডাকি করেও কাউকে পাননি। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ভ্যানে করে নিয়ে মাসদাইর শশ্মান নিয়ে সৎকারের ব্যাবস্থা করেন।

তার আগে কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের লাশ দাফনের ঘোষণার দেয়ার পর পরই গত ৮ এপ্রিল ঘটে যায় এক ভয়ংকর চিত্র। কারণ সেদিন করোনা সন্দেহে মারা গেছে খবরে একের পর এক ফোন পেয়ে চারজনকে নিয়ে ছুটে নিজ ওয়ার্ড জামতলায় ছুটে যান স্থানীয় ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সে বাসায় গিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। অন্য রুমে থাকা স্ত্রী আর সন্তানেরা ‘প্রিয়’ বাবার ঘরটি দেখিয়ে দেয় খোরশেদকে বলেন ‘ওই রুমে লাশটি পড়ে আছে নিয়ে যান’।

যাদের বছরের পর বছর লালন পালন করেছেন, যাদের জন্য নিজের শ্রম দিয়ে অট্টালিকা গড়েছেন, ধন সম্পদ বানিয়েছেন বিদায়ের বেলাতে অনেকটা নির্মমতায় বিদায় নিত হলো ৭০ বছর বয়সী আফতাবউদ্দিনকে। পরে খোরশেদ তার সচিব সহ ৪জনকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। নিয়ে যান মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে। মাত্র চারজনের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয় আফতাবউদ্দিনের। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট হলে হৈ চৈ শুরু হয়।

এর আগের দিন ৭ এপ্রিলও ঠিক সেরকম একটি ভয়ানক ঘটনা ঘটে যায়। প্রচন্ড জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগে নারায়ণগঞ্জে সঙ্গীত জগতের আলোচিত মুখ ‘হিরো লিসান’ ইন্তেকাল করেন। যাঁর প্রকৃত নাম ছিল খাইরুল আলম হিরো। পরে শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর চেষ্টা করলে আশেপাশের লোকজনের বাধায় সেটা ফেলে রেখেই চলে যান চালক। ওই সময়ে পরিবারের লোকজনও আসেনি ধরতে। ফলে মৃতদেহ পড়ে থাকে বাড়ির গেটের ভেতরেই।

পরে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোন্তফা আলী শেখ ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে একের পর এক ভয়ানক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে সারা নারায়ণগঞ্জজুড়ে। মৃতুকালের কেউ কারও কোনো সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন না। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দিন দিন মানুষের মানুষের মানবিক মূল্যবোধ লোপ পেয়ে যাচ্ছে। একই সাথে দেশের প্রভাবশালী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিতদের দ্বারাও এমন অমানবিক আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর