খেলোয়াড় ছিলেন শামীম ওসমান


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:০৯ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২০, শনিবার
খেলোয়াড় ছিলেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আমিও একজন খেলোয়াড় ছিলাম। আমিও খেলাধুলা দিয়েও উঠে এসেছি। আমাকে প্রথমে কেউ চিনতো না। আমার বাবার পরিচয় দেয়ার মানা ছিল। আমি টেনিস চ্যাম্পিয়ন ছিলাম, ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। ক্রিকেট খেলতাম ফুটবল খেলতাম, এমপি হওয়ার পর খেলতাম। বোমা হামলার পর হাতটা কাজ করে না, খেলাধুলাটা চলে গেলো। যারা খেলাধুলা করে তাদের মন পরিস্কার থাকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহযোগিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী টেনিস টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১৪ মার্চ শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ও ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, উনার মতো জেলা প্রশাসকের জন্য আল্লাহার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উনি অল্প সময়ের মধ্যে ৪টি বই বের করে ফেলেছেন বঙ্গবন্ধু ও নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের উপরে। যেটা আমরা পারি নাই কিন্তু উনি করেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

শামীম ওসমান বলেন, জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্নটাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই স্বপ্নটা কোন ব্যক্তির ছিলেন না। সে স্বপ্ন ছিল আমাদের ভবিষ্যৎ। এই স্বপ্নটা দুঃস্বপ্ন হয়ে যেতো স্বপ্নের কন্যা জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা যদি জীবিত না থাকতেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি যদি জীবিত না থাকতেন এই খানে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে পারতাম কিনা সন্দেহ ছিল।

শামীম ওসমান বলেন, আজকে চারদিকেই শুধু শুধু বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গন্ধু। কিন্তু আমি যখন ক্লাস এইটের ছাত্র নাইনে থাকাবস্থায় মার খাওয়া শুরু করেছি। ঊনআশি থেকে জেলখাটা শুরু করেছি, এই পর্যন্ত আসতে ৫০টা মানুষকে এই হাত দিয়ে দাফন করতে হয়েছে। শুধু একটাই দাবী ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাই। আমাদের চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়ে গেছে। আমাদের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। ৭৫ এর পর মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমরা কি স্বাধীন না। সেদিন মা উত্তর দিতে পারেন নাই। উত্তর খোঁজার জন্য সেদিন থেকেই রাস্তায় নেমেছিলাম সে রাস্তা এখনও চলছে। সে রাস্তায় চলতে গিয়ে বহু বন্ধুকে হারাতে হয়েছে।

করোনা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, একটাই শুধু কথা। এই দুনিয়াতে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না। যখন সবকিছু চিরস্থায়ী মনে হয় তখনই স্মৃতি হয়ে যায়। সারা পৃথিবীতে যে অবস্থা, আমরা পৃথিবীর ধারে না। আল্লাহর রহমতে করোনার ধাক্কা আসবে না, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বিশ্বাস এই জন্য কোন দেশের রাষ্ট্রনায়ক যদি আল্লাহ ওয়ালা হয়, সেই দেশের উপর আল্লাহর আলাদা রহমত থাকে। আমার দেখা মতে আমি শেখ হাসিনার মতো এতো আল্লাহ ওয়ালা মানুষ দেখি নাই। আমি যখনই দেখেছি তিনি কুরআন বুকে নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতেন। উনার আশ্রয়স্থল একটাই সেটা হলো আল্লাহর আশ্রয়স্থল।

তিনি আরও বলেন, সবার মাঝেই ভয় আছে। করোনা পরোনা এন তেন হেন। আমরা ভয় পাওয়ার জাতি না। আমরা রক্ত দেয়ার জাতি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশ সাইন রাখবে। আল্লাহ না করুক কোন কিছু যদি এসেও যায় তাহলে কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে তা জানি। আমরা আড়াই মাস বন্যার নিচে থেকেও মোকাবেলা করে দেখিয়েছি। আমরা মোকাবেলা করে দেখাবো, সারা বিশ্বকে শিখাবো। এই জন্য দরকার আল্লাহর রহমত, তার কাছে দোয়া চাইবো। ভিক্ষা চাইবো শেখ হাসিনা জন্য, তার পরিবারের জন্য, আল্লাহ যেন হায়াত দান করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী টেনিস টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুম বিল্লাহ, টেনিস টুর্নামেন্ট আহবায়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর