News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রিপেইড নয় পোস্টপেইড চাই


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | ফরিদ আহমেদ রবি প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম প্রিপেইড নয় পোস্টপেইড চাই

সহজে বিল পরিশোধ এবং উন্নত সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগে প্রিপেইড মিটার যুক্ত করার প্রক্রিয়া  শুরু হয় বেশ ক‘বছর হলো।শীতলক্ষ্যার পূর্বাংশের পূরো অঞ্চল প্রিপেইড মিটারের আওতায় চলে এসেছে, পশ্চিমাংশে প্রিপেইড মিটার স্হাপনের প্রস্তুতি চলছে। আধুনিকায়নের নামে স্থাপিত প্রিপেইড মিটার যুক্ত গ্রাহকদের অসহনীয় দুর্ভোগ দেখে পশ্চিমাংশে এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরুদ্ধে অনেকেই সোচ্চার অবস্থান গ্রহণ করেছেন।প্রিপেইড মিটারের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন দুর্ভোগ, যন্ত্রনা এবং অনিয়মে অতিষ্ঠ বন্দরবাসীও চাইছে পোষ্ট পেইড মিটারের পুনঃস্থাপন যাতে মাসশেষে বিল পরিশোধ করা যায়। প্রিপেইড মিটার যেন গ্রাহকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ধিত হারে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গিয়ে গ্রাহক তা আবারও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

সম্প্রতি শতকরা প্রায় ১৭ টাকা হারে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হয়েছে। একেতো বর্ধিত হারে বিল পরিশোধের চাপ তার সাথে যুক্ত হয়েছে মিটার আপডেট করে বিল রিচার্জের উটকো বিড়ম্বনা। নতুন হারের সাথে মিটারের সমন্বয় সাধনের জন্য বরাবরের ২০ সংখ্যার পরিবর্তে ২২০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার কি বোর্ডে চেপে মিটার রিচার্জ করতে হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংক এজেন্টের মাধ্যমে বিল রিচার্জ করতে গিয়ে গ্রাহকের হাতে আসছে ২২০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার। অনেকগুলো নাম্বার হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রিন্টকপি নিতে হচ্ছে, হাতে লিখতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাছাড়া সময়েরও ব্যাপার রয়েছে।

এজেন্টের কাছে প্রিন্ট করে দেয়া সহজ, নিরাপদ এবং লাভজনকও বটে। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তি টাকা ব্যয় করেও স্বস্তি মিলছে না। একটি একটি করে ২২০টি সংখ্যা বাটন চেপে রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে। একটি সংখ্যা ভুল হলে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে। পরপর তিনবার ভুল হলে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে!

এদেশের সাধারণ মানুষের খুব সংখ্যকই এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত, তাই ভুল হচ্ছে, আবারও বাড়তি টাকা খরচ করে অভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে ভুল সংশোধন করতে হচ্ছে, নয়তো বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দ্বারস্হ হতে হচ্ছে।

গাঁটের পয়সা খরচ করে এমন দুর্ভোগ পোহাতে কার ভাল লাগে? এ তো গেল বিলবৃদ্ধি জনিত সমন্বয়কালীন সমস্যা!

বাটন ঠিকমত কাজ না করা অসংখ্য মিটার রয়েছে। এমন মিটার নিয়মিত রিচার্জ করতে গিয়ে শুধুমাত্র ২০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার চাপতেই অনেক গ্রাহক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিল রিচার্জের এই ঝামেলা পোহানো নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন যত যাচ্ছে মিটার তত পুরনো হচ্ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাটনের সমস্যা বেড়েই চলেছে। মিটারে স্থাপিত ব্যাটারি মেয়াদ শেষে অকার্যকর হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আরেক যন্ত্রনা!

অভিযোগ জানিয়ে নতুন ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের জন্য তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এসে ব্যাটারি পাল্টে দিচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত সংযোগবিহীন অবস্থায় থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। পকেটের টাকায় কেনা বিদ্যুৎ পেতে এমন দুর্ভোগ কেন পোহাতে হবে? এজন্য কারও দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা আছে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে কোন কর্তৃপক্ষ আছে বলেও মনে হয় না। থাকলে তো এসব সমস্যার উদ্ভব হওয়ারই কথা নয়!

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এধরনের সমস্যার সমাধান না হওয়া হাস্যকর বলে সচেতন মহলের ধারণা। প্রিপেইড মিটারের আধুনিক সংস্করণ রয়েছে যেখানে বিল রিচার্জ স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

নির্ধারিত সময় অন্তর ব্যাটারি প্রতিস্থাপন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে করা হলে এ সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে যায়। এসব বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিশ্চই কর্তৃপক্ষের রয়েছে, তারপরও সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না, এটি সকল ভুক্তভোগী গ্রাহকের প্রশ্ন। উত্তর না পাওয়া এবং সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণে প্রিপেইড গ্রাহকগণ বলতে বাধ্য হচ্ছেন "প্রিপেইড মিটার দরকার নেই,পোস্ট পেইড মিটার ফিরিয়ে দিন"।

প্রিপেইড মিটারের সমস্যা সমূহ সম্পর্কে অবগত হয়ে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিমাংশে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরুদ্ধে অনেকেই অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন দক্ষ জনবল এবং কারিগরি সক্ষমতার অভাবই এসব সমস্যার মূল কারণ।

উদ্ভুত সমস্যা সমূহ সমাধান না করে নতুন অঞ্চলে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেয়া কোন অবস্থাতেই সঠিক হবে না, বরং সমস্যার সমাধান না করতে পারলে পূর্বাঞ্চল তথা বন্দরে স্থাপিত সকল সংযোগ পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ পোস্ট পেইড মিটারে প্রতিস্থাপন করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। তা না হলে গ্রাহক পর্যায়ে সৃষ্ট ক্ষোভ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে বলে সচেতন মহলের আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতি যেন কোনভাবেই তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এগিয়ে আসবেন, এমন প্রত্যাশা সকল নারায়ণগঞ্জবাসীর।

লেখক : বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা