করোনাকালে শীতলক্ষ্যায় সেতুর অভাব টের পাচ্ছে দুই পাড়ের জনগণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১৯ মে ২০২০ মঙ্গলবার

করোনাকালে শীতলক্ষ্যায় সেতুর অভাব টের পাচ্ছে দুই পাড়ের জনগণ

নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়ার পর থেকে দুই মাসেরও অধিক সময় ধরে লকডাউনে আটকা নারায়ণগঞ্জবাসী। এই দুইমাসে নারায়ণগঞ্জে কি কি অভাব রয়েছে তা বেশ ভালো ভাবেই প্রকাশ পেয়েছে। বরাবরের মত করোনাকালেও বন্দরবাসীর ভোগান্তি সব থেকে বেশি। কারণ নদী পারাপারের সব নৌকা ও ট্রলার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে চিকিৎসার মতো অতি প্রয়োজনীয় সেবা নিতে রোগীদের শহরে আনতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ফলে করোনায় মহাদুর্যোগকালে শীতলক্ষ্যায় কদমরসুল সেতুর অভাব এবং এর প্রয়োজনীয়তা বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছে বন্দরবাসী।

গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, বন্দর ও সদর উপজেলা লকডাউন কর হয়। অতি প্রয়োজন ছাড়া ট্রলার ও নৌকা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরই মাঝে খুলে দেওয়া হয় গার্মেন্টস সহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে ট্রলার চালু না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন বন্দরবাসী। পরবর্তিতে মাছ ঘাট এলাকা দিয়ে খেয়া পারাপার চালু হলে তৈরী হয় আরো হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ৭ জনের নৌকায় ২০ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়েও নদী পার হতে দেখা যায়। যা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বড় মাধ্যম হয়ে ওঠার আশঙ্কা করেন অনেকে। এমতাবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগ ও অতিরিক্ত যাত্রী পারাপারের কথা চিন্তা করে ট্রলার চলাচলের দাবি তোলে বন্দরবাসী।

সেই দাবির প্রেক্ষিতে গত ৯ মে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে নৌকা চলাচল ও ট্রলার চলাচলের ঘোষণা দেন। সেই সাথে বন্দর ঘাটে ১৬টি ট্রলার যাত্রী পারাপারের জন্য ফ্রি ঘোষণা করেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এখনো আগের মতই আছে। বিশেষ করে সকালে যখন শ্রমিকেরা গার্মেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় ভয়াবহ অবস্থা তৈরী হয়। ১৬ টি ট্রলার ফ্রি করে দেওয়ার পরেও যাত্রী পারাপারে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ট্রলার চালকদের। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে যে নিরপদ দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে তার ন্যূনতম নিয়ম পালন করা যাচ্ছে না নদী পারাপারে ট্রলার ও নৌকাগুলোতে।

এ প্রসঙ্গে বন্দরের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘একটা সেতু জন্য আমরা কত কষ্ট করতেছি শুধু আমরাই জানি। বৃষ্টি হইলে নদী পার হইতে পারি না। একটু জোরে বাতাস দিলে নদী পারাপার বন্ধ। বঙ্গপসাগরে ঘুর্ণিঝড় হয় সেই ঝড়ের প্রভাবে শীতলক্ষ্যা নদীতেও নৌকা বন্ধ থাকে। নদী পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে হলেও আমরা পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বার বার বলা হচ্ছে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে। কিন্তু ট্রলার ২০-৩০ জন যাত্রী উঠছে আবার নৌকাতেও ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিচ্ছে। নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলাচল করতে বললে মাঝিরা ৭ জন উঠিয়ে জনপ্রতি ২০ টাকা করে নেয়। সব সময় তো এত বেশি ভাড়া দেওয়া সম্ভব না। তাই গাদাগাদি করেই পার হই। যদি শীতলক্ষ্যা সেতু থাকতো তাহলে হয়তো আমাদেরকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে নৌকায় চড়ে নদী পার হতে হতো না। অন্য যানবাহন দিয়ে চলাচল করতাম প্রয়োজনে হেঁটেই নদী পার হওয়া যেতো। সেতু না থাকায় আমাদের এত দুর্ভোগ।

এ প্রসঙ্গে নৌকা এবং ট্রলারের মাঝিরা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা বার বার বলি যে বেশি মানুষ নৌকায় উঠবেন না। তারপরেও সবাই জোর করে উঠে। কারো মাঝে ধৈর্য নাই। সবাই আগে যেতে চায়। কিন্তু যে পরিমাণ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে যদি নিরাপদ দূরত্ব রাখা হয় তাহলে হয়তো ১ঘণ্টায় চাষাঢ়া পর্যন্ত লাইন হয়ে যাবে। যে কারণে যাত্রীরাও যেমন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠে আমরাও ঝুঁকি নিয়েই নৌকা চালাই।’

এর আগে বন্দরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর কদমরসুল সেতু একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) ১৮২ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ব্রিজটির নির্মাণ কাল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়।

গত ৩ মার্চ শহরের ৫নং খেয়াঘাট এলাকায় ৫৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দৈর্ঘ্য ১৩৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১২ দশমিক ৫ মিটার বিশিষ্ট সেতুটি নির্মাণ প্রকল্পের খসরা ডিজাইন করছে কুরিয়ার পরামর্শকেরা।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি কদমরসুল সেতুর প্রকল্প এলাকা ৫নং খেয়াঘাট ও বন্দর ইস্পাহানি এলাকা পরিদর্শন করেন এলজিইডি ও প্রকল্পের দুই কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন কাজের অগ্রহতি আর দৃশ্যমান হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও