ক্ষুধার্তের চেয়ে মার্কেটমুখী স্রোত বেশী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৪ পিএম, ২২ মে ২০২০ শুক্রবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

‘বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনায় আক্রান্ত ও সংক্রামণের দিকে আতঙ্কের শহর। কারণ নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েই অন্য জেলায় সংক্রামিত করেছে। তাছাড়া দিনের পর দিন নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

নারায়ণগঞ্জে শুক্রবার ২২ মে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত বেড়েছে ৩৯ জন।  সিভিল সার্জনের তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জেলায় ৩৩৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মৃত ৩ জনের মধ্যে একজন পুরুষ যার বয়স ৭৮ বছর এবং ২ জন নারী যাদের বয়স ৮০ বছর। সুস্থ হয়েছেন ৯৪ জন। এ নিয়ে জেলায় ৮৬০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৬৯ জন। জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৬১৬ জন।

এমন কঠিন পরিস্থিতে শহরের সব দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে। তবে এমন কঠোর পরিস্থিতি হওয়ার আগে লকডাউন ঘোষণার শুরুতেই মানুষের মধ্যে আক্রান্তের চেয়ে ক্ষুধার্ত থাকার শংকা দেখা দেয়। সেই জন্য সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু লকডাউন খুলে দেওয়ার পর মানুষের সেই ভ্রান্ত ধারণা বদলে গেছে। অনেক সচেতন মানুষের অভিযোগ, খাদ্যের জন্যও মানুষ এমনি বের হয়নি যতটা মার্কেট করতে বের হচ্ছে।’

গত ১০ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকার মার্কেট, শপিংমল, ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পরা ভীড়। করোনার ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে মার্কেটগুলোতে কেনাকাটায় করতে ব্যস্ত ক্রেতারা। তাছাড়া পরিবারের ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষকে নিয়েই আসছেন সবাই। কারো মুখে নেই মাস্ক, হাত ধোয়ার প্রবণতা, হ্যান্ড স্যানেটাইজার ব্যবহার ইচ্ছ, নেই কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাও। এমনকি মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের কোন পদক্ষেপও। আর বিক্রেতারাও তেমন সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই বিক্রিতে ব্যস্ত। কয়েকটি শপিং মলের সামনে সুরক্ষা ব্যবস্থা করলেও সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। আবার কোন কোন মার্কেটে এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা লোক দেখানো যার কোন কার্যকারিতা নেই। এর মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ দোকানগুলোতে ভীড় করছেন নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল ও অভিযান দিয়েও মার্কেটে ক্রেতাদের ভীড় কমাতে পারছেন না। এমনকি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জানা গেছে গত ২৫মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। এর ফলে অফিস, আদালত, ব্যাংক-বীমা, পোশাক শিল্প, কলকারখানা, দোকান, শপিং মল, গণপরিবহন ইত্যাদি সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। শুধু মাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, মোবাইল রিচার্জ, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি জরুরী প্রয়োজনের সুবিধা উন্মুক্ত রাখা হয়। এতে কর্মহীন হয়ে পরেন নারায়ণগঞ্জের কয়েক লাখ বাসিন্দা। কিভাবে বাসা ভাড়া দিবেন, কিভাবে তিন বেলা খাবার জোগাড় করবেন, কোথায় থেকে চিকিৎসা সহ ছেলে মেয়ের পড়ার খরচ জোগাড় করবেন এসব নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। যার জন্য জেলা প্রশাসন, এমপি, মেয়র, জনপ্রতিনিধি, সংগঠন, ব্যক্তি উদ্যোগে খবার বিতরণ শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষেরা বলেন, ‘মানুষের খাদ্য প্রয়োজন না মার্কেট করা প্রয়োজন? এখন এটা বিবেচনা করতে হবে। কারণ খাদ্য সংকটে মানুষ ঘর থেকে বের হলে বিবেচনা করা যেতো। কিন্তু এখন বিলাসিতা করার জন্য ঘর থেকে বের হচ্ছে মানুষ। যেমনটা হয়েছে গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে। কারণ কাজ না করলে শ্রমিকেরা যেমন বেতন পাবেন না তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতির বিপর্যয় দেখা দিবে। এতে করে দেশে মন্দা দেখা দিবে। সব কিছু বিবেচনা করে কারখানায় যতটানা ঝুকি মনে হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে মার্কেটগুলোতে। কারণ কোন মার্কেটেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। মানুষে ভীড় থামানো যাচ্ছে না। মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও এভাবে বের হওয়া করোনার সঙ্গে অলিঙ্গন করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সচেতন মানুষ আরো বলেন, ‘বর্তমানে আক্রান্ত যা আছে আগামী ১৫ দিনে এ সংখ্য আরো কয়েকগুন বেড়ে যাবে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইলেও জায়গা দেওয়া যাবে না। কারণ নারায়ণগঞ্জে তিনটি হাসপাতাল এখনই শয্যা তেমন খালি নেই। তাছাড়া হাসপাতালগুলোতে জরুরী না হলে ভর্তিও নেয় না।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও