ধনীরা হাসে অসহায়রা কাঁদে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৩৬ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

ধনীরা হাসে অসহায়রা কাঁদে

করোনার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রেণিভেদে দুই ধরণের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন আনন্দের লক্ষ্য বস্তু খুঁজছে। বিশ্বব্যাপী এই মহামারিতে দীর্ঘদিন লকডাউন সহ কর্মপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। কারণ আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সকল প্রতিষ্ঠান সহ মার্কেট খুলে দেয়া হয়েছে। আর তাতে করে ধর্ণাঢ্য পরিবারের সদস্যরা আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে। এই মহা দুর্যোগের মধ্যেও আসন্ন ঈদের খুশিকে বড় করে দেখছে এই শ্রেণির ব্যক্তিরা। অন্যদিকে শ্রমজীবী পেশার মধ্যবিত্ত ও নিম্ববিত্ত আয়ের ব্যক্তিরা এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার নিরিক্ষে সুখবরের অপেক্ষায় রয়েছে। কবে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কমবে, কবে এই রোগের চিকিৎসা চালু হবে, আর কবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে যাতে করে কর্মক্ষম মানুষ তার নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে পারবে। সেই কাঙ্খিত প্রতিক্ষার প্রহর গুণছে শ্রমজীবী মানুষরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য হারাম হয়ে গেছে। কারণ যেখানে তিন বেলা আহার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে ঈদের আনন্দ তাদের স্পর্শ করতে পারবেনা। অন্যদিকে ধনাঢ্যরা এই দুর্যোাগপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেভাবে শপিং ও কেনাকাটা করছে তাতে করে আসন্ন ঈদের আনন্দের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসবকে কেন্দ্র করে লকডাউন শিথিল করে মার্কেট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকে শহরমুখি জনতার ঢল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। যদিও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার শর্তে মার্কেট খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ সেই নির্দেশনা মানছেনা। গাদাগাদি করে মার্কেকটগুলোতে সবাই ভিড় করছে।

একাধিক সূত্র বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তরা তিন বেলা আহারের যোগান দিতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। পাহাড় সমান ঋণ করেও অনেকে ত্রাণের জন্য এদিক সেদিক ছুটোছুটি করে বেড়িয়েছে। তাই ঈদের শপিং ও কেনাকাটা করার প্রশ্নই উঠে না। এই অবস্থায় যে বা যারা মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে তারা এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। একমাত্র ধর্ণাঢ্য ও স্বচ্ছল শ্রেণির ব্যক্তিরা মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে।

মার্কেটগুলোতে ভিড় করা ক্রেতারা বলছেন, বছর ঘুরে ঈদের মত একটি বড় উৎসব আসে। আর সেই ঈদে পরিবার স্বজনদের মুখে হাঁসি ফুটাতেই মার্কেটগুলোতে যেতে হচ্ছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে না পারলে ঈদে কাউকে উপহার দেয়া সম্ভব হবেনা। তাই বিভিন্ন মার্কেটে ছুটে যাচ্ছি।

মার্কেটগুলো ছুটে যাওয়া ক্রেতাদের এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে করোনা পরিস্থিতির কোন ছাপ পাওয়া যায়নি। উল্টো ঈদ আনন্দের নানা প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। যেকারণে মার্কেটগুলোতে যাওয়া ক্রেতাদের ওই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বেশ পরিষ্কার হয়েছে।

অন্যদিকে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের ব্যক্তিরা ঈদ সামগ্রী সহ সাহায্যের জন্য এখনো বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কেউ কেউ পাচ্ছে, আবার কেউ পাচ্ছেনা। আবার অনেকে সহায়তা পেলেও চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা পাচ্ছেনা। যেকারণে এসব ব্যক্তির কাছে এবারের ঈদুল ফিতরের মার্কেটিং মানে আকাশের চাঁদ ছোঁয়ার মত অবস্থা। যার ফলে এই অর্থনৈতিক সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে এই শ্রেণির ব্যক্তিরা বিগত দিনের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতির আসার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। তারা মনে করছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে এবং কর্মস্থল স্বাভাবিক হয়ে গেলে তা হবে সবচেয়ে বড় ঈদ। আর সেই ঈদের অপেক্ষায় রয়েছে নি¤œ ও মধ্যবিত্তরা।

দিন মজুর কাশেম মিয়া বলছেন, ভাত খাওয়ার টাকা নাই মার্কেট কিভাবে করবো। তিন বেলা খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। তাই এবারের ঈদের মার্কেটিং আমাদের মত গরীবদের জন্য নয়।

ক্ষুদে ব্যবসায়ী জামান বলছেন, ছোট খাট কাপড়ের দোকান চালিয়ে বেশ ভালই দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস সব লন্ডভন্ড করে দিল। দীর্ঘদিন বাসায় থাকার ফলে অনেক ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। এই অবস্থায় ঈদের মার্কেটিং করা একেবারে অসম্ভব। যদিও এর মধ্যে কিছু টাকা জোগাড় হয়ে গেলে ছোট মেয়ের জন্য একটি জামা কিনতে হবে। কারণ সে কিছুতেই এই সংকট বুঝতে চাইছেনা। আর বাকি সদস্যদের জন্য এবারের ঈদের কোন শপিং হবেনা। যেকারণে খাবারের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে শপিং কিভাবে করবো।


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও