বীরবেশে ক্রেতারা, ঘাতকবেশে করোনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৪০ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

বীরবেশে ক্রেতারা, ঘাতকবেশে করোনা

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ‘হটস্পট’ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা অনেক আগেই চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে লকডাউন সহ নানা চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে শহরের মার্কেটগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। অদৃশ্য ঘাতক করোনা কোথায় কিভাবে ছোবল বসানোর জন্য অপেক্ষা করছে কেউ জানেনা। তবে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে চলাফেরা করলে এই ঘাতক করোনা নিশ্চিত আক্রমণ করবে তা জেনেও ক্রেতারা অনেকটা বীরের মত মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে। অন্যদিকে ঘাতকবেশে অদৃশ্য করোনা ভাইরাস বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এরুপ পরিস্থিতিতে করোনা যুদ্ধে মার্কেটগুলোতে বের হওয়া যোদ্ধাদের জয় পরাজয়ের ফলাফল সবার জানা; তবুও আসন্ন ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে করোনার ভয়কে জয় করে মার্কেটগুলোতে ছুটে যাচ্ছে ক্রেতারা।

প্রসঙ্গত, লকডাউন শিথিল করে মার্কেট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকে শহরমুখি জন¯্রােত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। যদিও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার শর্তে মার্কেট খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ সেই নির্দেশনা মানছেনা। গাদাগাদি করে মার্কেকটগুলোতে সবাই ভিড় করছে।

শহরের অন্যতম ফ্রেন্ডস মার্কেট, সমবায় মার্কেট, শান্তনা মার্কেট, মার্ক টাওয়ার, সায়েম প্লাজা, বেইলী টাওয়ার সহ সকল মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কেটগুলোতে এরুপ ভিড় দেখে কারো বোঝার জো নেই যে মাত্র কয়েকদিন আগে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে পুরো জেলা লকডাউন ছিল। এমনকি যান চলাচল পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

মার্কেটগুলোতে উৎসুক ক্রেতাদের মাধ্যে নারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নারীদের পাশাপাশি শিশুদেরও দেখা যাচ্ছে। তবে সামাজিক দূরত্ব মানার কোন বালাই দেখা যাচ্ছেনা। যে যেভাবে পারছে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। তাছাড়া সীমিত সংখ্যক স্থানের তুলনায় বেশি  ক্রেতা সমাগম হলে স্বাভাবিকভাবে জটলা সৃষ্টি হবে। আর মার্কেটগুলোতে তীর ধরার জায়গা না থাকায় সেই জটলা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও অধিকাংশ মার্কেটের সামনে জীবনুনাশক টানেল, স্প্রে ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও জনসমাগমের মধ্য দিয়ে এই ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা অনেক বেশি।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুথু সহ তার সংস্পর্শে আসলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই মার্কেটগুলোতে এই ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা অনেক বেশি। কারণ কোন ব্যক্তি আক্রান্ত কিনা তা আমরা কেউ জানিনা। তাছাড়া জীবানুনাশক স্প্রে দিয়ে হাত, পা ও শরীর জীবানুমুক্ত করলেও শরীরের ভেতরে থাকা জীবানু কোনভাবেই মুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই জনসমাগম এড়িয়ে চলার কোন বিকল্প নেই।

তবে ভাইরাসের এসব ঝুঁকির কোন তোয়াক্কা না করেই অধিকাংশ ক্রেতারা মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে। তারা বীরবেশে করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে মার্কেটে দেদারছে কেনাকাটা করছে। ভাইরাস সংক্রমণের চিন্তা তাদের কাবু করতে পারছেনা। আসন্ন ঈদে পরিবার স্বজনদের মুখে হাসি ফুটাতে তারা কেনাকাটাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

ক্রেতারা বলছেন, বছর ঘুরে ঈদের মত একটি বড় উৎসব আসে। আর সেই ঈদে পরিবার স্বজনদের মুখে হাঁসি ফুটাতেই মার্কেটগুলোতে যেতে হচ্ছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে না পারলে ঈদে কাউকে উপহার দেয়া সম্ভব হবেনা। তাই বিভিন্ন মার্কেটে ছুটে যাচ্ছি।

রিনা আক্তার বলছেন, সকাল থেকে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে মাত্র দুটো ড্রেস কিনতে পেরেছি। পরিবারের অন্যা সদস্যদের জন্য এখনো অনেক কেনাকাটা বাকি। আর করোনার চিন্তা করলে কিংবা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার চিন্তা করলে আগামী এক সপ্তাহে কেনাকাটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবেনা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশেই দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে দোকানপাট খোলা হবে বলে জানান। যার সূত্র ধরে ১০ মে থেকে বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। 


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও