লোকাল বাসের মত ডেকে যাত্রী উঠাচ্ছে হাইস প্রাইভেট কারে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৫ পিএম, ২৩ মে ২০২০ শনিবার

লোকাল বাসের মত ডেকে যাত্রী উঠাচ্ছে হাইস প্রাইভেট কারে

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবার ঈদ কাউকে বাড়িতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসে গণপরিবহন চালু না করে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি ফিরতে পারবে বলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকেই প্রাইভেটকার, হাইসে করে যাত্রী পরিবহনের জন্য লোকাল বাসের মত ডেকে যেকে যাত্রী উঠানো হচ্ছে।

২৩ মে শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে হাইস ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের যে কোনো প্রান্তের জন্যই এখানে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী পাওয়ার জন্য রীতিমতো লোকাল বাসের মত ডেকে ডেকে এসব গাড়িতে যাত্রী তোলা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রীদের গ্রামে নেওয়ার জন্য সাইনবোর্ড মোড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে স্ট্যান্ড হিসেবে। অথচ পাশেই পুলিশের চেকপোস্ট অবস্থিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাগ নিয়ে যখনি কেউ সাইনবোর্ড মোড়ে এসে দাঁড়াচ্ছে তখনি দল বেধে একাধিক ব্যক্তি ছুটে এসে জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবেন? এখান থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছানোর গ্যারান্টি দিচ্ছেন তাঁরা। তবে এর জন্য খরচ কিছু বেশি পড়বে বলেও আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী সেজে একাধিক প্রাইভেটকার ও হাইস ড্রাইভারের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘ঢাকা থেকেও কিছু যাত্রী উঠে আসে। আবার কিছু যাত্রী সাইনবোর্ড এলাকা, কাঁচপুর ব্রীজ এলাকা থেকে উঠে। বিভিন্ন জায়গায় বিভন্ন গাড়ি যচ্ছে। আমি ময়মনসিংহ যাবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাড়া তো ফিক্স নাই। দেড় থেকে দুই হাজার টাকা চাই। পরে বার্গেডিং করে যত নিতে পারি।’

যাত্রীরা তো করোনা আক্রান্ত তাকতে পারে, আপনার ভয় লাগে না? এমন প্রশ্নে এক ড্রাইভার বলেন, ‘আমি ভাই লোকাল বাস চালাইতাম। এখন বাস বন্ধ তাই পেটে খাওন নাই। ভয়ের চাইতে ক্ষুধার শক্তি বেশি। তাই ভয় নিয়াই গ্যারেজ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে বের হইছি। কারণ কিছু কামাইতে পারলে পেটে খাবার দিতে পারবো।’

এ প্রসঙ্গে রংপুর যাওয়ার জন্য জালকুড়ি থেকে আসা রাজ মিস্ত্রির শফিউল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘দুই মাস ধইরা কাজ নাই। ধার দেনা কইরা খাইছি। এইখানে থাকলে হয়তো না খায়া মরতে হইবো। ঈদের আগে টুকটাক কাজ হইছে ওই টাকা দিয়া বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিছি। গ্রামে বড় ভাই আছে আরো-আত্মীয় স্বজন আছে। কাজ না থাকলেও না খায়া মরবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজনের কাছে খবর নিয়া এইখানে আসছি। এক সাথে তো অনেকে এক গাড়িতে উঠতেছে। তাই ভয় তো একটু হয়। কিন্তু এখানে যে ভাবে মানুষ উঠে একজনের করোনা থাকলে সবার হইতে পারে। কিন্তু আমার গ্রামে যাওয়া ছাড়া আমার উপায় নাই।’


বিভাগ : মহানগর


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও