অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তাকবির আহম্মেদ (১৮) হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. হারুন (৩৪) মো. রফিকুল ইসলাম (৩৮)। এর মধ্যে হারুনকে বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কলোনি মোড় থেকে রফিকুল (৩৮ কে গ্রেপ্তার করা হয়। রফিকুলের দেখিয়ে দেওয়া স্থানে থাকা সিলিং থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার ২৯ নভেম্বর দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তারা জানান, নিহত তাকবির চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হলে দীর্ঘ সময় ফেরেননি। পরে পারিবারিক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ২৬ নভেম্বর দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনের এক কক্ষে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে- মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে তাকবিরের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয়েছিল। পরে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনার অন্যভাবে দেখাতে তাঁরা নিহতের পিতার কাছে পুরনো সিম ব্যবহার করে মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দাবি করার চেষ্টাও করে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানিয়েছেন, খুনের মোটিভ, ব্যবহারকৃত উপকরণ ও আসামিদের কর্মকৌশল আমরা হুবহু নিশ্চিত করেছি; তবে মামলার সমস্ত দিক যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিনের আদালতে পাঠানো হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।








































আপনার মতামত লিখুন :