২৫ রোজার মধ্যে বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৩৪ পিএম, ১৬ মে ২০২০ শনিবার

২৫ রোজার মধ্যে বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবি

২৫ রোজার মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলতিসহ বকেয়া বেতন ও শতভাগ ঈদ বোনাস পরিশোধ, সাধারণ ছুটি ও করোনা দুর্যোগের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বে-আইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, আইন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী মালিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ, সকল শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, করোনা সংক্রমিত শ্রমিকের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপুরণ নিশ্চিত করার দাবিতে এবং মজুরি কর্তন ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৬ মে শনিবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি আমানুল্লাহ আমান, গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত গার্মেন্টস মালিকরা একচ্ছত্রভাবে নিজেদের বাংলাদেশের শ্রমিক আর অর্থনীতির উদ্ধার কর্তা হিসাবে দাবি করে রাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে প্রণোদনার নামে রাষ্ট্রের অর্থ লোপাটকারী এই মালিকরা দুর্যোগ মূহুর্তে শ্রমিকদের বাঁচাতে এক মাসের দায়িত্বও নেয়নি বরং করোনাকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে কিভাবে শ্রমিকদের আরও বেশি বঞ্চিত করা যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মার্চ মাসে মাত্র ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ নিয়েও শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতনের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে। হিসাবের মারপ্যাচে কোথাও কোথাও আরও বেশি বেতন কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। অধিকাংশ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন এখনও পরিশোধ করেনি। বারবার সময় নেওয়ার পরও কয়েকশত কারখানার হাজার-হাজার শ্রমিকের মার্চ মাসের মজুরি আজও বকেয়া আছে। শ্রমমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া এবং করোনা সংক্রমিত শ্রমিকের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে, পিসরেট শ্রমিকদের কর্মহীন সময়ে বেসিক মজুরি দেওয়ার চুক্তি থাকলেও কোন মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকল কারখানায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, করোনা সংক্রমিত শ্রমিককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হচ্ছে, করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত পোশাক শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কোন ঘটনা এখনো ঘটেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার কারণে মাত্র এক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার অজুহাতে শ্রমিকদের সারাবছরের কাজের প্রেক্ষিতে উৎসব ভাতা পাওয়ার অর্জিত অধিকারকে কর্তন করার চেষ্টা হচ্ছে। কোন কোন মালিক সরকারের ঋণের টাকায় আংশিক বেতন পরিশোধের সুযোগ নিয়ে কারখানা স্থানান্তর অথবা কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিকের অন্যান্য প্রাপ্য পাওনা আত্মসাতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠছে। নেতৃবৃন্দ ২৫ রোজার মধ্যে পূর্ণ ঈদ বোনাস এবং চলতিসহ বকেয়া বেতন পরিশোধের জোর দাবি জানিয়ে বলেন এপ্রিল মাসের বেতন কর্তনের কারণে ক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের সাথে ঈদ বোনাস শতভাগ পরিশোধের পরিবর্তে বোনাস কর্তনের মত অন্যায় আচারণ করলে শ্রম অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্থানে বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, অভূক্ত শ্রমিকের উপর লাঠি-গুলি-টিযার গ্যাস চালিয়ে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে অপরাধ প্রবনতাকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে শ্রমিকদের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টাকারী অপরাধি মালিকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও