News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ফ্রিল্যান্সারের হাত ভেঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুট


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:১০ পিএম ফ্রিল্যান্সারের হাত ভেঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুট

সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় উত্তম কুমার সরকার নামে একজন ফ্রিল্যান্সারের বুকে ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে দুই হাত ভেঙ্গে দিয়ে সাথে থাকা তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাতরা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে মেঘনা ঘাটের পাশে এ ঘটনা ঘটে। উত্তম কুমার সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) এর একজন এসেসর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির মেম্বার।

উত্তম কুমার সরকার বলেন, আমি আমার পূর্ব পরিচিত কভার্ডভ্যান ড্রাইভার এমডি নাজমুল সাকিবের গাড়িতে করে দিনাজপুরের দিকে রওয়ানা হই। এসময় আমার সাথে ১টি ল্যাপটপ যার মূল্য ৫৫ হাজার টাকা, চার্জার সহ আইফোন ২টি, যার মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ওয়ান প্লাস মোবাইল ১টি, মুল্য ৫২ হাজার টাকা, মেট্রোরেলের কার্ড ২টা, নগদ ৬৫ হাজার টাকা সহ মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা, এটিএম কার্ড ৫টি (ইবিএল, সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ও ইউ.সি.বি ব্যাংকের কার্ড) সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিলো।

আমাকে বহন করা কাভার্ড ভ্যানটি ঝাউচর মেঘনা থেকে ছেড়ে মেঘনা ঘাটের পাশে মেঘনা গ্রুপের একটি গ্যারেজের নিকট উপস্থিত হইলে ড্রাইভার সাহেব গাড়ী থেকে নেমে একটি বালুর দোকানে যায়। এসময় ৫ থেকে ৬ জন অস্ত্র ধারী যুবক আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নিকট সমস্ত নগদ টাকা সহ মালামাল ছিনতাই করে নিয়ে নেয়। আমি চিৎকার করলে আসামীগণ আমাকে তাহাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়া বুকে ও মাথায় আঘাত করিয়া রক্তাক্ত জখম করে এবং আমি তাদের নিকট দুই হাত জোর করে কাকুতি মিনতি করলে তারা আমার দুই হাতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে দুই হাত ভেঙ্গে ফেলে।

এসময় আমি চিৎকার করলে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে বালুর দোকানের ম্যানেজার সহ ৪ থেকে ৫ জন লোক এগিয়ে আসলে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। তখন আমি বালুর দোকানের ম্যানেজারকে তাদের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে ম্যানেজার বলে, এই ছেলেগুলি এলাকার ছেলে হতে পারে। পরে কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার সাহেব আমাকে তাড়াতাড়ি তার কাভার্ড ভ্যানে করে উপজেলা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন অতি তাড়াতাড়ি আমাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তখন ড্রাইভার সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে আমাকে নিয়ে যায়। অতঃপর ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল হইতে ড্রাইভার এম.ডি নাজিমুল সাকিব কে আমি ছেড়ে দেই এবং আমি চিকিৎসা গ্রহণ করে পরের দিন দিনাজপুরে চলে যাই।

প্রসঙ্গত গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ঢাকায় ১টি আইটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষক হিসাবে আমার দায়িত্ব পড়ে (পরীক্ষক হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্তির ডকুমেন্ট সাবমিট করা হয়েছে)। ওইদিনের ওই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফলাফলের সমস্ত ডকুমেন্ট ল্যাপটপ এবং ফোনের মধ্যে রয়েছে যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও ওই ল্যাপটপে ও মোবাইল গুলোতে আমার বিভিন্ন সময়ের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ব্যক্তিগত ও সরকারি বিভিন্ন অফিসের সাথে কাজের তথ্য ভিডিও এবং ডকুমেন্ট সঞ্চিত রয়েছে। যার কারণে আমার ছিনতাইকৃত মালামালগুলো উদ্ধার করা খুবই প্রয়োজন।