নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। দুইদিনে চারটি ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজনকে।
২৪ মে রবিবার সকালে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের প্রতাবনগর এলাকায় রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় ৬ বছরের পথ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন নাজির হোসেন (৩৫) নামে এক লম্পট। ওই ঘটনা তাৎক্ষনিক এলাকাবাসীর দৃষ্টিতে পড়লে নাজির পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে তাকে বক্তাবলী বাজারে গিয়ে আটক করেন। এরপর গণপিটুনী দিয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন। নাজির হোসেন বক্তাবলী প্রতাবনগর এলাকার জুলহাস মিয়ার ছেলে।
একই দিনে ফতুল্লায় ৫ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার (৪৮) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম তল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত আনোয়ার জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার ধনতলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।
জানা যায়, নির্যাতিত শিশুটির বাব-মা গার্মেন্টসে কাজ করে। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল ৮ টায় শিশুটির বাবা ও মা নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যায়। পরবর্তীতে সকাল ১১টায় মোবাইলে চার্জ দেওয়ার কথা বলে শিশুটির রুমে প্রবেশ করে একা পেয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
২৩ মে ফতুল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষিকাকে (১৮) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাওলানা বেলাল হোসেন ওসমানী (৪৫) নামের মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মাওলানা বেলাল হোসেন ওসমানী ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন জামিয়া ওসমানিয়া মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। তিনি একই এলাকার মৃত ওসমান গণির ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মাওলানা বেলাল হোসেনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লা মডেল থানার পূর্ব লামাপাড়ায় মারকাজ মসজিদ সংলগ্ন বেলাল হোসেনের মালিকানাধীন ভবনের নিচতলায় জামিয়া ওসমানিয়া মহিলা মাদ্রাসাটি অবস্থিত। প্রায় দুই মাস আগে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে মাদ্রাসাটিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই মাওলানা বেলাল হোসেন তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৬টায় তিনি শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
২২ মে ফতুল্লায় ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিকালে বক্তাবলীর চরবয়রাগাদী গ্রামে সোহেলের সহযোগিতায় তার বন্ধু হিরু শিশুটিকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত হিরু (২২) চরবয়রাগাদী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। রাতে ঘটনাটি এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এরপর হিরু ও সোহেলের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এলাকাবাসী। তখন সোহেল পালিয়ে গেলে হিরুকে বাসা থেকে ধরে এনে সড়কে ফেলে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। গণপিটুনির ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরদিন সকালে সোহেল ফতুল্লা থানয় গিয়ে আত্মসমর্পন করেন। আত্মসমর্পণকারী সোহেল বলেন, অপরাধী হিসেবে গণপিটুনির চেয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করা ভালো। তাই আত্মসমর্পণ করেছি।





























-20260522173818.jpg)



আপনার মতামত লিখুন :