‘ছাত্রলীগ সভাপতি বন্দুক দিয়ে মাথায় গুলি করেছে’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:৫০ পিএম, ২৮ মে ২০২০ বৃহস্পতিবার

‘ছাত্রলীগ সভাপতি বন্দুক দিয়ে মাথায় গুলি করেছে’

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় জুয়া খেলা ও আম পাড়ার প্রতিবাদ করায় আইয়ুব আলী (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত পরিবারের অভিযোগ কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বন্দুক দিয়ে আইয়ুবের মাথায় গুলি করলে সে ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই সময়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

২৭ মে বুধবার বিকেলে উপজেলার ইজারকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও এ সাদ্দামের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হাতের কবজি দ্বিখন্ডিত করার অভিযোগ আছে।

আইয়ুব আলী ইজারকান্দি এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে। সে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং ইজারকান্দি আলোর সেতু পাঠাগারের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।

প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়, ‘‘কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গ্রুপের শাহজাহানসহ ৫-৬ জন মিলে ইজারকান্দি এলাকায় আলোর সেতু পাঠাগারের সামনে জুয়ার আসর বসায়। এতে আইয়ুব আলী জুয়া খেলায় বাধা দেয়। ওই সময় জুয়াড়িদের সঙ্গে আইয়ুব আলীর বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে স্থানীয় মাতবরেরা ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। বিকেলে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে আবদুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আইয়ুব আলী নিহত হন।’’

‘‘আইযুব আলীর খালাতো ভাই আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাদ্দাম হোসেন বন্ধুক দিয়ে আইয়ুবের মাথায় গুলি করলে সে ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।’’

অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বলেন, বিকেলে স্থানীয় জালাল ও আবদুল হক মেম্বারের লোকজন যাতে মারামারি না করেন, সে জন্য তিনি ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় আবদুল হক মেম্বারের লোকজন মারামারি শুরু করেন। তাঁদের গুলিতে স্কুলছাত্র আইয়ুব মারা যায়। এ সময় আবদুল হক মেম্বারের লোকজন তাঁর ও তাঁর পক্ষের লোকজনের অন্তত ১০টি বাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, আইয়ুব আলী আলোর সেতু পাঠাগার ও ওই খানে আমগাছে পাহারা দিত। ওই পাঠাগারের সামনে জুয়া খেলায় বাধা ও আম পাড়তে বাধা দেওয়া নিয়ে বাগবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারে অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের গুলিতে আইয়ুব আলীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও ইজারকান্দি গ্রামের আবদুল হকের গ্রুপের মধ্যে বিরোধ থেকে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ডেইলি স্টারকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুল হকের সঙ্গে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আম খাওয়া নিয়ে প্রথমে বাচ্চাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে সেটা আওয়ামী লীগের ওই দুই গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আইয়ুব আলী মারা যায়।’

কব্জি কাটার অভিযোগ

গত ১৯ ফেব্রুয়ারী আড়াইহাজার উপজেলায় হত্যা মামলার আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই সময়ে মামলার বাদীর ছোট ভাই কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হাতের কবজি দ্বিখন্ডিত করে ফেলে তারা। এ হামলাকারীরা স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর অনুগামী হিসিবে তিনি স্বীকার করলেও এ হামলার ঘটনার দায় এড়িয়ে যান।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আহতের বোন জোছনা বেগম বাদি হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। সাদ্দাম এমপি বাবুর অনুগামী জানা গেছে। এমপি বাবুর অনুষ্ঠানে তার পাশে এই সাদ্দাম সহ তার লোকজনদের দেখা যায়। এমনকি একটি ছবিতে এমপি বাবুর সাথে কথাও বলতে দেখা যায় হামলাকারীকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে আট বছর আগে খুন হন রব মিয়া। এ ঘটনায় মামলা করেন নিহতের ছেলে মাঈনউদ্দিন। শনিবার ওই মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ইয়ানুছ আলী, রাসেল, জুয়েল, জাকির, আলী হোসেন, হালিম ও আলামিনসহ ১৫-১৬ জনের ছাত্রলীগের এক দল নেতাকর্মী বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।

এলোপাতাড়ি কোপানোর সময় বাদীর ছোট ভাই কলেজছাত্র রনির মাথায় গুরুতর আঘাত ও বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম।

ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট মানে আমার সমর্থক হবেই। যদি আমার পরিচিত কিংবা দলের লোক হয় অন্যায় করলে ওর বিরুদ্ধে মামলা সবার আগে হবে। এ বিষয়ে থানায় বলা আছে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে। অন্যায়কারীর বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান ছিল। উপজেলা, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। সেখানে সাদ্দামও উপস্থিত ছিল।’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও