News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

অনিশ্চয়তায় অর্ধশত বিএনপি নেতার কামব্যাক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম অনিশ্চয়তায় অর্ধশত বিএনপি নেতার কামব্যাক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তারা ছিলেন জেলা বিএনপির ডাকসাইটে নেতা। বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে বিগত দিনে জনপ্রতিনিধি হয়ে তারা কর্তৃত্ব ফলাতেন বিভিন্ন থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ডুবেছেন জেলা বিএনপির ৪ শীর্ষ নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র তথা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা যেমন বহিস্কার হয়েছেন তেমনি তাদের অনুগামী অর্ধশতাধিক নেতাও বহিস্কার হয়েছেন। তবে নির্বাচনে ৪ বিদ্রোহী প্রার্থীর ভরাডুবির পরে এসব বিএনপি নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার তথা তাদের বিএনপির রাজনীতিতে কামব্যাক নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬। এতে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে সাবেক যুবদল নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জু ও সোনারগাঁ) আসনে  ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক) আসনে হরিন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ৪৭৭৯ ভোট পেয়েছেন। যার মধ্যে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন জামানত হারিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের শুরুতেই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমকে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর তাদের অনুগামী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৫৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপনসহ যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলু এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আপেলকে বহিস্কার করা হয়েছে।

২৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির ২০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহসভাপতি জিএম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিকও বহিষ্কার হয়েছেন।

১ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা থানা বিএনপির ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ফতুলা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিপ্লব, মো. মুসলিম আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার খন্দকার, থানা বিএনপির সদস্য জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, আলম ও কুতুবপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক।

৮ ফেব্রুয়ারী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃতরা হলো ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সেলিম, সদস্য মাখলেকুল মান্নান পায়েল, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবুল,২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ডালিম, সহ সভাপতি সফিউর রহমান রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রহিমা আক্তার, প্রচার সম্পাদক তপু রহমান, সদস্য হানিফ শেখ,আবুল হেসেন খোকন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদ,  ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির অর্থ সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর আলম,সদস্য মাজহারুল ইসলাম,মেস্তাক আল মামুন, মিছির আলী, সোহরাব হোসেন।

এছাড়া নির্বাচনের আগের দিন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা পারভীন আক্তারকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

এদিকে বিগত দিনে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন তাদের প্রত্যাশা ছিল তাদের প্রার্থী জয়লাভ করলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তারা কেন্দ্রের কোন একটি গ্রুপকে ম্যানেজ করে আবারো ঠিক দলে ফিরে আসবেন। কিন্তু সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর ভরাডুবি হওয়ায় বহিস্কৃত এসব নেতাদের প্রত্যাশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।