১৯ মাস আগে আওয়ামীলীগ অফিস ভাঙচুর হয়ে ছিলো ছাত্র-জনতা আন্দোলনের প্রথম দিনেই। এর কয়েকদিন পরই আওয়ামীলীগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় আওয়ামীলীগের জেলা মহানগরের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা সটকে পড়েন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের পরিত্যক্ত ভবনের প্রধান ফটকে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মীরা। দুপুরে ঘটনা পর সন্ধ্যায় একজন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন বিএনপি কর্মীরা। এতে নারায়ণগঞ্জে প্রথম আওয়ামীলীগের কর্মীকে পুলিশের দিলো বিএনপি এমন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ বিরোধী আন্দোলন চলকালে বিএনপি কাউকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়া হয়নি।
সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জেও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পরদিন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নারায়ণগঞ্জে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের উপস্থিতি কেবল সাংগঠনিক বার্তা নয়; বরং জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেওয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে গণভোটে বিএনপির তৃণমূলের ‘না’ ক্যাম্পেইন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া, গণভোট ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও অবস্থান, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতের উত্থান ঠেকাতে দুই দলের নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের এ ধরনের তৎপরতার মুখে স্থানীয় ছাত্রদল বা বিএনপি-সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাধা, ভাঙচুর বা পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। বরং বিএনপির হাইকমান্ডকে নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রশ্নে তুলনামূলক কৌশলী ও নমনীয় অবস্থান নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকার গঠনের পর বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, ইসলামী দলগুলোর উত্থান বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবিলা করতে হলে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক মাঠের বাইরে ঠেলে দেওয়া কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে। ফলে মাঠপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক সহনশীলতার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দলটির নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যে শোনা যাচ্ছে, জুলাই সনদ কার্যকর হলে তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। ফলে এই ইস্যুতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে নীরব সমঝোতার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, এমন ধারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।
নির্বাচনের আগেও গণভোট ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিল। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি কোনো অবস্থান নেয়নি, তবু তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। সে সময় থেকেই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব কিছুটা কমতে শুরু করে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।’ এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহল কেবল ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবে দেখছে না; বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরুঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।


































আপনার মতামত লিখুন :