নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিএনপির তিনজন নেতাকে নিয়ে সংসদ নির্বাচনের আগে বেজায় চটেছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কুতুবপুরের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর নাম উল্লেখ করে কড়া ভাষায় বক্তব্য রাখতেন তিনি। এ তিনজন ‘সন্ত্রাসীদের কাছে টানছেন, বিভিন্ন সেক্টর দখল করছেন, ফতুল্লার ঝুট তেল সব কিছু নিয়ন্ত্রন করছেন’ সহ অভিযোগের কোন শেষ ছিল না আল আমিনের। ১২ ফেব্রæয়ারী নির্বাচনে তিনি জয়লাভের পর যেন সব কিছুই উলটপালট হয়ে গেছে। এক সময়ের শত্রæ হয়ে যাচ্ছেন পরম বন্ধু। উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসার বক্তব্য দিয়ে বিরুদ্ধচারণকারীদেরও ঠাঁই দিচ্ছেন পাশে।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আল আমিনের পাশেই দেখা গেছে সেই রিয়াদ চৌধুরীকে। অথচ ভোটের আগে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন এ চৌধুরীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
রিয়াদের সঙ্গে আল আমিনের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লা এলাকাতে রীতিমত তোলপাড় চলছে। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন তাহলে কি রিয়াদ চৌধুরী এখন সাধু হয়ে গেছেন ? নাকি আল আমিনের এমপি হওয়ার আগে দেওয়া বক্তব্য ছিল নিছক রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ? কারণ ১২ ফেব্রæয়ারীর আগে যা ছিল পরের চিত্র আরো ভয়াবহ। এখনো ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ঝুট নিয়ে মারামারি, দখলবাজী, সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের রাজস্ব কম প্রাপ্তি সহ নানা ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এসব নিয়ে কোন বক্তব্য নাই আল আমিনের।
তবে বেরিয়ে এসেছে এর পেছনের নানা গল্প। কেউ কেউ বলছেন, ফতুল্লার ডিআইটি মাঠের ইজারা নিয়েই রিয়াদ চৌধুরীর সঙ্গে এনসিপির একাধিক নেতার সমঝোতা হয়। সেখানে ১০ পার্সেন্ট কমিশনে পার্টনার করা হয় এনসিপির একজন নেতাকে। তখন থেকেই বিরোধের বরফ গলতে থাকে। পরবর্তীতে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা নিয়েও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হয়। সে সমঝোতা ধরে রাখতেই এমপি আর পূর্বের সেই বিপ্লবী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। কৌশলগত কারণে সরাসরি তিনি কিছুতেই জড়াচ্ছেন না।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এনসিপি নেতা তারিকুল মূলত এসব হাটের দেখভাল করেন। তাঁর ও সহযোগিরা মিলেই বিভিন্ন হাট ঘাটের দরপত্র ক্রয় করেন। পরে বসেন সমঝোতায়। এখানে এমপি সরাসরি কোন কিছুতে হস্তক্ষেপ না করাতে তিনি থেকে যান বিতর্কের বাইরে। তবে ঝামেলা হলে আসে কঠোর বার্তা। বক্তাবলীর খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে ঝামেলার পর তিনি ওই বার্তা দিলেও বিশৃঙ্খলা জড়ানো নেতারাও তার আশীর্বাদপুষ্ট।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সদর উপজেলার এবার ১৩টি হাটের সবগুলোর বিপরীতে দরপত্র ক্রয় করেছিলেন এনসিপির নেতারা। পরে তাদের মধ্যে সমঝোতা হওয়াতে একের বেশী কেউ দরপত্র জমা করেনি।































-20260522173818.jpg)




আপনার মতামত লিখুন :