করোনা মহামারিতেও ফোন দিয়ে বন্দর ইউএনওকে ‘বন্ধুত্বের প্রস্তাব’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:৫২ এএম, ১১ এপ্রিল ২০২০ শনিবার

করোনা মহামারিতেও ফোন দিয়ে বন্দর ইউএনওকে ‘বন্ধুত্বের প্রস্তাব’

“তিন দিন আগে দুপুরে ফোন পেলাম। বাইরের নাম্বার দেখে ভাবলাম আমার কোন আত্মীয়। নাহ্, মালয়েশিয়া প্রবাসী ফোন দিয়েই কেমন আছি কি করছি জানতে চাইলেন। ভাবলাম হয়তো তার পরিবারের খোঁজ নিতে বলবেন। তিনি বললেন, আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চান, গল্প করার জন্য ফোন দিয়েছেন। ফোন নম্বর পেয়েছেন তাঁর বন্দরের আত্মীয় থেকে। প্রথমবার যথা সম্ভব মেজাজ কন্ট্রোলে রেখে বললাম প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে বলুন। আমি ব্যস্ত। সে বলে বন্ধুত্ব করাই তাঁর প্রয়োজন। কেটে দিলাম। একটু পর আবার ফোন রিসিভ করতেই বলে ঐ মাইয়া কিয়ের দেমাগ দ্যাখায়া কাইটা দিলা। মেজাজ গেল বিগড়ায়। বললাম থাপড়ায়ে তোর চাপার দাঁত ফেলায় দিবো বলে ব্লক করলাম।”

৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সারদিন হাড়ভাঙা খাটুনির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার। এর আগেও বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল যে আইইডিসিআর হেল্পলাইনে ফোন করে অশালীন ভাষায় নারী কর্মীদের বিরক্ত করার। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই এবার সেই দুষ্কৃতকারী হীনমন্যতার হাতে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মংকর্তাকে।

পোস্টটিতে ইউএনও আরো লিখেন, “রাত ১১.৫৫ তে ফোন। জরুরী ভেবে ধরলাম। এইটা আমেরিকা থেকে। তিনিও একই কথা বললেন। ব্লক। রাত ১.১৭ মিনিটে কল। ত্রাণ চায়, পাশ থেকে কয়েকজনের হাসি। সকাল ৫.৩৭ মিনিটে কল মরিশাস থেকে। বিষয় বন্ধুত্ব। সকাল ৬.২০ মিনিটে কল। “আহা ম্যাডাম আপনার কত কষ্ট হচ্ছে, আপনি কেমন আছেন তাই ঘুম ভেঙ্গেই ফোন দিয়েছি।”

“কাল একই জায়গায় তিনবার গিয়েছি। আমার গাড়ি দেখলেই পালায়। গাড়ির পিছনে আবার আগের দৃশ্য। কাল আমার হাতেও লাঠি ছিল। মুখে ছিল না অমৃত বানী। আব্বা, আম্মা, বাবাগো, মাগো কেউ কিচ্ছু মানে না। হাসে দাঁত কেলায় কেলায়।”

“কাল যেখানে গিয়েছি সেখানেই মাইকে বলেছি কারো বাড়ির সামনে জটলা দেখলেই মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি যাতে ঢেলে দেয়। কেউ কেউ পিপিই চায় ত্রানের সাথে। অথচ আমার ডাক্তার কিংবা আমি কেউই এখনো পিপিই পড়ে বের হইনি। পিপিই তো আমার কাছে নেই। ডাক্তারকে বললে তিনি নিশ্চয়ই আমাকে দেবেন। আমরা ভাবছি ভবিষ্যতের কথা। যে লোকটি বা লোকগুলো করোনায় মারা যাবে তাদের দাফনের জন্য নিয়োজিত মানুষগুলোর জন্য পিপিই দরকার। তখন এত পিপিই কোথায় পাবো?

“আজ দুদিন ধরে আমার মেয়েটাকে কোলে নেই না। রুম আলাদা করেছি। ও দরজার ওপাশ থেকে আমার সাথে কথা বলে। দূর থেকে আদর দেয়। সন্তানের মঙ্গলের জন্য সন্তানকে দূরে রাখছি একই বাসায় থেকে। আর আপনারা সন্তানদের নিয়ে বোনের বাড়ি বেরাতে যান! কাল দুজন করোনা রোগীকে হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। একজন ছিল দুইমাসের প্রেগন্যান্ট ও কিছুতেই এ্যাম্বুলেন্সে উঠবে না। ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ফোনের মধ্যে বুঝিয়ে পাঠিয়েছি। ওর কান্না ওর শংকা  থেকে আমার মাথা ঘুরছে। আপনাদের অনুভূতিতে লাগে না? ভয়, শংকা কিছুই নেই আপনাদের? “আল্লাহ রহম করুন।”



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও