বন্দর ইউএনও’র স্ট্যাটাস : ওরা স্টাফ না ছোট ভাই আত্মার আত্মীয়

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৯ পিএম, ১৫ মে ২০২০ শুক্রবার

বন্দর ইউএনও’র স্ট্যাটাস : ওরা স্টাফ না ছোট ভাই আত্মার আত্মীয়

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার ফেসবুকে পরিষদের সহকর্মীদের নিয়ে আবেগমাখা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে দেওয়া হয়েছে চারজনের ছবি।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘এই ছবিগুলো আমার মানে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বন্দরের অফিস স্টাফদের। নামেই তারা অফিস স্টাফ, ওরা আসলে আমার স্টাফ না, ওরা কবে আমার স্টাফ থেকে ছোট ভাই, আত্মার আত্মীয় হয়ে গেছে! করোনা পরিস্থিতিতে ওরা যে অমানুষিক পরিশ্রম করছে কারও পক্ষে সেটা অনুধাবন করা সম্ভব না। কি ভাবছেন, এটা তো ওদের কাজ, এজন্য বেতন পায়। কথা হয়তো সত্যি। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে অনেক অফিসের স্টাফরা কেউ ছুটিতে কেউবা শিফটে কাজ করছে আর এদের না আছে ছুটি, না শিফট, না শুক্রবার, না শনিবার।

প্রথম ছবিটা আমিনের, এই ছেলেটা সার্বক্ষনিক আমার সাথে থাকে, সে প্রতিদিন ৩৩৩ কিংবা আমাদের কাছে খাদ্য সহায়তা পাবার জন্য যে মেসেজগুলো আসে তার কাজ হল সেখানে খাবার পৌঁছে দেওয়া। তাকে বলেছিলাম যেখানে যাবি ছবি তুলে রাখবি ও রাখেনা। সে প্রতিদিন মিনিমাম সাত থেকে আট পরিবারে খাবার দিয়ে আসে। সে বৃষ্টি হোক আর রাত হোক! মাঝেমাঝে আটা নিয়ে বের হয় বিভিন্ন জায়গায় বিতরন করে।

একদিন খুব খুশি হয়ে বলে, ‘স্যার আজকে ধন্যবাদ পাইছি, খুব ভালো লাগছে স্যার।’ ওর কথা শুনে শান্তি পাই কোন একজনের ধন্যবাদ পেয়ে ছেলেটা কত খুশি! ইশ্ যদি সবাই তাকে ধন্যবাদ দিতো!

পরের ছবিটা মাসুমের, এই ছেলেটা অফিস সামলায়, সারাদিন আমার বকা খায় তারপরও মুখে হাসি! কত রাত যে তাকে ঘুম থেকে তুলে এনে অফিসে কাজ করিয়েছি এবং করাচ্ছি। একবার রোজার প্রথমদিকে রাত একটায় একজনের দাফন কাজের জন্য পিপিই লাগবে, ছেলেটা বিনাবাক্যে দিয়ে আসলো সেদিন সে বাসায় গেছে রাত ১২ টায়। ওই যে বললাম ওদের কোন ডে/নাইট শিফট নাই। ওদের কাজ কারো চোখে পড়ে না।

তৃতীয় ছবিটা আতিকের, এই ছেলেটাও মাসুমের মত।

প্রতাপ! বন্দরের অনেকেই তাকে চেনেন। এই লোকটা দিন/রাত চব্বিশ ঘণ্টা সেবায় ব্যস্ত থাকে। সে হচ্ছে সকল কাজের কাজি। আমি যেখানে যাই সে আমাকে সব প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।

আমার ড্রাইভার আজিজ বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিক আছে তারপরও দিন রাত আমার সাথে ছুটছে, তার কোন অল্টারনেটিভ নেই। তিনি একজনই।

সবার ছবি দিতে পারিনি, এরা ছাড়াও এও সাহেব, ফাহিম, মিজান, এসিল্যান্ডের ড্রাইভার পরশ, মহসিন, পিআইও অফিসের মামুন, সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বেনজির যার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর শেষ কবে গেছে আমার মনে নাই।

এরা কিন্তু শুধু বেতনটুকুই পাচ্ছে, এছাড়া এরা কারো কাছে ধন্যবাদটুকুও পায়নি। কেউ এদের বলে না করোনা যোদ্ধা! এরা সহ এদের পরিবারের সবাই ঝুঁকিতে।

আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের উত্তম প্রতিদান দিবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তোমাদের সকলকে তোমাদের পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখুন, ভাল রাখুন। আল্লাহর রহমত তোমাদের উপর বর্ষিত হোক।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও