ফুটবলের সোনালী যুগের মহানায়ক মোনেম মুন্নার মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৭ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

ফুটবলের সোনালী যুগের মহানায়ক মোনেম মুন্নার মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

বুধবার ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী যুগের মহানায়ক, দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মোনেম মুন্নার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষ্যে মোনেম মুন্না স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ভোরে মরহুমের কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন, বাদ জোহর কাঙ্গালী ভোজ ও দোয়া মাহফিল।

উল্লেখ্য ২০০৫ সালের এইদিনে না ফেরার দেশে চলে যান ‘কিং ব্যাক’ খ্যাত এই তারকা। মোনেম মুন্না ১৯৯৯ সালের রোজায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানেই তার কিডনি সমস্যা ধরা পড়ে। পরের বছর মার্চে ব্যাঙ্গালোরে বোন শামসুন নাহার আইভীর কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়।

২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরা হয়নি এই কিংবদন্তির।

প্রসঙ্গত ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার লীগ দিয়ে ফুটবলে অভিষেক মোনেম মুন্নার। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেশাদার ফুটবলে উত্থান। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়, এরপর এক মৌসুম ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলেন।

১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। এরপর দু’একটি ম্যাচ বাদ দিলে টানা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। ১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা আবাহনীতে। সেখানেই গড়ে তোলেন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আবাহনীর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন।

১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে মুন্না আবাহনীতে খেলেছিলেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে। সে সময় প্রভাবশালী ম্যাগাজিন বিচিত্রার কাভারও হয়েছিলেন এই তারকা।

১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে মুন্না প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে মিয়ানমার থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জিতে ঘরে ফেরে লাল-সবুজরা। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যা প্রথম সাফল্য।

‘হি ওয়াজ মিসটেকেইনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ’মোনেম মুন্না সম্পর্কে এ কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টার। সেই অটো ফিস্টার, যিনি ঘানাকে বিশ্ব যুব কাপের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, সেই ফিস্টার যিনি আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ টোগোকে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে গিয়েছিলেন।

মোনেম মুন্নার জন্যে আমাদের দেশে দৃশ্যমান তেমন কিছুই করা হয়নি। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তথা ওপার বাংলাসহ দক্ষিন এশিয়ার ফুটবল অঙ্গনে মুন্নার অবদান ভোলার মত নয়। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে মুন্নার অস্তিত্ব নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। মুন্নার স্মরণে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোনেম মুন্না সেতু’ যেটা আমরা অনেকেই জানি না। আর জানবোই বা কিভাবে? অযত্মে অবহেলায় ফলক চোখ এড়িয়ে যায়।


বিভাগ : খেলাধুলা


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও