News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

শামীম ওসমানের পর মামুন মাহমুদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম শামীম ওসমানের পর মামুন মাহমুদ

নারায়ণগঞ্জের একজন আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি হলেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান যিনি সবসময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দ্বারা সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের পদলেহন করে তাদের স্বার্থ আদায়ে কাজ করে থাকেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা সুবিধাভোগী হয়েছেন। বিশেষ করে গডফাডার খ্যাত তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান দ্বারা সুবিধাভোগী হয়েছেন। সেই সাথে শামীম ওসমানের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছেন।

অনেক সময় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের তথ্য শামীম ওসমানের কাছে পাচার করেছেন। বিনিময়ে শামীম ওসমানের কাছের লোক বনে গিয়ে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা আদায় করেছেন। বিভিন্ন সভা সমাবেশে শামীম ওসমানকে হাজির করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার সেই ফেরদাউসুর রহমান পুরোপুরিভাবে বিএনপির কাছের লোক বনে গেছেন। বিএনপি নেতাদের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছেন। একই সাথে বিএনপি নেতাদেরকে সামনে রেখে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা আদায় করে যাচ্ছেন। যা বিএনপির ইমেজকে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

হেফাজত নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে তৎকালিন মহানগর হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারিরা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীদের সাথেও মাওলানা ফেরদাউসের ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময় ওসমানদের স্বার্থ আদায়ে মাওলানা ফেরদাউস হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেন।

তৎকালিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্টতাও পরিরক্ষিত হয়। ২০২১ সালের ২০ মার্চ আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান। এসময় তিনি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে তার ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো।

এর আগে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৩ মে বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সেদিন শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে এই ঘটনা প্রকাশ পেলে সারাদেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে যান ওসমান পরিবার।

ঠিক সে সময়েই তাদের পাশে দাঁড়ান নারায়ণগঞ্জ হেফাফতের নেতারা। ওই বছরের ২০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজত আয়োজিত শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে ‘নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’ ব্যানারে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জ হেফাজত নেতারা শ্যামল কান্তিকে শাস্তি দিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। সেই সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে হরতাল- অবরোধ করে দেশ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম (ক অঞ্চল) অশোক কুমার দত্তের আদালতে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এই মামলা করেছিলেন।

২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মসজিদ ভেঙে শপিংমল ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে পার্ক করার অভিযোগ এনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ। এদিন জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশের সভাপতি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান। এভাবে একের পর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফেরদাউসের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতারা ওসমানীয় হেফাজত হিসেবে আখ্যা পান।

সেই সাথে বিভিন্ন সময় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ফেরদাউস থাকতো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ নিয়ে কেউ কিছু বলতেন না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই ফেরাদউসকে নিয়ে হেফাজত ইসলামের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষোভের সূত্র ধরেই এবার তাকে মহানগর হেফাজতের একক নেতৃত্বে চাননি একটি অংশ।

অবশেষে নারায়ণগঞ্জ হেফাজত ইসলাম থেকে ‘ওসমানদের দালাল’ খ্যাত তথা ওসমানীয় হেফাজতের পতন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজত ইসলামের কোনো কমিটিতেই তাদের জায়গা দেয়া হয়নি। সে সকল নেতাসহ তাদের অনুসারীদেরও কমিটি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিগত সময়ে অনেকটা জোর করেই কমিটিতে থেকে গেলেও এবার আর কমিটিতে থাকার সুযোগ পাননি।

তবে এখনও তিনি বিএনপির নেতাদের ঘনিষ্ট হিসেবে রয়ে গেছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে পোগ্রামের আয়োজন করে সে সকল পোগ্রামে বিএনপির বড় বড় নেতাদের হাজির করেন। আর সে সকল নেতাদের সামনে রেখে নিজের স্বার্থ আদায় করে যাচ্ছেন।

এরই মধ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ম্যানেজ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাশে জামতলা এলাকায় কয়েক শতাংশ জায়গার লিজ নিয়েছেন ফেরদাউসুর রহমান। বর্তমানে জায়গার ভোগ দখলে থাকা রূপসী বাংলা নার্সারির মালিক ইমতিয়াজ ওমর সুমন জায়গা ছাড়তে না চাওয়ায় তাকে বৈষম্য বিরোধী মামলায় গ্রেফতার করানো হয়েছে। একই সাথে অন্যদেরও সড়িয়ে দেয়ার জন্য নানা রকমের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। যা জনসাধারণের মাঝে বিএনপির ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।