News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আইভী ছাড়া কেউ নাই স্লোগান দেওয়ার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:০০ পিএম আইভী ছাড়া কেউ নাই স্লোগান দেওয়ার

গ্রেপ্তার হয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠেন। জামিন পেয়ে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানান, আদালতে প্রথমবারের মত হাজিরা দিতে গিয়ে বলেন নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। সবশেষ মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মত আদালতে হাজিরা শেষে তিনি বলেছেন ‘জয়বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা। প্রায় ২ বছরের মত চুপ থেকে আবারো সাবেক মেয়র আইভীর মুখে জয় বাংলা স্লোগান ফিরে আসার পেছনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশেষ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে যখন সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো তখন ছিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পুলিশের গাড়িতে উঠার আগে তিনি জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আইভী নিজ বাড়িতেই ছিলেন বিনা বাধায়। গ্রেপ্তারের পর জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে তিনি প্রায় ১৩ মাস কারাভোগ করেছিলেন, ১০টির অধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। জামিন পেয়ে বাসায় ফিরে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে অনেকই ধরে নিয়ে ছিলেন সরকারের সাথে গোপন সমঝোতার কারণেই হয়তো আইভির জামিন হয়েছে।

প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে জামিন আবেদন করতে গিয়ে সেদিনই আইভী ছিলেন বেশ নিশ্চুপ। শুধু নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছিলেন নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধীন। কিন্তু ১৩ অক্টোবর ছিলো সম্পূর্ন ভিন্ন চিত্র এদিন তিনি আদালত প্রাঙ্গণে বুক চিতিয়ে বললেন জয়বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা।

তবে কি সাবেক মেয়র আইভিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন তার বক্তব্যে এটিই আজকে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিলেন।

উল্লেখ্য ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের গাড়িতে উঠার আগে জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভি।

এরপর প্রায় ১৩ মাস কারাবাসের পর আইনি প্রক্রিয়া ও জামিনের দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় উচ্চ ও নিম্ন আদালত থেকে চলতি বছরের ৩রা জুন রাতে জামিন লাভ করেন। ওই দিন বাসায় ফিরে সরকারের প্রশংসা করে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছিলেন আইভি।

পরবর্তীতে ২৮ জুলাই প্রথম বারের মত নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি।

হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের আইভী বলেন, ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। আমি সারা জীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। হত্যা, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আর আজ আমিই অপরাধী! যা-ই হোক, এর বিচার আল্লাহর কাছে আছে। আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছে, তারা দেখবে।’

এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে তিনি গাড়িতে উঠে দেওভোগের নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা হন।

আইভীর আদালতে উপস্থিতিকে ঘিরে এদিন আদালত প্রাঙ্গণে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর সকালে আইভী স্বশরীরে নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদের আদালতে হাজির হন।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে গুলিতে রিকশাচালক তুহিন নিহত হন। নিহত তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আইভী হলেন ১১ নাম্বার আসামী।

শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন আইভী। তখন তিনি স্লোগান ধরেন। বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। তখন নেতাকর্মীরাও জয় বাংলা স্লোগান ধরেন।

আইভীর আইনজীবি আওলাদ হোসেন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের তুহিন হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি এবং মেয়র আইভীর পুনর্জামিনের দিন ধার্য ছিলো। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিস্ফোরক আইনে প্রতিবেদন দাখিল করলেও পিপি বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না রাজী দিয়েছেন। আমরা বলেছি এটা আইনগত হয়নি। আমরা আদালতে পুর্নজামিনের আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আরও কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন বন্দী থাকার পর গত ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।