News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

গিয়াস-শাহআলম বিএনপিতে ফিরছেন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম গিয়াস-শাহআলম বিএনপিতে ফিরছেন

আবারও নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ফিরছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মো. শাহ আলম। তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং শাহ আলম ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাদের দুইজনেরই যে কোনো সময় বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হতে পারে। একই সাথে তাদের হাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় বিএনপি কিছুদিনের মধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে নজর দিবে। যে সকল কমিটি অনেকদিন হয়ে গেছে কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে প্রাথমিকভাবে সে সকল কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার চিন্তা করছে। সেই সাথে বর্তমানে এসকল কমিটিতে যারা আছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। যার কারণে তাদের অনেক ব্যস্ততা বেড়েছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের নজর দেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে পদে থাকা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত কর্র্মকান্ডে জড়িয়ে গেছেন। এসকল বিষয়কে কেন্দ্র করে আগের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হবে। রাজধানী ঢাকা সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চলমান এই কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে, সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে, যুগ্ম আহŸায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নানা বিতর্কিত কর্মকাÐে জড়িয়ে গেছেন। যা বিএনপির ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

এসকল কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব প্রদান এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। সেই সাথে সেকল বিষয় বিবেচনা করেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একসময়ের প্রভাবশালী দুই নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মো. শাহ আলমকে দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া রয়েছে। কারণ তারা দুইজনেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন।

এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি শাহ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র তৎকালিন যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিলো। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিলো দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ সহ বিএনপির সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও তাদের জোট যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেসব আসনে দলের কোনো নেতা যেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেন; এমন স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করেই সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।  

সে সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহŸায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, দলীয়  শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনী তৎপরতায় জড়ালে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে; এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করা ছিল। এরপরও দুই নেতা সিদ্ধান্ত অমান্য করায় কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।

তার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে শুরু থেকেই আলোচনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম। যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় অনেক আগে থেকেই জানান দিয়ে আসছিলেন। সেই সাথে ভোটের মাঠেও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

ফলে তিনি স্বতন্ত্রভাবেই ভোটের মাঠে প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নেমেছিলেন। আর এই প্রতিদ্ব›দ্বীতা করতে গিয়ে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার হতে হয়েছে। কিন্তু বহিস্কারের পরও মোহাম্মদ আলম নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে আসেননি। বরং ভোটের মাঠে বেশ শক্তভাবেই নিজকে জানান দিয়ে আসছেন। তবে এই বহিস্কার কিংবা বিএনপিকে নিয়ে কখনও কোনো নেতিবাচক কথা বলেননি। বরং বিএনপির আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সহ তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। তবে যোগ্য প্রার্থী না হওয়ায় এই আসনটিকে হারাতে হয় বিএনপির।

একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন স্বতন্ত্র প্রতীকে লড়াইয়ে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তবে দুইটি আসনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনকেই তিনি বেশি জোর দিয়েছিলেন। সেই সাথে তিনি সেখানেই বেশ আলোচনায় ছিলেন। ফলে নির্বাচনে তাকে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করতে গিয়ে বিএনপি থেকে বহিস্কার হতে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আহŸায়ক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে আহŸায়ক হিসেবে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহŸায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, শরিফ আহমেদ টুটুল ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া দেয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে দেড় মাসের মাথায় সেই কমিটি স¤প্রসারণ করেছিলো বিএনপি।