News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

গিয়াস ফেরার খবরে চাঙ্গা অনুসারী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম গিয়াস ফেরার খবরে চাঙ্গা অনুসারী

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ফের ফিরছেন জেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এমন খবরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন তাঁর অনুসারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরেও গিয়াস উদ্দিনের দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা কথাবার্তা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় গত ৩০ ডিসেম্বর দল থেকে বহিষ্কৃত হন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ দুটি আসনেই নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনোটিতেই জয় পাননি তিনি। এরপর থেকে গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর অনুসারীরা অনেকটাই রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েন। তাঁর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করায় বহিষ্কৃত হন দুই ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল ও কায়সার রিফাতও। এতে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

তবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আলোচনা সামনে আসায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন গিয়াস অনুসারীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দলের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের ফিরিয়ে এনে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হলে গিয়াস উদ্দিনও দলে ফেরার সুযোগ পাবেন। যেকোনো সময় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এমনটাই শোনা গেছে একাধিক সূত্রে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রæয়ারি ঘোষিত পাঁচ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নানা রাজনৈতিক প্রতিক‚লতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাÐে সক্রিয় থাকা এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বিএনপির একটি অংশে তাঁর প্রভাব রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আহŸায়ক কমিটির মাধ্যমে চলা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমান আহŸায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। যুগ্ম আহŸায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং আরেক যুগ্ম আহŸায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ভ‚ঁইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁদের রাজনৈতিক ব্যস্ততা বেড়েছে। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাÐে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়েও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপিকে পুনর্গঠন করে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন গিয়াস উদ্দিন। ওই সময়ে জেলা বিএনপির আহŸায়ক ও পরে সভাপতির দায়িত্বে থেকে দলীয় কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধও ছিল আলোচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে শামীম ওসমান তাঁকে নিয়ে কথা বলতেন। মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিক‚লতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাÐে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের মতে, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ভ‚মিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে। ফলে তাঁর দলে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সমীকরণের জন্যও তা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের অপেক্ষা দলীয় সিদ্ধান্তের। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া হলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কবে রূপ নেবে কি তা নির্ভর করছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।