News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রমিক থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী, মৃত্যুতে এলাকায় স্বস্তি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম শ্রমিক থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী, মৃত্যুতে এলাকায় স্বস্তি

ডাকাত সর্দার সাহেব আলী- এটি শুধু একটি পরিচিতিই নয়, নামটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জনসাধারণের জন্য ছিলএক মূর্তমান আতঙ্ক। আকারে ছোটখাটো আর শ্যামলা বর্ণের এই মানুষটি এতোটাই দুর্ধর্ষ ছিল যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তার আক্রমনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ লম্বা একটা সময় ধরে তার অত্যাচারে মানুষেরা অতিষ্ঠ থাকলেও সেই সন্ত্রাসীর অপরাধ জগতের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন তারই সহযোগীরা।

যেকোনো মৃত্যু প্রত্যেকের জন্য দুঃখের ঘটনা হলেও এই সন্ত্রাসীর হত্যাকান্ডে তার এলাকার মানুষেরা আনন্দিত হতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তারা দম ফিরে পেয়েছেন। এবং এরপর থেকে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন।

নিহত সাহেব আলী নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এক বাসায় তার পক্ষে বেশিদিন বাস করা সম্ভবত হয়নি। ফলে বিভিন্ন বাসা পরিবর্তন করে সর্বশেষ স্ত্রী কল্পনা এবং সন্তান সজীবকে নিয়ে হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

অপরদিকে হত্যা সংঘটিত করা মো. রনি হোসেনের পিতার নাম বিল্লাল হোসেন এবং মো. আসলাম হোসেনের পিতার নাম মো. মোখলেছুর রহমান। তারা উভয়ে আটি ওয়াপদা কলোনিতে বাস করতেন বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাহেব আলীর সহযোগী মো. রনি হোসেন এবং রঙমিস্ত্রি আসলাম হোসেন সংঘবদ্ধভাবে সন্ধ্যা ৬টার অল্প কিছুক্ষণ পূর্বে বউবাজার এলাকায় সাহেব আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সরাসরি গুলি করেন। ঘটনার সময়ে হত্যাকারীদের বর্ষিত গুলি তার মাথায় এবং বুকে গিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে স্থানীয়রা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত সাহেব আলী সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠার পূর্বে চুনা কারখানার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। শ্রমিক থাকা অবস্থায় ধীরে ধীরে নিজের একটি গ্রুপ তৈরি করি গোটা এলাকার ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সর্ব অপরাধ সংঘটিত হতো। ডাকাতি, নারী ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক কারবারের মাধ্যমে স্থানীয়দের অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। তার গ্রুপ এতোটাই ভয়ংকর ছিল যে দিবারাত্রি মানুষকে গুলি করা কিংবা কুপিয়ে জখম করা তাদের কাছে তুচ্ছ ঘটনা ছিল।

মোহর আলী নামের আজিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একটা জানোয়ারের মৃত্যু হইছে এবং আমরা মুক্ত হইছি। এতটাই ভয়ংকর ছিল যে আমরা ভয়ে ভয়ে জীবনযাপন করছি। এই কুলাঙ্গার মনোয়ারা জুট মিলটার সকল মালামাল লুটপাট করে মিলটাকে ধ্বংস করে ফেলেছেন।

আজিপুর এলাকার যুবক হামজা বলেন, সাহেব আলীর মৃত্যুর পর এলাকার মানুষ শান্তিতে নিঃস্বাস নিতে পারছেন। আমরা যতটুকু জানি যে সে একসময় ওয়াপদা কলোনির চুনা কারখানার শ্রমিক ছিল। এরপর আস্তে আস্তে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠেন। পুরা ওয়ার্ডে তার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছিলো। তার স্ত্রীর সংখ্যা যতটুকু ৭-৮ জন আছেন।

সাহেব আলী ও তার সহযোগীদের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর রাতে ওয়াপদা কলোনি বউবাজারে তৎকালীন র‌্যাবের সদস্যরা সাদা পোশাকে তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযানে গিয়ে গ্রেফাতারে সফল হলেও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা র‌্যাব কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়ে তাকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওইদিনের হামলা তিনজন র‌্যাব সদস্যসহ চারজন গুরুতর আহত হন। এরপর ১৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা সাহেব আলীকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করলে সন্ত্রাসীরা থানার এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। এছাড়া এই দুই ঘটনা ছাড়াও ইতোপূর্বে তারা প্রশাসনের উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ২০ টার মতো মামলা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তার সহযোগী রনি এবং আসলামের দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছেন। তার মাথা ও পেট বরাবর গুলি করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু ঘটে।এ ঘটনায় এখনো মামলা রুজু হয়নি আর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এখনো ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফাতারের চেষ্টা করছি।