News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

বন্দর উপজেলা নির্বাচনের ঢামাঢোল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম বন্দর উপজেলা নির্বাচনের ঢামাঢোল

বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে টানা দুই বার বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তিতে ২০১৯ সালে আওয়ামীলীগ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ফের ৮ বছরের মাথায় আবারো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য বিএনপিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল দুই দফায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ। ২০২৪ সালের মে মাসে নির্বাচনে সাবেক দুই চেয়ারম্যান এম এ রশিদ ও আতাউর রহমান মুকুলকে হারিয়ে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ হোসেন। তিনি নির্বাচিত হলেও মাত্র দুই মাসের দায়িত্ব পালন করতে পারেন দায়িত্ব। এর মধ্যে তিনি কয়েক দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন।

এবার চব্বিশের পর নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করতে মরিয়া হয়ে উঠে প্রত্যাশিতরা। এরপরও আবারো চেয়ারম্যান হওয়া দৌড়ে আলোচনা রয়েছেন মাকসুদ হোসেন। তিনি এবার এমপি নির্বাচন করে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। আবারো ক্ষমতা লোভে তিনি বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।

নতুন করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়া গুঞ্জনে শুরু হয়েছে নাটকীয় মোড়। বন্দর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ উপজেলা পরিষদের প্রার্থী হওয়ার জন্য তার অনুসারীদের চাপে পড়েন। কিন্তু তিনি উপজেলা নির্বাচনের পূর্বে পূর্বাভাস অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নেই। যার কারণে কোন সাবেক চেয়ারম্যান ও শক্ত প্রার্থী অংশগ্রহণ করে ভোটের হিসান নিকেশ উল্টে যেতে পারে। যেই কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। ভোট যুদ্ধে বাবা আবুল কালামকে জয়ী করিয়ে প্রশংসা রয়েছেন আশা। তিনিও বাবা মত দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে বন্দর উপজেলা মানুষের মধ্যে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে চারবারের এমপি আবুল কালামের ক্লিন ইমেজের কারণে বন্দর উপজেলা বার বার তাকে নির্বাচিত করে জনগণ। এমনকি বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুল। তিনি বিএনপির রাজনীতি সক্রিয় থাকলেও আবুল কালামের বিরোধীতায় পিছিয়ে রয়েছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে অন্ত:দ্ব›দ্ব কারণে মাকসুদ হোসেন নির্বাচিত হয়ে যান। এর পিছনে বিএনপি তৎকালীন নেতা-কর্মী ও ভোট ব্যাংকে হিসেব নিকেশ ছিলো। এবার যেহেুত আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা নেই, সেই কারণে মাকসুদ হোসেন পিছিয়ে রয়েছে ভোট ব্যাংকে। তৎকালীণ এমপি সেলিম ওসমানের বিরোধীতা করায় তার দলের ভোট পড়ে মাকসুদ হোসেনের ঘরে।

বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য একমাত্র আবুল কাউসার আশাকে চাইবেন নেতাকর্মীরা এমন বার্তা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এখনো আশা নির্বাচন নিয়ে মুখ না খুললেও বাবা আবুল কালাম ও কেন্দ্রীয় বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তের দিক তাকিয়ে রয়েছেন।