নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর স্বামী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১টায় ভূইগড় কবরস্থান সড়কের দেলোয়ারের তৃতীয় তলা বাড়ীর দ্ধিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় শাড়ী পেচানো নিহত শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের শয়ন কক্ষের বিছানার উপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। যাতে লেখা ছিলো স্বামীর যন্ত্রণায় সে আত্নহত্যা করেছে।
সেই সাথে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে স্বামী প্রায় সময় কটূক্তি বা মন্তব্য করতো বলে চিরকুটে উল্লেখ ছিলো।
ফারজানা ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুল্লি বাড়ীর রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
নিহত ফারজানা ইসলামের বড় ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মত্তিক্রমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নিহতের স্বামী বেকার ছিলো।তখন তারাই সংসারের ব্যায় বহন করতো। দেড় বছর পূর্বে নাজমুল ইসলাম চাকুরি পায়। মুন্সিগঞ্জ জেলায় চাকরি নিয়ে সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। তারপর থেকেই নানা ইস্যুতে তার বোনকে মানসীক এবং শারিরীকভাবে নির্যাতন করতো।দুই মাস পূর্বে সেখান থেকে এসি,আই,কোম্পানীতে চাকুরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসে। রাত ১১ টায় সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতের বিছানার উপর একটি চিরকুট উদ্ধার করে যাতে লেখা ছিলো পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যা করেছে। নিহতের স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারনা নিহত ফারজানা ইসলাম আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আটককৃত মো. নাজমুল আলম কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদার বাড়ীর খোরশেদ আলমের পুত্র।নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।





































আপনার মতামত লিখুন :