নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেত্রী হলেন সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর তার সেই প্রভাবশালী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন আদালতপাড়ায় জয়বাংলা স্লোগানের মধ্য দিয়ে। কিছুদিন পূর্বে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানানোয় ঘটনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাকে নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হলেও এবার তার জয়বাংলা স্লোগানে যেন সকল সমালোচনা কেটে গেছে।
একই সাথে তার এই স্লোগান আওয়ামী লীগের নেতার্মীদের জাগরণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তার অনুসারীদের মাঝে অনেক বেশি জাগরণ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতারা পলাতক থাকলেও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজ বাড়িতে অবস্থান করে আদালতে এসে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া অনেক বেশি সাহসিকতারই পরিচয় বহন করে। একই সাথে আইভী একজন সাহসী এবং হার না মানা নেত্রী সেটারই পরিচয় দিয়েছেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে স্লোগান দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ১৩ অক্টোবর সকালে সেলিনা হায়াৎ আইভী স্বশরীরে নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদের আদালতে হাজির হন।
এদিন শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন আইভী। তখন তিনি স্লোগান ধরেন। বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। তখন নেতাকর্মীরাও জয় বাংলা স্লোগান ধরেন। আর তার এই ‘জয় বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না’ আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এই বক্তব্য নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতে আইভীর এই উপস্থিতি ও বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে নানা আলোচনা চলছে। আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও আইভী নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি। কারামুক্তির পরও তাকে আগের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা যায়নি। ফলে তার পরবর্তী প্রদক্ষেপ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
সেই নীরবতার মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে তার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বক্তব্যটি সরাসরি সরকারকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিচিত স্লোগান ঘিরে যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আইভীর এই অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজ বাড়িতে ফিরে সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ১২টি মামলায় ৩৯১ দিন কারাভোগের পর গত ৩ জুন রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নিজ বাসা ‘চুনকা কুটিরে’ ফেরেন।
বাড়িতে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমান সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁরা আমার জন্য দোয়া করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা পৃকাশ করছি। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি চাই মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মানুষ আছেন, আশা করি সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।’
সরকার ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিলো। বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে আদালপাড়ায় জয়বাংলা স্লোগান আগের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে কাটিয়ে তুলেছেন।
এদিকে মুক্তি পেয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ বাড়িতে ভালোই ছিলেন। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে গাড়িতে ওঠার আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাকে নানাভাবে হুঁশিয়ারী দিয়েছিলো। এ নিয়ে তাদের অনুসারীদের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও এখন আর সেই আতঙ্ক নেই তাদের মাঝে। তারা নতুন করে জেগে উঠেছেন।































আপনার মতামত লিখুন :