চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে ঢাকায় ও সাবেক মেয়র আইভী দেওভোগ বাড়িতে গ্রেপ্তার ছাড়া মাঠ পর্যায়ে নেতারা এখনো আত্মগোপনে রয়েছে।
দুই বছর পর আইভীর একটি স্লোগান গিয়ে আবারো উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা এখন আওয়ামীলীগের নেতাদের ছেড়ে তাদের আইনজীবীদের গ্রেপ্তার করায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের এক সময় পাশে থাকায় এখন গ্রেপ্তার হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল।
নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নেতারা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন নেতা পাশাপাশি কর্মীরাও। তবে এসব নেতাকর্মীর মধ্যে কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে সরব রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর একচ্ছত্র দাপটে গত পনেরো বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠেই দাঁড়াতে পারেননি। বিচ্ছিন্ন কিছু দলীয় কর্মসূচি ছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে সরব ছিল বিএনপি।
বিগত সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে দেখা যাচ্ছে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠ দখলে নিয়েছে বিএনপি।
চব্বিশের ৫ আগষ্টের আগে পরেই গা-ঢাকা দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা মহানগর উপজেলা থানা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তৃণমূলের অনেকেই এত দিন নিজ নিজ বাড়িতে ছিলেন। এসব কর্মীও এখন মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীর একাংশ ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে সরব রয়েছেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা ও আদালতে শতাধিক মামলা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী গাজী ও সাবেক মেয়র আইভী ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নাশকতাসহ একাধিক মামলা দায়েরের পর থেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা আছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ কায়সার হাসানাত ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু শেখ হাসিনার পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মগোপনে চলে যান।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সহ শীর্ষ নেতারা এখনো গা-ঢাকা দিয়েছে। তারা দেশের মাটিতে থাকলেও এখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নাগালে বাহিরে রয়েছে।
দুই বছর পর তাদেরকে এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা মিলেছে। তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা এখনো দেশের বাইরে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শুধু মূল দল নয়, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও লাপাত্তা। যারা এলাকায় অবস্থান করছেন, তারাও ‘অজ্ঞাতপরিচয় আসামি’ আতঙ্কে রয়েছেন। যে কাউকে যে কোনো সময় আটক করে যে কোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
অন্যদিকে আত্মগোপনে থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনকরা হয়েছে। এবার জেলা মহানগর যুবলীগের কমিটি নিয়ে আলাপচারিতা সৃষ্টি হয়েছে ফেসবুকে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর গ্রেপ্তার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়াউল হক কাজল দাবী করেছেন তিনি বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দুঃসময়ে ছিলেন। তাদের জন্য তিনি আদালতেও দাঁড়িয়েছেন।
১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির করা হয় কাজল সহ গ্রেপ্তার তিনজনকে। অপর দুইজন কাজলের ভাই আমিনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান তুষার। এরই মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা কাজল ও তুষারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ ও আমিনুলের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আদালতে রিমান্ড শুনানীর সময়ে তোলার আগে গারদখানা থেকে নেওয়ার সময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে কাজল বলেন, ‘আমি জিয়াউল ইসলাম কাজল সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর দুঃসময়ে ছিলেন। তারা যখন গ্রেপ্তার হয় আমি সিনিয়রদের সঙ্গে আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম। আজকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমি স্লোগান দেই নাই। আইনজীবীদের কোন দল নাই।’
তুহিন হত্যা মামলায় ১৩ অক্টোবর নিম্ন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও সাবেক মেয়র আইভীর পুর্নজামিনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে তার আইনজীবী পুর্নজামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন আইভী। তখন তিনি স্লোগান ধরেন। বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। এ ঘটনার পর আইভীর আইনজীবী সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট বিবৃতিতে বলেছেন, আইভীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কোনো অপরাধ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে কাজল ও মুন্নার সংশ্লিষ্টতা নেই। তাঁদের অন্য একটি সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে কাজল ও মুন্না সক্রিয় ভ‚মিকা রেখেছিলেন। অথচ সরকার পরিবর্তনের পরও বিচারব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সংস্কার হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দুইদিন আগে ৩ আগস্ট বিকেলে চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকার সাংস্কৃতিক জোট ‘দ্রোহের গান ও কবিতা’ কর্মসূচী পালন করে। সেখানে কাজলকে সক্রিয় দেখা গেছে।
























-20261014113949.jpg)










আপনার মতামত লিখুন :