News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করে হালিম আজাদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করে হালিম আজাদ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে একছত্র আধিপত্য বিস্তারের ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ বেপোরোয়া হয়ে পড়েছেন। তিনি কাউকেই মানতে চাচ্ছেন না। হালিম আজাদ নিজের সুবিধার্তে যাকে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বানানো এবং বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ বানানোর প্রচেষ্টায় রয়েছেন। এর মাধ্যমে এলাকায় তিনি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চান।

সম্পতি হালিম আজাদ বক্তাবলী রাজাপুর এলাকার আব্দুলকে বিএনপি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় রয়েছেন। একই সাথে অন্যান্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপি বানিয়ে তার বলয়ে ভিড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যাদেরকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে দেখা যেতো। একই সাথে তারা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সাথে থাকতেন। বর্তমানে তাদেরকেই শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন হালিম আজাদ।

বিপরীতে স্বার্থে আঘাত লাগায় হালিম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করে আসা কাদির সিপাহীকে আওয়ামী লীগ বানানোর পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। তাকে বিভিন্নভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ  নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইটভাটায় চলে নিরব চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্য। বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আমলে এসব ইটভাটায় নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ওই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।

স¤প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে এসে এসব ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে বক্তাবলী খেয়াঘাটে খিচুড়ি রান্না করে দলবল নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে সামেদ আলীর এলাকা আকবর নগরে মহড়া দিতে যান হালিম আজাদ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পক্ষ আরেকপক্ষের উপর হামলা করেন। এসময় সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় বক্তাবলী বাজারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে হালিম আজাদের বিরুদ্ধে।

জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবায়ের সরদার জানান, বক্তাবলী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিকেলে জেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ একটি ঘরোয়া বৈঠকের জন্য বক্তাবলী প্রবেশ করে। এসময় ঘাট থেকে নামার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জানায়, কোনভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাঁটা থামছে না। পুলিশ প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ শুনে দ্রæত এনসিপির নেতাকর্মীরা বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন। তবে ফাঁড়ির বাইরেই অবস্থান করছিলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের ভাই ইয়াসিন আরাফাত। তিনি এনসিপির নেতাকর্মীদের শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, ফাঁড়িতে যদি বালু নিয়ে কোন কথা হয় তাহলে তৌহিদের খবর আছে। বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন তারা। সন্ধ্যার পর বক্তাবলী বাজারে তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের উপর হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগী তৌহিদের দাবী, হালিম আজাদের নেতৃত্বে ইয়াসিন আরাফাত, নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়ের সহ ১৫/২০ জন আমার উপর আক্রমন করে। চাপাতি, এসএস পাইপ দিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে। আমার সাথে থাকা কয়েকজন ছোটভাইকেও তারা মারধর করে। পরে আশেপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দায়ের হওয়া মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামীরা হলেন, হালিম আজাদ, ইয়াসিন আরাফাত, নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়ের, হাসান শরীফ, শরীফ, শুভ, রানা, ইমরান, লিটন, শরিয়ত উল্লাহ, বিজয়, রাসেল প্রধান, মাসুম ওরফে মরা মাসুম। এছাড়া আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় পরে হালিম সহ অন্যরা জামিন নেন।

মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাটি কেটে তা সরবরাহ করা হয় ইটভাটায়। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয় ট্রলার। প্রতি ট্রলার মাটি ৩ হাজার টাকা। দৈনিক দেড়শ থেকে দুইশ ট্রলার মাটি বিক্রি হয়। অর্থ্যাৎ দৈনিক সাড়ে ৪ লাখ টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে। মাসে এর পরিমান দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কিংবা আরও বেশী। অভিযোগ আছে অবৈধ মাটি উত্তোলনের এই ব্যবসায় মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ কেউ। যেই কারনে ভুক্তভোগীরা নানান স্থানে দৌড়েও সমাধান পান না।

কেবল মাটি কাটা সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে চলেছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে আলোচিত হয়েছেন হালিম আজাদ। ৫ আগস্টের পর বক্তাবলীর মধ্যপাড়ায় নিজের বাড়ি সংস্কার করে আলিশান বানিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুরু করেছেন দোতালা ভবন নির্মানের কাজ। পুরো মধ্যপাড়া এলাকায় তার বিষয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে ভয়ে তার বাড়ি চিনিয়ে দিলেও অনুরোধ করেন, তাদের নাম যেন প্রকাশ না করা হয়।